বিনোদন ডেস্ক : নির্মাতা প্রসূন রহমান ‘সুতপার ঠিকানা’ চলচ্চিত্রে নারীর সংগ্রামময় জীবন তুলে ধরেছিলেন। সুতপা চরিত্রটি পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছিলেন অপর্ণা ঘোষ। এবার তিনি হলেন শিউলি। জয়ন্ত রোজারিওয়র নির্মাণে ‘ঝংকার’ নাটকে অপর্ণাকে দেখা যাবে নারী জীবনের প্রতিভূ হিসেবে।
শিউলির গল্পটা এমন, সে নাচের মেয়ে। নূপুরের ঝুমুর ঝুমুর তালে মাতিয়ে রাখে চারপাশ। নূপুরের মতোই তার জীবনটা বাঁধন ছেঁড়া। ডানা মেলা গাঙচিলের মতো। উড়ে বেড়ায় মনের আকাশে। হঠাৎ একসময় পাল্টে গেল জীবনটা। বিয়ে হলো মাসুদ নামে এক তরুণের সঙ্গে। তবে শ্বশুরবাড়ির লোকজন তার নাচকে ভালো চোখে দেখেনি, বন্ধ করে দেয়ে। বিয়ের আগে কথা ছিল শিউলি পড়াশোনা চালিয়ে যাবে, তাও বন্ধ। চারিদিক অক্টোপাসের মতো চেপে ধরে নিষেধের শেকল। যৌতুকের জন্যও রোজ রোজ তাকে খোঁটা দেয়া হয়। এতো বোঝা মাথায় নিয়ে শিউলি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
পরে স্বামী মাসুদ ও শ্বাশুড়ি বোধোদয় হয়। নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। শিউলির মুখে হাসি ফুটানোর চেষ্টা করে তারা। এমন গল্পেই নির্মিত হয়েছে একক নাটক ‘ঝংকার’। শিউলীর চরিত্রে অপর্ণা ছাড়াও অন্যান্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সজীব, আফরোজা ও অশোক ব্যাপারী।
নির্মাতা জয়ন্ত রোজারিও জানালেন, ‘নাটকে বেশি সবচেয়ে গুরুত্ব পেয়েছে, নারী নির্যাতন শুধু শারীরিক নয়-মানসিকও। শারীরিক নির্যাতনের চেয়ে মানসিক নির্যাতন কোন অংশে কম নয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানসিক নির্যাতনকে তেমন গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয় না। আর যৌতুকের মতো ঘৃণ্য একটি প্রথার জন্য বহু নারীর সাথে দুর্ব্যবহার করা হয়। ‘ঝংকার’ নিপীড়িত নারীর কণ্ঠস্বর। নারীকে দিতে হবে তার উপযুক্ত মর্যাদা, সম্মান ও অধিকার। তবেই একটি সুস্থ জাতি তৈরি করা সম্ভব। সমাজের সকল স্তরে এই মেসেজ পৌঁছে দেওয়াই ‘ঝংকার’ নাটকের মূল উদ্দেশ্য।’
নাটকটি প্রচারিত হবে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিটিটে এনটিভিতে।

