ঢাকাSunday , 18 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রাম বন্দরে এনসিটির যাত্রা শুরু

Link Copied!

nctচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : নানা জটিলতা পেরিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার প্রায় আট বছর পর অবশেষে যাত্রা শুরু করেছে চট্টগ্রাম বন্দরের বহুল আলোচিত নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)।
চট্টগ্রাম বন্দরের এনসটির ২ নম্বর জেটিতে শনিবার বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে বেলুন উড়িয়ে এনসিটির ১, ২, ৩ ও ৪ নম্বর জেটির আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান এমপি। এসময় সাথে ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এমএ লতিফ, চট্টগ্রাম ১১ আসনের সংসদ সদস্য শামসুল হক, চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ, টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, এক কিলোমিটার দীর্ঘ বার্থ এবং পশ্চাদ সুবিধা সম্বলিত এই টার্মিনালটিতে বছরে গড়ে ১২ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করার সুযোগ রয়েছে। নিউমুরিং কন্টেনার টার্মিনালের পাঁচটি বার্থে একই সাথে পাঁচটি মাঝারি আকৃতির জাহাজ অথবা কিছুটা বড় আকৃতির তিনটি জাহাজ বার্থিং দেয়া এবং কন্টেনার হ্যান্ডলিং এর সুবিধা রয়েছে। এনসিটি নির্মাণ শুরু হয় ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়। এতে চট্টগ্রাম বন্দরের খরচ হয় ৪৬৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। পরে দুটি জেটির পেছনের কনটেইনার রাখার চত্বর তৈরিতে ব্যয় হয় প্রায় ৯৮ লাখ টাকা।
সাত বছর আগে টার্মিনালটি কন্টেনার জাহাজ হ্যান্ডলিং এর জন্য তৈরি হলেও নানা জটিলতায় এটিকে চালু করা সম্ভব হয়নি। বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের মাধ্যমে টার্মিনালটি চালু করার জন্য ২০১২ সালে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। সাপ্লাই অপারেট এন্ড ট্্রান্সফার ভিত্তিতে টার্মিনাল পরিচালনার জন্য আহূত ওই টেন্ডারে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত ছিল। যাতে বলা হয়েছিল অপারেটর নিজের অর্থে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা খরচ করে এই টার্মিনালের প্রয়োজনীয় ইকুইপমেন্ট স্থাপন করবে।
তারা কন্টেনার টার্মিনালটি বিশ বছর পরিচালনা করবে। অপারেটর চলে যাওয়ার সময় সবগুলো ইকুইপমেন্ট সচল অবস্থায় বন্দর কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আন্তর্জাতিক ওই দরপত্রে সাড়া দিয়ে বিশ্বের খ্যাতনামা বেশ কয়েকটি কোম্পানি টার্মিনালটিতে অর্থ বিনিয়োগ এবং অপারেট করার আগ্রহ দেখিয়েছিল। কিন্তু ওই টেন্ডার নিয়ে মামলা মোকদ্দমায় তা থমকে যায়।
পরে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের জন্য নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু হয়। আহ্বান করা হয় টেন্ডার। ওই টেন্ডারে এনসিটির পাঁচটি টার্মিনালের মধ্যে এক নম্বর টার্মিনালটি পানগাঁও কন্টেনার টার্মিনালের জাহাজ বার্থিং দেয়ার জন্য নির্দিষ্ট রেখে বাকি চারটি টার্মিনালে বেসরকারি অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয়। ২ এবং ৩ নম্বর টার্মিনাল পরিচালনা করবে সাইফ পাওয়ারটেক, ৪ ও ৫ নম্বর টার্মিনাল সাইফ পাওয়ারটেকের সাথে যৌথভাবে পরিচালনা করবে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের মালিকানাধীন এমএইচ চৌধুরী শিপিং এবং নোয়াখালী থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ দলীয় এমপি একরামুল করিম চৌধুরীর মালিকাধীন এ এন্ড জে শিপিং।
গত ২৫ জুন বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেডের মধ্যে নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের ৪ ও ৫ নম্বর জেটি পরিচালন-সংক্রান্ত চুক্তিমূল্য ছিল ৪৯ কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এরপর গত ২৩ সেপ্টেম্বর টার্মিনালটির ২ ও ৩ নম্বর জেটি পরিচালনার জন্য বন্দরের সঙ্গে সাইফ পাওয়ারটেকের চুক্তি হয়। এর চুক্তিমূল্য ছিল ৪৯ কোটি ৮৭ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এক অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘এনসিটি উদ্বোধনের ফলে বন্দরে বছরে গড়ে ১২ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এরফলে পূর্ণ সক্ষমতার দিকে এগিয়ে যাবে বন্দর। ভারত-ভূটান-নেপালের সাথে সরকার যে ট্রানজিট চুক্তি করেছে এরজন্য বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। আর এনসিটি চালুর মাধ্যমে সেই সক্ষমতা অনেকটা পূরণ হবে।’
টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক তরফদার রুহুল আমীন বলেন, ‘দীর্ঘ নয় বছর নানা জটিলতার পথ মাড়িয়ে আইনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে আমরা আজ এনসিটির চারটি জেটি পরিচালনার আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। শুধু এনসিটি নয় আমরা সিসিটিও সফলতার সাথে পরিচালনা করে আসছি। গত ২০০৭ সালে যখন আমরা সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন বন্দরের কনটেইনার ডেলিভারি ক্ষমতা ছিল ২ লাখ ৭ হাজার একক। ২০১৪ সালে এসে সেই সংখ্যা এখন সাড়ে পাঁচ লাখে উন্নতি করতে আমরা সক্ষম হয়েছি।’
তিনি আরো বলেন, ‘এই এনসিটি পরিচলনার মাধ্যমে আমরা ২০১৬ সালের মধ্যে ৮ লাখ একক কনটেইনার ডেলিভারির লক্ষ্যামাত্রা নির্ধারণ করেছি। যেটি আমাদের ২ হাজার শ্রমিক কর্মকর্তা-কর্মচারির যৌথ প্রচেষ্টায় সফল হব বলে আমি আশা করছি। এরমধ্যে ১ ও ২ নম্বর জেটি আমরা এককভাবে পরিচালনা করব। আর ৩ ও ৪ নম্বর জেটি আমাদের সাথে এমএইচ চৌধুরী শিপিং এবং এ এন্ড জে শিপিং পরিচালনা করবে। বন্দর ব্যবহারকারী ও শিপিং এজেন্টরা যখনই আমাদের সেবা নিয়ে কোনো সমস্যায় পড়বেন তখনই আমাকে জানালে আমি তাৎক্ষণিক আপনাদের সেবা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌ পরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান বলেন, ‘এনসিটি নির্মাণের পর থেকে অনেক ষড়যন্ত্র করে এর যাত্রাকে আটকানো হয়েছে। এরপরও আমরা সব বাধা ডিঙিয়ে আজ এই এনসিটির যাত্রা শুরু করছি। এই যাত্রার ফলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়বে, সেই সাথে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে। বন্দরের উন্নয়নে সরকার কাজ করছে। বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়াতে বে-টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে। লালদিয়ার চরে বে-বাল্ক টার্মিনাল নির্মাণ করা হবে।’