চবি প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষের সময় হাটহাজারী থানার ওসি ইসমাইল হোসেন আহত হওয়ার পর শাহজালাল হল ও শাহ আমানত হলে পুলিশের লাঠিচার্জ অব্যাহত আছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশের লাঠিচার্জে শাহজালাল হলের ৮ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে চবি মেডিকেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বেলা সাড়ে ১২টার দিকে হলে ঢুকে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। এর আগে ভর্তিপরীক্ষা চলাকালে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ সভাপতি এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সোমবার সকাল ১১টা থেকে শুরু হওয়া ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের এ সংঘর্ষে হাটহাজারী থানার ওসিসহ আহত হয় অন্তত ৬ জন। এ সময় পুলিশ নিয়ন্ত্রণ নিতে শতাধিক রাবার বুলেটসহ টিয়ালশেল নিক্ষেপ করে।
আহতরা হলেন : হাটহাজারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন, পুলিশের কনস্টেবল এনাম, মহিউদ্দিন গ্রুপের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের ছাত্র মাসুম, একই বিভাগের শফিকুল ইসলাম ও মো. সাব্বির। এ ছাড়া নাছির গ্রুপের দু’জন আহত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল রোববার বেলা ১২টার দিকে চবির জিরো পয়েন্ট মোড়ে চবিতে ভর্তিপরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের অভ্যর্থনায় লাইনে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে দু’গ্রুপের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এর জের ধরে একপর্যায়ে দু’গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকেই আজকের সংঘর্ষের সূত্রপাত বলে জানা গেছে। সংঘর্ষ চলাকালে লাঠিসোঁটা, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ক্যাম্পাসে মহড়া দিতে দেখা গেছে দু’গ্রুপকেই। সোমবার সকালের দিকে গুলির আওয়াজও শোনা গেছে। এ নিয়ে পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করে। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক অভিভাবককে এদিক সেদিক ছুটতে দেখা গেছে। এদিকে সোমবার সকাল থেকে চবিতে শুরু হয়েছে ভর্তিপরীক্ষা। সকালে ‘জি’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে ‘আই’ ইউনিটের ভর্তিপরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পুরো ক্যাম্পাসেই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবক রয়েছেন। এ ঘটনায় আতঙ্কিত রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তারা। ঢাকা থেকে আসা সরওয়ার কামাল নামে এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, ‘ছেলেকে পরীক্ষার হলে পাঠিয়ে জিরো পয়েন্টে গেলাম নাস্তা করতে। কিন্তু কী নাস্তা করব, দেখলাম অস্ত্র হাতে কয়েকজন এদিক সেদিক ছুটছে। কিছুক্ষণ পর গুলির আওয়াজও শুনলাম। ভর্তিপরীক্ষার সময় যেখানে এ অবস্থা সেখানে আমার ছেলেকে কীভাবে পড়ায়?’
চবি পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বরত এসআই হাবিব বলেন, ‘সংঘর্ষের সময় আমাদের ওসি স্যার আহত হন। তাই ফের সংঘর্ষ এড়াতে হলে ও ক্যাম্পাসে লাঠিচার্জ চলছে।’


