চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি : মৌসুমী ব্যবসায়ীদের বেশি দামে ক্রয়কৃত চামড়া আড়তদাররা না কেনায় লোকসানের মুখে পড়েছে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। জেলায় এবার প্রায় ১ লক্ষাধিক গরু-ছাগল কুরবানি হয়েছে। বরাবরের মতো এবারো মৌসুমী ক্ষুদে ব্যবসায়ীরা এসব চামড়ার সিংহভাগই সংগ্রহ করে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বড় আকারের গরুর চামড়া ১৮শ টাকা, মাঝারি সাইজের ১৩-১৪শ টাকা ও ছোট আকারের গরুর চামড়া ৮শ টাকা এবং ছাগলের চামড়া গড়ে ২শ-১শ ৮০ টাকা দরে ক্রয় করে।
মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী শামসুল ইসলাম জানান, তাদের ক্রয়কৃত চামড়া জেলা পারমিটধারী আড়তদাররা বড় আকারের গরুর চামড়া ১২শ-১৬শ টাকা, মাঝারি সাইজের ১১-১২শ টাকা ও ছোট আকারের গরুর চামড়া ৬শ টাকা এবং ছাগলের চামড়া গড়ে ১শ-১শ ৫০ টাকা দরে কিনেছে। ফলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া প্রতি ৩শ-৪শ টাকা লোকসানের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের অনেকেই বাধ্য হয়ে লবণ দিয়ে চামড়া সংরক্ষণ করছেন। আরেক মৌসুমী ব্যবসায়ী সুমন জানান, চামড়ার আড়তদাররা সঠিক দাম না দেয়ায় মৌসুমী ব্যবসায়ীদের ক্রয়কৃত প্রায় দেড় কোটি টাকার ৬০ হাজার পিস চামড়া অবিক্রিত রয়েছে।
আড়তদাররা এসব চামড়া তাদের নির্ধারিত দরে কেনার প্রস্তাব দিলে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বিরাট আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছে। কেউ কেউ লোকসান করে আড়তদারের কাছে চামড়া বিক্রি করলেও বেশিরভাগ চামড়া অবিক্রিত হওয়ায় চামড়া পঁচে যাবার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে লোকসান করে তাদের কাছে বিক্রি করছে।
জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মঞ্জুর হোসেন জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম এবং বেঁধে দেয়া চামড়া দরের চেয়ে বেশি দরে মৌসুমী ব্যবসায়ীরা চামড়া ক্রয় করায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। মৌসুমী ব্যবসায়ীরা বেশি দরে চামড়া কিনে বাজার অস্থিতিশীল করে তুলেছে। এর দায়-দায়িত্ব তাদেরই বহন করতে হবে। তবে, তারা কিছু চামড়া নির্ধারিত দরে কিনেছে।

