আন্তর্জাতিক ডেস্ক : শনিবার সিঙ্গাপুরে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট মা ইং জেও’র সঙ্গে এক ঐতিহাসিক বৈঠকে অংশ নিতে যাচ্ছেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ১৯৪৯ সালের গৃহযুদ্ধের পর প্রতিদ্বন্দ্বী দুই নেতাদের এটিই প্রথম বৈঠক।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র চার্লস চেন মঙ্গলবার ওই বৈঠক সম্পর্কে বলেন, দুই নেতার আলোচনায় তাইওয়ান প্রণালীর সমস্যা গুরুত্ব পাবে। এছাড়া তারা দুই দেশের জলসীমা নিয়েও কথা বলবেন। সিঙ্গাপুর বৈঠকে দুই প্রেসিডেন্ট ‘তাইওয়ান প্রণালীতে শান্তি’ প্রতিষ্ঠা নিয়ে আলোচনা করবেন বলেও জানা গেছে।
ওই মুখপাত্র আরো জানিয়েছেন, এই আলোচনার একমাত্র উদ্দেশ্য হল তাইওয়ান প্রণালী জুড়ে শান্তি স্থাপন করা। তবে তাদের মধ্যে এ নিয়ে কোনো চুক্তি হবে না এবং বৈঠক শেষে কোনো বিবৃতিও দেওয়া হবে না।
১৯৪৯ সালের গৃহযদ্ধে চীন থেকে আলাদা হয়ে যায় তাইওয়ান। তখন থেকেই দু দেশের শত্রুতার শুরু। চীন বরাবরই দেশটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে থাকে। তবে ২০০৮ সালে প্রেসিডেন্ট মা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে দু দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হতে শুরু করেছে। ২০০৯ সালে প্রায় ৬০ বছর পর দুই রাষ্ট্রনায়ক বার্তা বিনিময় করেন।
চীনের মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকেও শনিবারের বৈঠক নিশ্চিত করা হয়েছে বলে সিনহুয়া জানিয়েছে। এ সম্পর্কে চীনের তাইওয়ান বিষয়ক কার্যালয়ের প্রধান জ্যাং ঝিজুন বলেছেন,‘বৈঠকে দুই নেতা চীন ও তাউয়াওয়ানে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে সরাসরি মত বিনিময় করবেন।’
সিনহুয়া আরো জানিয়েছে, বৈঠকে প্রোটোকল জটিলতা এড়াতে দুই নেতা পরস্পরকে ‘মিস্টার’ বলে সম্বোধন করবেন।
এদিকে বুধবার আসন্ন বৈঠক নিয়ে পার্লামেন্টে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখছেন তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী মাও চি কু। শুরু থেকেই চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ভালো চোখে দেখছে না বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক প্রোগ্রেস পার্টি। তারা শনিবারের বৈঠকেরও সমালোচনা করেছে। বুধবার সকালে পুলিশের উপস্থিতিতেই পার্লামেন্ট ভবনের বাইরে বিক্ষোভ করেছে অর্ধশত নেতা কর্মী।
তবে চীন-তাইওয়ান বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। মুখপাত্র জোস আর্নেস্ট এক বিবৃতিতে বলেছেন,‘তাইওয়ান প্রণালীতে উত্তজনা কমিয়ে সম্পর্ক উন্নত করার উভয় পক্ষ যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে আমরা তাকে স্বাগত জানাই। তবে ওই বৈঠকের ফলাফল কি হয় সেটাই আমাদের দেখার বিষয়।

