ঢাকাFriday , 21 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন মাহবুব

Link Copied!

mahbubকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : আজ ভয়াল ২১ আগস্ট। ২০০৪ সালের এ দিনে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনাকে লক্ষ্য করে গ্রেনেড বোমা ছোড়া হয়।
সে সময় তাকে যারা রক্ষাকবচের মতো নিজের জীবনকে বাজি রেখে গ্রেনেড প্রতিহত করে বাঁচিয়েছিলেন তাদেরই একজন কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার ফুলবাড়ি গ্রামের হারুন-অর-রশিদের সন্তান মাহবুবুর রশিদ মাসুদ।
বাবা-মায়ের চরম আনুগত্য সন্তান, দারিদ্র্যতার সঙ্গে যুদ্ধ করে বেড়ে ওঠা মাহবুব ছিলেন ছেলেবেলা থেকেই শান্তশিষ্ট ও পরোপকারী। যার ফলশ্রুতিতে পরবর্তীতে নিযুক্ত হন শেখ হাসিনার ৪০ জন ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীর মধ্যে গর্বিত একজন। জীবনের শেষ মুহুর্ত পর্যন্ত মাহবুব তার দায়িত্ব পালন করে গেছেন একনিষ্ঠভাবে।
মাহবুব নিহত হওয়ার কয়েকদিন পরে তৎকালীন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং খোকসা উপজেলা চেয়ারম্যান হাজী সদর উদ্দিন খান একটি স্মৃতিস্তবক করার ঘোষণা দিলেও নানা কারণে আজও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সরেজমিনে উপজেলার ফুলবাড়ী গ্রামে মাহবুবের পিতৃভিটায় গিয়ে দেখা যায়, মাহবুবের মা হাসিনা বেগমের শরীর (৬৫) বয়সের ভারে ভেঙ্গে গেছে।
২০১৪ সালে সরকারের দেওয়া ৫ লাখ টাকার সঞ্চয় পত্রের মাসিক লাভের টাকায় দিন চালায় তার বাবা-মা। টাকা পয়সার অভাবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করাতে পারছেন না হাসিনা বেগম। গত বছর আগস্ট মাসে পিত্তথলির ব্যথায় হাসপাতালে ভর্তি হবার পর জেলা প্রশাসকের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অপারেশন করা হয়েছিল।
হাসিনা বেগম বলেন, ‘এই মাস (আগস্ট) আসলিই সামবাদিকরা (সাংবাদিক) আইসে আরো জ্বালা বাড়াই (বাড়িয়ে) দেয়। কেউ কি আমার ছেলেকে আইনে দিতি পারবি। সারা বছর আমার কেউ তালাশ নেয় না, আমি কিরম আছি। যা যাওয়ার তো আমারই গ্যাছে আপনারা কি ফিইরি দিতি পারবেন।’ মাহবুবের অসুস্থ মায়ের খেদোক্তির উত্তর কারোরই জানা নেই।
হামলার কিছুদিন আগে মাহবুবকে একটি ঘড়ি উপহার দিয়েছিলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। কয়েকদিন ব্যবহার করে স্মৃতিস্বরূপ মায়ের কছে রেখে দেন তার শহীদ সন্তান। আগস্টের ২১ আসলেই মা ঘড়িটি বুকে চেপে কেঁদে ওঠেন আর মাঝে মাঝে মূর্ছা যান।
মাহবুবের বড় ভাই শাহজাহান জানান, আমার ৫ বোনের মধ্যে ৩ বোনের বিয়ে মাহবুব থাকতেই দিয়েছি। তারপর ২ বোনের মধ্যে এক বোনকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে বছর তিনেক আগে। ভোট বোনের বিয়ে এখনও হয়নি। তিনি আরো বলেন, দুই বোনের পড়ালেখা বাবদ বঙ্গবন্ধু কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রতিমাসে ১ হাজার টাকা আসতো। সেই টাকা আসাও বন্ধ হয়ে গেছে প্রায় বছর তিনেক আগে। তবে ২০১৪ সালের শুরু থেকে সংসার খরচ বাবদ প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে প্রতি মাসে ৬ হাজার টাকা করে আসে।
দলীয় কর্মীরা দেখভাল করে কিনা এ ব্যাপারে মাহবুবের বৃদ্ধ বাবা হারুন-অর-রশিদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, দল থেকে কেউ খোঁজ-খবর রাখে না। আমার মেঝ ছেলেকে ঢাকার একটি গার্মেন্টসে চাকরি দিলেও পরবর্তীতে গার্মেন্টসটি বন্ধ হয়ে যায়। আরেক ছেলে মামুন-অর-রশিদকে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশ ক্রমে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে খোকসা উপজেলা পরিষদের অফিস সহায়ক পদে চাকরি দেওয়া হয়েছে।
মাহবুবের স্ত্রী শামীমা আক্তার আছমা ও তার দুই ছেলে আশিক ও রবিন ঢাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে থাকেন। প্রথম প্রথম মাহবুবের মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখলেও এখন আর যোগাযোগ রাখেন না।
খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বাবুল আখতারের সঙ্গে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, প্রতি বছরের মত এবারও উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হবে।