ঢাকাFriday , 21 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তখন হাসিনা বলেন- ওদের কী হবে?

Link Copied!

21augustনিজস্ব প্রতিবেদক : প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘গ্রেনেড হামলায় আহত এবং মৃত্যুর মুখে পড়েও বারবার আহত-নিহতদের কাছে ছুটে যেতে চাচ্ছিলেন নেত্রী শেখ হাসিনা। তার জীবন রক্ষায় তাই একপ্রকার জোর করেই গাড়িতে তুলে সুধা সদনে পৌঁছে দেওয়া হয় তাকে। তখন তিনি বলছিলেন, ‘আমাকে নিয়ে যাচ্ছো, ওদের কী হবে?
ঘটনা : সারাদেশে জঙ্গিদের বোমা হামলা এবং গোপালগঞ্জে পুলিশী নির্যাতনের প্রতিবাদে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বিকেলে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে এক সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশের প্রধান অতিথি বঙ্গবন্ধু কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান বিকেল ৫টায়।
একটি ট্রাকের ওপর তৈরি মঞ্চে তিনি কুড়ি মিনিটের বক্তৃতা শেষে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করার ঘোষণা দেন। এরপর তিনি মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসতে থাকেন। ঠিক এমন সময় শুরু হয় মঞ্চ লক্ষ্য করে গ্রেনেড হামলা। মাত্র দেড় মিনিটের মধ্যে বিস্ফোরিত হয় ১১টি শক্তিশালী গ্রেনেড। নিহত হয় ২৪ জন। আজ  সেই ভয়াল ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ১১তম বর্ষপূর্তি।
বিচার :  ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের পাশে স্থাপিত ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর (অস্থায়ী এজলাস) বিচারক শাহেদ নুরু উদ্দিনের আদালতে জজ মিয়াসহ দুটি মামলায় ৪৯১ সাক্ষীর মধ্যে ১৭৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ  হয়েছে। আসামির সংখ্যা ৫২ জন। এর মধ্যে জেল হাজতে আছে ২৫জন , জামিনে আছে ১৯ জন ও পলাতক আছে ৮ জন।
মামলায় এ পর্যন্ত  আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তারা হলেন- মুফতি হান্নান, মহিবুল্লাহ ওরফে মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডা. জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, জাহাঙ্গীর আলম, আরিফ হাসান সুমন ও রফিকুল ইসলাম সবুজ।
এ মামলায় সাক্ষ্য দিতে এসে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারেক আহমেদ সিদ্দিকী  আরও বলেন, ‘২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার সময় তিনি তখনকার বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা ছিলেন।  একজন বিরোধী দলীয় নেতা ও রাজনৈতিক দলের সভাপতির সমাবেশে যে ধরনের নিরাপত্তা থাকার কথা, বলতে গেলে তার কোনো কিছুই ছিল না’।
তারেক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘তিনি সেদিন ঘটনাস্থলের পাশেই ছিলেন। নেত্রীর ওপর পর পর ৮/৯টি গ্রেনেড চার্জ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গে মানবঢাল তৈরি করে তাকে রক্ষা করেন আওয়ামী লীগের নেতারা। সমাবেশের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত ট্রাক থেকে শেখ হাসিনাকে নামিয়ে জোর করে তার গাড়িতে তুলতে হয়। এরপর ঘটনাস্থল থেকে গাড়িতে করে জিপিও, সচিবালয়ের সামনের রাস্তা দিয়ে শেখ হাসিনাকে সুধা সদনে পৌঁছে দেওয়া হয়। তখন সন্ধ্যা আনুমানিক ছয়টা।’
তারেক আহমেদ সিদ্দিকী আরো বলেন, তিনি নিজেও সেদিন আহত হন। তার শরীরে বেশকিছু স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়। সিএমএইচে তিনি সাতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর তাকে দিল্লির অ্যাপোলো হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করে কিছু স্প্লিন্টার বের করা হয়। কিছু স্প্লিন্টার তার শরীরে রয়ে যায়, সেগুলো এখনো আছে।
আহত-নিহত : এ হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন নির্মমভাবে নিহত হন। তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। আহত হন তিন শতাধিক নেতাকর্মী।
এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামীলীগকে নেতৃত্ব শূন্য করার জন্য তৎকালীন চার দলীয় জোট সরকার এই ন্যাক্কারজনক হামলা চালায়। এতে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জনকে হত্যা করা হয়।  বিচারের স্বার্থে সময় কিছুটা বিলম্ব হলে কোন সমস্যা নাই বলে তিনি জানান।’
সৈয়দ রেজাউর রহমান আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রপক্ষ এ মামলায় ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে কাজ করছে। সে লক্ষ্যে যতোদিন সময় লাগে লাগবে। তাই বিচার শেষ হওয়ার ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বলা যাচ্ছে না। মামলার বিলম্বিত বিচার সম্পর্কে তিনি বলেন, তদন্ত ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বার বার এবং অধিকতর তদন্তেই অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এ মামলার কিছু আসামি ১০ ট্রাক অস্ত্র, যুদ্ধাপরাধ, রমনা বটমূল ও ৭৬ কেজি বোমা মামলারও আসামি। তাই ওই মামলাগুলোর বিচারও এক সঙ্গে চলায় সময় নষ্ট হয়েছে। এছাড়া আসামিপক্ষ থেকে সাক্ষীদের অপ্রয়োজনীয় জেরা করায়ও সময় নষ্ট হচ্ছে বলেও তিনি মনে করেন।’
মামলাগুলোর অন্যতম আসামি তারেক রহমানের আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, ‘তারেক রহমান এ হামলার সঙ্গে কোনো ভাবেই জড়িত নয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিকভাবে হয়রানির জন্যই পরবর্তীতে তাকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে।’
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, জঘন্যতম এই গ্রেনেড হামলার বিচার গত বছর শেষ করার ইচ্ছা থাকলেও নানা সংকটের কারণে তা  শেষ করতে পারেনি সরকার। ধীরগতিতে মামলার প্রক্রিয়া এগোতে থাকায় বিচারকাজের অগ্রগতি হয় সামান্যই। এতে বিচারের প্রতীক্ষায় থাকা আহত ও নিহতদের পরিবারের স্বজনদের মাঝে এ নিয়ে আছে শুধু হতাশা।
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চার্জশিটে অতিরিক্ত সাক্ষীর নাম উল্লেখ থাকায় মামলার বিচার প্রক্রিয়া ধীরগতিতে চলছে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির (অপরাধ তদন্ত বিভাগ) বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ বলেন, ‘প্রসিকিউশন  কোনো সাক্ষীকে গুরুত্বহীন মনে করলে তার সাক্ষ্য নাও নিতে পারেন, এ ক্ষমতা তাদের রয়েছে। অতিরিক্ত সাক্ষী এবং আসামিদের অন্য মামলায় বিভিন্ন জেলায় নিয়ে যাওয়ার কারণে ২১ আগস্ট মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলছিল ধীরগতিতে।’
রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, এ মামলায় যারা আসামি তারা সারা দেশে বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর মামলারও আসামি। কাজেই দেশের অন্যান্য আদালতেও আসামিদের নেওয়া হয়। ফলে ২১ আগস্ট হামলার বিষয়ে বিচারিক ট্রাইব্যুনালের পক্ষে টানা বিচারকাজ চালানো সম্ভব হয়নি।
জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নানসহ তার সহযোগিরা দেশের বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলার সঙ্গে জড়িত। সেখানকার মামলায়ও তাদের হাজির করা হয়। আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত। আবদুস সালাম পিন্টু নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে বোমা হামলা মামলার আসামি। চট্টগ্রামের দশ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত লুৎফুজ্জামান বাবর।
এ মামলার দীর্ঘসূত্রতার ব্যাপারে সরকারপক্ষের প্রধান কৌসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, ‘এ ছাড়া আসামি পক্ষেরও মামলার বিচার বিলম্বিত করার একটা প্রবণতা রয়েছে। কেবলমাত্র মাজেদ বাটের স্ত্রী কাকনের সাক্ষ্য নেওয়ার জন্য আসামি পক্ষের আইনজীবীদের বিরোধিতার জন্য ৯৯ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে। মুফতি হান্নানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৬৮, আবদুর রউফের জন্য ১০ কার্যদিবস ব্যয় হয়েছে। এ জন্যই মামলার বিচারিক কার্যে সময় লাগছে।’
আসামিপক্ষের একাধিক আইনজীবীর মতে, ‘এখন পর্যন্ত নেওয়া সাক্ষীদের জবানবন্দী অনুযায়ী মামলা প্রমাণিত হয়নি। এখনো মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়া হয়নি। আবার বর্তমানে একজন সাক্ষীর একই সঙ্গে দুটি মামলায় সাক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে, যা কোনো ভাবেই বৈধ নয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, সরকার তড়িঘড়ি করে বিচারকাজ শেষ করতে চায়।
তবে সরকারপক্ষের আইনজীবীদের দাবি, ইতোমধ্যে মামলার অন্যতম আসামি বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মাদ মুজাহিদ, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু এবং হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, আবু তাহের, তাজউদ্দিন, মাজেদ বাটসহ জঙ্গি নেতাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য-প্রমাণ উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘নারকীয় ২১ আগস্টের এ হামলার তদন্ত করতে গিয়ে আট বছর ধরে ঘুরপাক খেতে হয়েছে পুলিশকে। এ সময়ে তদন্ত হয়েছে তিনবার। আর তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন করা হয় ছয়বার।’
মহাজোট সরকার আমলে সিআইডির সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনাকে হত্যা ও আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করতেই ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট স্মরণকালের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। অভিযোগপত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরীসহ নতুন করে ৩০ জনকে আসামি করা হয়। এতে এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৫২।
২০০৮ সালের ১১ জুন দেওয়া প্রথম চার্জশিটে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, প্রাক্তন উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়েছিল।
সূত্র জানায়,আগের অভিযোগপত্রে হামলায় ব্যবহৃত আর্জেস গ্রেনেডের উৎস, মজুদ, সরবরাহকারী, পরিকল্পনাকারীদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল না। অধিকতর তদন্তে বেরিয়ে আসে আর্জেস গ্রেনেড পাকিস্তান থেকে আনা হয়েছে। তা পাকিস্তানি নাগরিক মজিদ বাটের মাধ্যমে সংগ্রহ করে প্রাক্তন মন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন হামলাকারীদের মধ্যে বিতরণ করেছেন।
সূত্র আরও জানায়, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় মোট তিন দফা তদন্তে ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তাকে (আইও) পরিবর্তন করা হয়। প্রথম তদন্ত হয় বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে, কিন্তু কোনো প্রতিবেদন দাখিল হয়নি। বরং মামলাটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য জমজমাট জজমিয়া নাটক সাজানো হয়।
গত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে নতুন তদন্তে সিআইডির এ এস পি ফজলুল কবীর ২০০৮ সালের ১১ জুন অভিযোগপত্র দাখিল করেন।  অভিযোগপত্রে মুফতি হান্নানসহ ২২ জনকে অভিযুক্ত করা হলেও গ্রেনেডের উৎস ও মদদদাতাদের শনাক্ত করা হয়নি। বর্তমান সরকার আমলে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর আদালত মামলার বর্ধিত তদন্তের আদেশ দেন।
২০০৯ সালের ১৩ আগস্ট তদন্ত শুরু করেন সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার আবদুল কাহ্হার আকন্দ।  ১৩ দফা সময় বাড়িয়ে ২০১১ সালের ৩ জুলাই সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার মধ্য দিয়ে ভয়ঙ্কর গ্রেনেড হামলার তদন্ত শেষ হয়। এতে ৩০ জনকে আসামি করা হয়।
প্রথম অভিযোগপত্রে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ নেতা আমির হোসেন আমুসহ ৪০৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছিল। আলামত জব্দ দেখানো হয়েছিল ৬৯ ধরনের।
বিচারের অগ্রগতি : ২০১২ সালের ১৯ মার্চ তারেক রহমান, হারিছ, মুজাহিদসহ জোট সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও নেতা এবং বেশ কয়েকজন জঙ্গি নেতা-কর্মীসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর আগে তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে জঙ্গি নেতা মুফতি হান্নান ও জোট সরকারের উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুসহ ৩২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। বিচার শুরুর  পৌনে চার বছরে বাদীসহ ১৭৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্ভব হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের সূত্রে জানা গেছে, আরও ২৫ থেকে ৩০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ প্রয়োজন হতে পারে।
মামলার ৫২ আসামির মধ্যে খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব.) সাইফুল ইসলাম ডিউক, প্রাক্তন আইজিপি মো. আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক ও খোদা বক্স চৌধুরী এবং মামলার তিন তদন্ত কর্মকর্তা প্রাক্তন বিশেষ পুলিশ সুপার রুহুল আমিন,সিআইডির সিনিয়র এএসপি মুন্সি আতিকুর রহমান, এএসপি আব্দুর রশীদ ও প্রাক্তন ওয়ার্ড কমিশনার আরিফুল ইসলাম জামিনে আছেন।
প্রাক্তন মন্ত্রী জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ,  প্রাক্তন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর,  প্রাক্তন উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২৫ জন আসামি কারাগারে আটক আছেন।
অন্যদিকে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, বিএনপির বর্তমান এমপি কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদসহ ১৯ জন আসামি পলাতক আছেন।