স্পোর্টস ডেস্ক : নিজের সময়ে অন্যতম ‘বিধ্বংসী’ বোলার ছিলেন ওয়াকার ইউনিস। সুতরাং শিষ্যদের কাছ থেকে কিভাবে সেরাটা বের করে আনা যায় সেটা ভালো করেই জানা আছে পাকিস্তানের সাবেক কিংবদন্তী তারকার। সদ্য শেষ হওয়া দুবাই টেস্টে ‘বিধ্বংসী’ এক বোলিং স্পেলে ইংল্যান্ডকে কাঁপিয়ে দিয়ে পাকিস্তানকে জয় এনে দিয়েছেন পেসার ওয়াহাব রিয়াজ। নিজের এমন দারুণ পারফরম্যান্সের জন্য কোচ ওয়াকার ইউনিসকে কৃতিত্ব দিলেন তিনি।
দুবাই টেস্টে রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে ইংল্যান্ডকে ১৭৮ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় মিসবাহ-উর-হকের পাকিস্তান। টেস্টের পঞ্চম ও চূড়ান্ত দিনের মাত্র ৬.৩ ওভার বাকি থাকতে ইংল্যান্ডকে গুটিয়ে দিয়ে রোমাঞ্চকর জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে পাকিস্তান।
প্রথম ইনিংসে বিধ্বংসী এক স্পেলে ইংল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়া ওয়াহাব রিয়াজ দুই ইনিংসে মাত্র ৫ উইকেট পাওয়া সত্ত্বেও ম্যাচে প্রভাব বিবেচনায় ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয় করেন। দুই টেস্ট শেষে তিন ম্যাচ সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে থাকার ফলে দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্ট সিরিজে অপরাজিত থাকার রেকর্ডকে আরো প্রলম্বিত করতে সক্ষম হলো মিসবাহর দল।
নিজের দারুণ পারফরম্যান্সের কৃতিত্ব কোচ ওয়াকার ইউনিসকে দিয়ে ওয়াহাব রিয়াজ বলেন, ‘আমি সবসময় নিজের সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করি। প্রথম ইনিংসে কোচের পরিকল্পনা অনুযায়ী বোলিং করেছি। সুতরাং, পুরো কৃতিত্ব তার।’
প্রথম ইনিংসে জো রুট, বেন স্টোকস ও জস বাটলারসহ চার উইকেট লাভ করেন ওয়াহাব রিয়াজ। প্রথম ইনিংসে তার বিধ্বংসী এক স্পেলই ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণী হয়ে উঠে। যে কারণে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র এক উইকেট (দুই ইনিংসে পাঁচ উইকেট) পেলেও রিয়াজই ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে সন্তুষ্টি ঝরে ওয়াহাব রিয়াজের কণ্ঠে, ‘আমি জোর রুট-সহ গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের উইকেট পেয়েছি এবং এটি দলকে সাহায্য করেছে। শুধু এই টেস্টই নয়, আমি সবসময়ই নিজের সেরাটা নিংড়ে দেয়ার চেষ্টা করি।’
দুবাই টেস্টের তৃতীয় দিন সকালে ৩ উইকেটে ২০৬ রান নিয়ে মজবুত অবস্থানে ছিল ইংল্যান্ড। সেখান থেকে ওয়াহাব রিয়াজের ধাক্কায় ৩৬ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায়। যে কারণে বেশ হতাশ ইংলিশ অধিনায়ক অ্যালেস্টার কুক।
হতাশ কুক বলেন, ‘এটি সত্যিই অনেক হতাশাজনক। মাঝে-মাঝে এমনটি ঘটেই তাকে। পুরো কৃতিত্ব (ওয়াহাব) রিয়াজের। সে সত্যিই অসাধারণ বোলিং করেছে। ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার গতি, রিভার্স সুইং, ভিন্ন ভিন্ন এ্যাঙ্গেল থেকে বোলিং, শর্ট বল- সব মিলিয়ে ও দুর্দান্ত ছিল।’

