আন্তর্জাতিক ডেস্ক : একসময়ের সমৃদ্ধশালী দেশ ইয়েমেন বর্তমানে দুর্ভিক্ষের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে। গত কয়েক মাসের সংঘাতের ফলে চরম খাদ্য সঙ্কটে পড়েছে দেশটি। বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে সংবাদ সংস্থা বিবিসি।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সংক্ষেপে ডব্লিউএফপি’র প্রধান আর্থারিন কাজিনে এক বিবৃতিতে বলেছেন, দেশটিতে খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং বাজারে প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রির অভাব রয়েছে। এছাড়া সহিংসতার কারণে ত্রাণ বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় স্থানগুলোতে পৌঁছুতে পারছে না ত্রাণ সংস্থাগুলো।
ডব্লিউএফপি’র হিসাব মতে দেশটির ১ কোটি ৩০ লাখ মানুষের জন্য জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য সহায়তা প্রয়োজন।
শিয়াপন্থি হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের বিভিন্ন স্থানে সরকার সমর্থিত বাহিনীর সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। কায়রোতে এক সংবাদ সম্মেলনে কাজিন বলেন, দেশের প্রধান প্রধান বন্দরগুলোতেও লড়াই ছড়িয়ে পড়েছে যার ফলে ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। তার মতে ত্রাণ বিতরণে প্রধান সমস্যা হচ্ছে যাদের সাহায্য অতি জরুরি তাদের কাছে পৌঁছুতে না পারা এবং ত্রাণ বিতরণকারী গোষ্ঠীগুলোর দাতাদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত আর্থিক সহায়তা না পাওয়া। লেবাননের এই পরিস্থিতিকে তিনি ‘কঠিন অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এর আগে সদ্য ইয়েমেন সফর শেষে ‘দেশটির জনগণ অবর্ণনীয় দুর্দশা সহ্য করছে’ বলে মন্তব্য করেছিলেন জাতিসংঘের মানবিক প্রধান স্টেফেন ও ব্রায়েন। বুধবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে তিনি এ মন্তব্য করেছিলেন। এ সময় তিনি হোদেইদা বন্দরে সৌদি নেতৃত্বধীন জোটের বোমা হামলার সমালোচনা করে বলেছিলেন, এটি আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘণ।
জাতিসংঘের মতে, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া ও ইরাকের মত ইয়েমেনেও চরম মানবিক সঙ্কট বিরাজ করছে। গত মার্চ থেকে সৌদি জোটের বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর দেশটিতে এ পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। রিয়াদে আশ্রয় নেয়া ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট মনসুর হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতেই এ হামলা শুরু করেছে সৌদি জোট।
জাতিসংঘের হিসাব মতে, ২ কোটি ১০ লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষেরই ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন।

