পাঞ্জেরী ডেস্ক : যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী ওরফে সাকা চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড বন্ধ করার দাবি জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে যুদ্ধাপরাধের মামলায় বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় দুই নেতাকে (সাকা ও মুজাহিদ) ত্রুটিপূর্ণ বিচারের মাধ্যমে অনিবার্যভাবেই ফাঁসিতে ঝোলানো হচ্ছে।
ডয়েচে ভেলে এ সম্পর্কিত একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে গতকাল বুধবার।
অ্যামনেস্টির বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেছেন, ‘অ্যামনেস্টি যুদ্ধাপরাধী একটি পক্ষকে বাঁচানোর জন্য কাজ করছে। তাদের মুখে মানবাধিকারের কথা মানায় না।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল মঙ্গলবার তাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা বিবৃতিতে দাবি করেছে, ‘জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকে যুদ্ধাপরাধের দায়ে ২০১৩ সালে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হলেও বিচার প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হয়নি। চলতি বছর জুন ও জুলাইয়ে তারা আপিল করেন। তাদের এই আপিল নিষ্পত্তি করা হয়েছে দ্রুততার সঙ্গে। রিভিউ আবেদনের প্রক্রিয়াও দ্রুত করা হচ্ছে।’
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সাউথ এশিয়া রিসার্চ বিভাগের পরিচালক ডেভিড গ্রিফিথ দাবি করেন, ‘তাদের বিচার ও আপিল প্রক্রিয়া ত্রুটিপূর্ণ ছিল এবং ন্যায়বিচারকে অস্বীকার করে কিছুদিনের মধ্যেই ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা করছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘৭১এর যুদ্ধের সময় সংঘটিত অপরাধ ভয়াবহ ছিল। তারপরও মৃত্যুদণ্ড সহিংসতাকেই প্রতিষ্ঠিত করে এবং ত্রুটিপূর্ণ বিচার একে আরও অন্যায্য করে তোলে।
অ্যামনেস্টির এই বিবৃতি সম্পর্কে বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুন্যালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, ‘আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিচার এখনো শেষ হয়নি। তাদের রিভিউ শুনানির অপেক্ষায় আছে। আর তখন ফাঁসি কার্যকর হবার আশঙ্কা প্রকাশ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা এবং সার্বভৌমত্বের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। তারা মানবাধিকার নয়, যুদ্ধাপরাধী একটি গোষ্ঠীকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছে।’
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সাদ্দাম হোসেনের বিচারে কত সময় নেয়া হয়েছে? ন্যুরেমব্যার্গ ট্রায়ালেই বা কী করা হয়েছে? গণহত্যার যারা শিকার হয়েছেন অ্যামনেস্টি তাদের জন্য বিচার চাইছে না, বীরাঙ্গনাদের জন্য বিচার চাইছেনা। যাদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ, ধর্ষণের অভিযোগ তাদের মানবাধিকারের কথা বলছে। তারা এখন নয়, বিচার শুরুর পর থেকেই যুদ্ধাপরাধের বিচার ভণ্ডুলের সব চেষ্টা করছে।’
তুরিন আরো বলেন, ‘শুধু অ্যামনেস্টি নয়, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ নামে আরো একটি মানবাধিকার সংগঠন যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে কাজ করছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ-এর নিজেরই স্বচ্ছতা নেই। কোথা থেকে টাকা পায় তা গোপন রাখে। আর তারাই যদি বিচার নিয়ে স্বচ্ছতার কথা বলে তা গ্রহণ করা যায়না।’
প্রসঙ্গত, আগামী ২ নভেম্বর আলী মুহাম্মদ মুজাহিদ এবং সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর রিভিউ আবেদনের শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে।

