অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নতুন কোনো ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্ট (শিল্পকারখানায় স্থপিত ক্ষুদ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন জেনারেটর) জন্য গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করেছে সরকার। গত ১০ আগস্ট এ সংক্রান্ত চিঠি ইস্যু করেছে জ্বালানি ও খনিজ বিভাগ। গ্যাসের অপচয় রোধ করতে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বছরখানেক থেকে এ বিষয়ে বলা হলেও এবার সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলো।
জ্বালানি এবং খনিজ সম্পদ বিভাগের সহকারী সচিব শিরীন সুলতানা স্বাক্ষরিত ১০ আগস্টের চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টের জন্য পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত গ্যাস সংযোগ প্রদান না করার বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’ অর্থাৎ এখন থেকে নতুন আর কোনো শিল্প উদ্যোক্তা ক্যাপটিভ পাওয়ার প্ল্যান্টে গ্যাস সংযোগ পাবে না।
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘নতুন গ্যাস সংযোগ এবং লোড বৃদ্ধির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত কমিটির বৈঠকে গত বছর ২৯ ডিসেম্বরের এক বৈঠকে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’
এ প্রসঙ্গে জ্বালানি বিভাগের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, একসময় দেশে ঘাটতি থাকায় শিল্প মালিকরা নিজেরাই বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নিলে সরকার গ্যাস সরবরাহ করে। কিন্তু ক্যাপটিভ জেনারেটরগুলো খুব বেশি অদক্ষ। এগুলোতে সাধারণ বিদ্যুৎকেন্দ্রের চেয়ে অন্তত ৩০ শতাংশ বেশি জ্বালানি অপচয়ের অভিযোগ রয়েছে। অর্থাৎ যে পরিমাণ গ্যাস ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্র ব্যবহার করে তা দিয়ে কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে অন্তত শতভাগ বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
ওই কর্মকর্তার আরো জানান, বর্তমানে দেশে গ্যাসের মজুদ কমছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়েছে। ফলে সরকার জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য অদক্ষ খাতে গ্যাসের ব্যবহার কমাতে চায়। এজন্য নতুন শিল্প উদ্যোক্তাদের এখন থেকে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে।
পেট্রোবাংলা বলছে, এখন ক্যাপটিভ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৪৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে ৩৮০ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়। যা থেকে এক হাজার থেকে বারোশো মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্রে এই পরিমাণ গ্যাস দিয়ে প্রায় দুই হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

