গাজীপুর প্রতিনিধি : নাশকতা প্রতিরোধে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নিরাপত্তায় পুলিশের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় সাধানসহ বাড়ানো হয়েছে র্যাব-পুলিশের টহল। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি করে কারাগারে প্রবেশ করতে দিচ্ছেন নিরাপত্তারক্ষীরা।
কারা সূত্র জানায়, সম্প্রতি ব্লগার, লেখক ও প্রকাশক হত্যাসহ দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নাশকতা প্রতিরোধে কারাগারে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারা সদর দপ্তরের পাঠানো এক সতর্ক বার্তায় কারাগারগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করতে নির্দেশনা দেয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে কারাগারের মূল ফটক ও আশেপাশে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়।
আগত দর্শনার্থীদের তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ এবং মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র ও ব্যাগ তল্লাশি করছেন নিরাপত্তারক্ষীরা। এছাড়াও চাওয়া হয়েছে বাড়তি পুলিশ ও র্যাবের সহযোগিতা।
র্যাব-১ এর কোম্পানি কমান্ডার মাহিউল আলম জানান, নাশকতা প্রতিরোধে সর্তকতার অংশ হিসেবে কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কাশিমপুর কারাগারে যুদ্ধাপরাধীসহ চিহ্নিত অনেক আসামি রয়েছেন। হামলা করে তাদের ছিনিয়ে নেয়া হতে পারে এমন আশঙ্কায় আগে থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
কোনাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মোবারক হোসেন জানান, কারাগার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। তাই কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পুলিশ টহল দিচ্ছে। জানমালের নিরাপত্তায় টহল আরও জোরদার করা হবে।
কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের পার্ট-২ এর জেল সুপার প্রশান্ত কুমার জানান, নাশকতা প্রতিরোধে কেন্দ্রীয় নিদের্শনার প্রেক্ষিতে কারাগারে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের দেহ তল্লাশি করে ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে। জঙ্গী তৎপরতা ও নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ ও র্যা বের সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষের সমন্বয় বাড়ানো হয়েছ। নিরাপত্তায় বাড়তি পুলিশ ও র্যাব সদস্য চাওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাশিমপুর কারাগারে বিএনপি জামায়াতের শীর্ষ নেতা, সাবেক মন্ত্রী, বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, যুদ্ধাপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ ঘোষিত জেএমবির সদস্যসহ মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরা রয়েছেন।

