অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বারবার তাগাদার কারণে ব্যাংকগুলো পুনঃতফসিলীকরণের মাধ্যমে খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর চেষ্টা করে আসছে। তবে এবার এর সঙ্গে আদায় বৃদ্ধির ফলে কমেছে খেলাপি ঋণের পরিমাণ। ব্যাংক খাতের খেলাপি ঋণ ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ থেকে কমে জুন শেষে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশে।
ব্যাংকগুলোর জুন ভিত্তিক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গত মার্চ প্রান্তিক শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৬৫৮ কোটি টাকা। যা বিতরণ করা ঋণের ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ। গত জুন শেষে তা কমে ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। যা বিতরণ করা ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ দুই হাজার ১৪২ কোটি টাকা কমে গেছে।
তথ্যানুযায়ী, জুন পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি ৫২ হাজার ৫১৬ কোটি টাকা যা মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ। যেখানে গত মার্চ পর্যন্ত ব্যাংকগুলোর মোট ঋণ স্থিতি ছিল ৫ লাখ ২২ হাজার ২৬৬ কোটি টাকা আর খেলাপি ছিল ১০ দশমিক ৪৭ শতাংশ।
এর আগে ব্যাপক পুনঃতফসিলের সুযোগে গত ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ অনেক কমেছিল। গত সেপ্টেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বর খেলাপি ঋণ ৭ হাজার ১৩৬ কোটি টাকা কমে ৫০ হাজার ১৫৬ কোটি টাকায় নেমে আসে। যা ছিল মোট ঋণের ৯ দশমিক ৬৯ শতাংশ।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের শুরুতে নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা হলে তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে বাংলাদেশ ব্যাংক রাজনৈতিক কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের খেলাপি ঋণ মাত্র ৫ শতাংশ ডাউনপেমেন্ট (এককালীন জমা) দিয়ে পুনঃতফসিল করার সুবিধা দেয়। এই সুবিধায় ১২ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল হয়েছে। তবে পুনঃতফসিলেরই একটি অংশ আবার খেলাপিতে পরিণত হওয়ায় মার্চে তা আবার বেড়ে যায়। আর এতে সবচেয়ে ভূমিকার রেখেছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো।
তবে গত প্রান্তিকে ব্যাংকগুলোর আদায় বাড়ার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ আবার কমেছে।
ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ কমে যাওয়াটা বিনিয়োগকারীদের জন্যও একটি সুখবর। কারণ, খেলাপির কারণেই ঋণের সুদের হার কমছে না।
খেলাপি ঋণ কমে যাওয়ার ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি বেসরকারি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী বলেন, গত বছরে ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দার কারণে ব্যাংকগুলোকে সতর্কভাবে হাঁটতে হয়েছে। সময় উচ্চ সুদের আমানত ফেরত দেয়া হয়, পরিচালন ব্যয়ও কমানো হয়। অন্যদিকে খেলাপী হয়ে যাওয়া ঋণ আদায়ের দিকে ব্যাংকগুলো বাড়তি গুরুত্ব দেয়ায় খেলাপি ঋণ কমেছে।
এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর এসকে সুর চৌধুরী বলেন, ‘খেলাপি ঋণ ১০ শতাংশের নিচে নামা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। ঋণ আদায় কার্যক্রম আরও বাড়াতে পারলে খেলাপি ঋণের হার ৮ শতাংশের নিচে নামানো সম্ভব হবে।’
রাষ্ট্রীয় মালিকানার ব্যাংকগুলোর ঋণ বিতরণের পরিমাণ অনেক বেশি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ জন্য এসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণও বেশি। খেলাপি ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সর্বদা তাদের তাগিদ দিচ্ছে। সম্প্রতি এসব ব্যাংকের এমডি ও চেয়ারম্যানদের নিয়ে বৈঠকে এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।’

