ঢাকাMonday , 17 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রোদ-বৃষ্টি-ঝড়ে জাতির ভবিষ্যত

Link Copied!

schoolগাইবান্ধা প্রতিনিধি : কক্ষ নেই, ভবন থাকলেও অকেজো, নেই বসার বেঞ্চ, শিক্ষক স্বল্পতা, ক্লাস হয় মাঠে। তাও আবার শিক্ষার্থীদের পালা করে ক্লাস করতে হয় প্লাস্টিকের বস্তার উপর বসে। রোদ, বৃষ্টি ও ঝড়সহ নানান সমস্যায় জর্জরিত কোমলমতি শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা তথা জাতির ভবিষ্যত।
গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার হাতিবান্ধা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। একদিকে রংপুর জেলার সীমানা অপরদিকে গাইবান্ধা। বিশাল এলাকা জুড়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় এলাকার লোকজনের উদ্যোগে গড়ে ওঠে শিশুদের শিক্ষার জন্য বিদ্যাপীঠ।
গ্রামের লোকের মুষ্টির চাল, বাড়ি বাড়ি চাঁদা আদায় এবং যে যেভাবে সম্ভব স্কুল প্রতিষ্ঠার জন্য সহযোগিতা করে। শুধু তাই নয়, স্কুলের জন্য বিশাল মাঠের জন্য জায়গা দান করেন। আর স্থানীয় দানশীল ও বিদ্যানুরাগী মানুষের আর্থিক সহায়তায় ১৯৭৫ সালে গড়ে ওঠে।
সেই সময়ে উপজেলা শিক্ষা বিভাগ ও স্থানীয় মানুষের সহায়তায় নির্মাণ করা হয় হাতিবান্দা বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাইমারি স্কুল ভবন।
বিশাল প্রশস্ত মাঠ, ভবন, সবই হয় স্থানীয় মানুষের অনুদানে। প্রয়োজনীয় শিক্ষার্থী আছে এখানে। কিন্তু দীর্ঘ ২০০৯ সালে স্কুল ভবনের পলেস্তরা খসে পড়তে থাকে। ভবনের ইট রড, বের হয়ে যায় অবহেলায় জর্জরিত অবস্থায় পরে আছে। এ অবস্থায় স্থানীয় মানুষের চাপের কারণে কোমলমতি শিশুদের ভবন থেকে বাইরে শিক্ষাক্রম চালু রাখা হয়। ভর্তি হয় আশেপাশের কয়েক গ্রামের অন্তত ৩ শতাধিক শিক্ষার্থী। জমে ওঠে স্কুল। স্কুলের কার্যক্রমে সন্তষ্ট হয়ে সরকারিভাবে বাথরুম ল্যান্ট্রিন, টিউবওয়েলসহ নানা শিক্ষা সরঞ্জাম প্রদান করা হয়। দেয়া হয় চেয়ার টেবিল ও বেঞ্চসহ অন্যান্য আসবাবপত্র। কিন্তু স্কুল কার্যক্রম চালু থাকলেও বয়সের কারণ স্কুল ভবনে দেখা দেয় ফাটল, ভেঙে যায় চেয়ার টেবিল বেঞ্চসহ আসবাবপত্র ।
খসে পড়ে ছাদ ও বিল্ডিংয়ের পলেস্তরা। তারপর কয়েকবার ভূমিকম্পনের পর স্কুলের নানান জায়গায় ফাটল দেখা দেয়। রাতে বিল্ডিংয়ের জালানা দিয়ে চুরি যায় আসবাবপত্র। বাকিগুলো সব ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়ে।
তারপর কয়েক দফা ভূকম্পনে ক্ষতিগ্রস্ত হয় ভবন। তারপর থেকে স্কুলের ক্লাস হচ্ছে স্কুলের মাঠে। ঝড়, বৃষ্টি ও রোদে পুড়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীরা ক্লাস করেন। তবু জায়গা নেই । নিচে প্লাষ্টিকের বস্তায় চারকোনা হয়ে বসে ক্লাস । এক কোনে শিক্ষক । তারপর যারা বসতে পারেনা । তারা দাড়িয়ে ক্লাস করে । তাছা[ড়া অন্যান্য ক্লাসের বসার ব্যবস্থা না থাকায় তারা অপেক্ষা করেন অন্যক্লাসের ছুটি অপেক্ষায় ।
এলাকাবাসী আব্দুর রহমান জানান, আমরা আর রানা প্লাজা ট্রাজেডির মতো ঘটনা দেখতে চাই না । আমরা টাকা চাইনা, চাই বাচ্চাদের নিরাপত্তা ও শিক্ষা । আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে এবং পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয় সেজন্য ভবনটি করে দেয়া হোক । কখন জানি তাদের মাথায় ছাদ ভেঙে পড়ে । এই নিয়ে বিপাকে পরেছেন অবিভাবক-শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা বলেন, স্কুলে টয়লেট নেই, নেই টিউবওয়েল। সেজন্য অন্যের বাড়িতে গিয়ে পানি খেতে হয়। মাঠে বসে ক্লাস করায় আমরা পড়ায় মনোযোগ দিতে পারি না।
শিক্ষক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘স্কুলের খাতাপত্র রাখার মতো জায়গা নেই, চেয়ার নেই আমাদের বসার জন্য। আমরাও ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে বসে পড়াই। আমাদের সমস্যা অনেক। শিক্ষার্থীরা তবু এবাড়ি ওবাড়ি যেতে পারে। কিন্তু আমরা প্রাকৃতিক কাজ সমাধান করি ক্যামনে।’
এ ব্যাপারে সুন্দরগঞ্জ আসনের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন বলেন, ‘স্কুলের এ ধরনের সমস্যার কথা তার জানা নাই। কারণ আমরা ৪০টি স্কুলে টিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করেছি। তারা যোগাযোগ করলে হয়তো স্কুলের উন্নয়নে কাজ করতে পারতাম।’