স্পোর্টস ডেস্ক : ৪১তম জন্মদিন পার করে ফেলেছেন ৫ মাসেরও বেশি সময় হয়ে গেছে। অথ্যাৎ ৪২ ছুঁই ছুঁই। এ বয়সে ক্রিকেট খেলা তো দুরে থাক, অনেকের কোচিং ক্যারিয়ারেরও প্রায় মাঝপথ পার হয়ে যান। কিন্তু পাকিস্তানের মিসবাহ-উল হক দিব্যি ক্রিকেট খেলে যাচ্ছেন। খেলাটাকেও বেশ উপভোগ করছেন। বরং, তার নেতৃত্বে টেস্ট ক্রিকেটে দারুন সফলও হচ্ছে পাকিস্তান।
সাফল্য যতই আসুক। বয়সকে তো আর বেধে রাখা যায় না। এ কারণে মিসবাহ-উল হকও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রিকেট আর নয়। আরব আমিরাতে চলতি ইংল্যান্ড সিরিজ শেষেই টেস্ট ক্রিকেটকেও বিদায় বলে দেবেন তিনি। যদিও ইচ্ছা ছিল, আগামী ডিসেম্বরে ভারতের বিপক্ষে প্রস্তাবিত সিরিজে খেলেই অবসর নেবেন তিনি। সেই সিরিজটাও যখন আলোর মুখ দেখার সম্ভাবনা নেই, তখন মিসবাহ জানিয়েছিলেন, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটাই শেষ।
তবে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) চাইছে না এখনই অবসর নিক মিসবাহ-উল হক। তাদের ইচ্ছা, মিসবাহ আরও এক বছর টেস্ট খেলুক। অন্তত আগামী বছর ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফর শেষে যেন মিসবাহ ক্রিকেটকে বিদায় জানান। পিসিবি চেয়ারম্যান শাহরিয়ার খান নিজেই এ আহ্বান জানিয়েছেন মিসবাহ’র প্রতি।
লাহোরে সাংবাদিকদের কাছে নিজেই এ কথা জানান পিসিবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমরা মিসবাহকে বলেছি সে যেন অবসরটা আরও এক বছর পিছিয়ে দেয়। যদি আমাদের সঙ্গে তার চিন্তা মিলে যায়, তাহলে তো ভালোই। কারণ আমরা অনুধাবন করছি, একজন অধিনায়ক এবং সিনিয়র ক্রিকেটার হিসেবে তার উপস্থিতি দলের মূল্য অনেক বাড়িয়ে দেয়। তরুনদেরও বেশ উদ্বুদ্ধ করে। আগামী বছর ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়া সফরে যেটা বেশ কাজে আসবে আমাদের।’
আগামী বছর ইংল্যান্ড সফর করার কথা রয়েছে পাকিস্তানের। এরপর তারা যাবে অস্ট্রেলিয়া সফরে। ওই সময় মিসবাহর বয়স ৪২ পার হয়ে যাবে। বর্তমানে মিসবাহর নেতৃত্বে আরব আমিরাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুই টেস্ট শেষে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে পাকিস্তান।
মিসবাহ নিজেও ক্রিকইনফোকে জানিয়েছেন, পিসিবি চেয়ারম্যান চলতি মাসের শুরুতেই ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, ‘অনেকগুলো বিষয়ই আমি চিন্তা করছি। আসলে সিদ্ধান্ত নেওয়াটা বেশ কঠিন। তবে আগামী এক বা দেড়মাসের মধ্যে আমি পুরো পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করবো এবং এ বিষয়ে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো।’
পাকিস্তান ক্রিকেটের ইতিহাসে সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক হচ্ছেন মিসবাহ-উল হক। তার নেতৃত্বে ৪১টি টেস্ট খেলেছে পাকিস্তান। যার মধ্যে ১৯টিতেই জয় পেয়েছে তারা। ১১টি করেছে ড্র এবং হেরেছে ১১টিতে। তার আগে ইমরান খান এবং জাভেদ মিয়াঁদাদ ছিলেন সবচেয়ে সফল টেস্ট অধিনায়ক। ইমরানের অধীনে ৪৮ টেস্টে ১৪টিতে এবং মিয়াঁদাদের অধীনে ৩৪ টেস্টের ১৪টিতে জিতেছিল পাকিস্তান।
বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে ক্রিকেটকে গুডবাই জানালেও ৫ দিনের ক্রিকেটে এই বয়সেও মিসবাহকে মনে হয় না কোন ফিটনেস কিংবা ফর্ম সমস্যায় ভুগছেন। টেস্টে তার ব্যাটিং গড় ৫৬.৭৫ করে।

