নিজস্ব প্রতিবেদক : ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জীর মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
উপাচার্য এক শোকবাণীতে বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিধারী শুভ্রা মুখার্জীর ছিলেন একজন জনপ্রিয় শিক্ষক। আপাদমস্তক বাঙালি শুভ্রা মুখার্জীর ব্যক্তিগত জীবনে একজন অসামান্য গৃহকর্ত্রী। যিনি একদিকে ছিলেন অতি সাধারণ জীবনযাপনকারী অন্যদিকে ছিলেন একজন সঙ্গীত শিল্পী, চিত্রকর ও লেখক। তিনি বাংলাদেশের একজন ভালো সুহৃদ ছিলেন, জন্মভূমির প্রতি ছিল তার বিশেষ অনুরাগ। তিনি তার নিজ গ্রামে শিক্ষা বিস্তারে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছেন। তার মায়ের জমিতে প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয়ে তিনি পৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তার মৃত্যুতে বাংলা ভাষা ও শিল্পাঙ্গণে অপূরণীয় ক্ষতি হলো।
উল্লেখ্য, ১৯৪০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের নড়াইলের ভদ্রবিলা গ্রামে শুভ্রা মুখার্জীর জন্মগ্রহণ করেন। স্থানীয় চাঁচড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তিনি প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। কলকাতায় গিয়ে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে অধ্যাপনা শুরু করেন। ১৯৫৭ সালের ১৩ জুলাই প্রণব মুখার্জীর সাথে তার বিয়ে হয়। রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী হিসেবে সুনাম কুড়ানো শুভ্রা মুখার্জীর ভালো চিত্রশিল্পীও ছিলেন। তিনি একজন সুলেখিকা, ‘চোখের আলোয়’ ও ‘চেনা অচেনায় চিন’ শীর্ষক দু’টি গ্রন্থের রচয়িতা। লিখেছেন অসংখ্য গল্প, প্রবন্ধ ও ফিচার। ২০১৩ সালে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর বাংলাদেশ সফর করার সময় তিনি সফরসঙ্গী ছিলেন এবং সে সময় নিজ জন্মভূমি পরিদর্শন করেন। শুভ্রা মুখার্জীর নয়াদিল্লীর একটি সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ মঙ্গলবার সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন।
উপাচার্য তার আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তার পরিবারের শোক-সন্তপ্ত সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।

