আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের দিন যতই সামনে আসছে ততই যেন অস্থিরতা ও উত্তেজনা বাড়তে শুরু করেছে। কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের পাক হাইকমিশনে আমন্ত্রণ জানানোকে কেন্দ্র করে দু’দেশের মধ্যে নতুন করে অস্থিরতা শুরু হয়েছে।
দু’দেশের মধ্যে আদৌ বৈঠক হবে কীনা তা নিয়ে শুরু হয়েছে সংশয়। বিতর্কের কেন্দ্রে কাশ্মীরের হুরিয়ত নেতারা। গত বছরের জুলাইয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কারণেই ভারত পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের আলোচনা বাতিল করে দেওয়া হয়েছিল। এবারও বৈঠকের ঠিক আগে ভারতে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার আবদুল বাসিত তিন হুরিয়ত নেতাকে দিল্লি আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সারতাজ আজিজের সঙ্গে বৈঠকের জন্যই এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে দুই দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকের আগে অথবা পরে কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের সঙ্গে কোনো বৈঠক ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে না বলে গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছে ক্ষুব্ধ ভারত সরকার। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ শুক্রবার এই হুঁশিয়ারির জানিয়েছেন। তবে পাকিস্তান সে কথার কোনো পাত্তাই দেয়নি। শুক্রবার পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় বসেন। ওই আলোচনার পরই পাকিস্তান জানায়, কাশ্মীর নিয়ে ভারতের চোখ রাঙানীতে তাদের কিছু যায় আসে না। হুরিয়ত নেতা সাবির শাহও জানিয়েছেন, ২৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় সারতাজ আজিজের সঙ্গে তাঁদের বৈঠক হবে।
সারতাজ আজিজ রোববার দিল্লি আসবেন। সোমবার ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা। কিন্তু বারবার বলা সত্ত্বেও গতকাল পর্যন্ত আজিজের কর্মসূচি সম্পর্কে কিছুই জানায়নি পাকিস্তান সরকার। সম্প্রতি উদমপুরে বিএসএফের ওপর হামলায় ধরা পড়া পাকিস্তানি সন্ত্রাসী মুহাম্মদ নাভেদকে জেরা করে যেসব তথ্য উঠে এসেছে, তা অজিত দোভাল সারতাজ আজিজকে দেবেন। কারন নাভেদ যে পাকিস্তানি নাগরিক, পাকিস্তান এখনো তা স্বীকার করেনি।
এছাড়া বিচ্ছিন্নতাবাদীদের নিয়ে জটিলতায় বৈঠক নিয়ে যেন এক টানাপোড়ন চলছে। অপরদিকে ইয়াসিন মালিক দিল্লি আসছেন না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন। তাই বৈঠক নিয়ে সংশয় কাটছে না।

