স্পোর্টস ডেস্ক : পাক-ভারত রাজনৈতিক বৈরিতা এখন ক্রিকেট মাঠেও। কিছুদিন আগে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ নিয়ে দুই দেশের ক্রিকেট কর্তাদের সভা ভেস্তে যায় উগ্র হিন্দুবাদী সংগঠন শিব সেনার তোপের মুখে। এখন সেই উত্তাপ পড়ছে ভারত-দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট সিরিজেও। সফরকারীদের জন্য নেয়া হচ্ছে বাড়তি নিরাপত্তা। কিন্তু কেন? প্রশ্ন উঠতেই পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের সঙ্গে তো ভারতের কোন শত্রুতা নেই। তাহলে? শঙ্কা জেগেছে প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহিরকে নিয়ে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ক্রিকেট খেললেও তারকা এই স্পিনার পাকিস্তানী বংশোদ্ভেুাত। ক্যারিয়ারের বেশীরভাগ সময় তার কেটেছে পাকিস্তানে। যদিও এখন ইমরান তাহির এখন পুরোদস্তুর আফ্রিকান। তারপরও শঙ্কা কাটছে না, জন্ম সূত্রে পাকিস্তানী বলেই ভারতে খুব একটা নিরাপদ নন ইমরান তাহির। আর সে কারণে টিম ম্যানেজম্যান্ট ইমরান তাহিরকে সতর্ক করে দিয়েছেন, বাইরে বেশী ঘুরাফেরা না করতে। দলের অনুশাসন ঠিকমতো পালন করতে।
যদিও কিছুদিন আগে দক্ষিণ আফ্রিকা টিম ম্যানেজম্যান্ট বলেছিল, বিশেষ করে ইমরান তাহিরের বাড়তি নিরাপত্তা দেয়ার প্রশ্নই আসে না। সে থাকবে দলের অন্য ক্রিকেটারদের মতোই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে শিবসেনাদের মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঘটনায় পট পরিবর্তন হচ্ছে।
দক্ষিণ আফ্রিকার টিম ম্যানেজম্যান্টের ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ‘দলের পক্ষ থেকে ইমরান তাহিরকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তাকে বলা হয়েছে মুম্বাইয়ে থাকা অবস্থায় হোটেলের বাইরে না যেতে। পাকিস্তানী বংশদ্ভেুাত হওয়াতেই তাহিরের উপর থাকছে বাড়তি নিরাপত্তা। যাতে অনাকাঙ্খিত ঘটনা না ঘটে’।
সূত্র আরও জানায়, ‘ইমরান তাহির তার স্ত্রী সুমাইয়া দিলদার ও ১৮ মাস বয়সী পুত্র গিবরানকে নিয়ে মু্ম্বাইয়ের বিভিন্ন জায়গায় বেড়ানোর পরিকল্পনা করেছিল। এর মধ্যে ছিল শপিং, হাজি আলি দরগায় ভ্রমণ ইত্যাদি। তবে এখন ইমরান তাহির সব পরিকল্পনায় ছেদ টেনেছেন।’
যদিও দক্ষিণ আফ্রিকার মিডিয়া ম্যানেজার ইমরান তাহিরের বিশেষ নিরাপত্তা নিয়ে ভিন্ন কথাই বলেছেন, ‘অন্য সব ক্রিকেটাররা যেমন নিরাপত্তা পায়, ইমরান তাহিরও তেমনটিই পাবে। এখানে বিশেষ নিরাপত্তা বলে কিছু নাই। তবে সবারই সতর্ক থাকা শ্রেয়’।
বাংলাদেশ থেকে ওয়ানডে সিরিজ হারার পর গত সেপ্টেম্বরে ভারত সফরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ইতোমধ্যে ভারতের বিরুদ্ধে টি২০ ও ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে ভিলিয়ার্স শিবির। আগামী পাঁচ নভেম্বর থেকে শুরু হবে চার ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। বলা চলে ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত ভারতে অবস্থান করবে প্রোটিয়া শিবির। এর মধ্যে বাড়তি কোন ঝামেলা যাতে ভর না করে, সেই দিকেই চোখ টিম দক্ষিণ আফ্রিকার।

