স্পোর্টস ডেস্ক : বিশ্বকাপের সময় থেকেই জাতীয় দলের বাইরে পেসার আল-আমিন হোসেন। আবারও জাতীয় দলে ফিরতে উন্মুখ হয়ে আছেন ডানহাতি এ পেসার। জাতীয় দলে খেলাটা সব সময় এক ধরণের চ্যালেঞ্জ বলে জানান তিনি।
অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের মাঝামাঝি সময়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে না খেলেই দেশে ফিরে আসতে হয়েছিল আল-আমিন হোসেনকে। তারপর থেকে আর জাতীয় দলে ডাকও পড়েনি ডানহাতি এ পেসারের। তবে এখনও জাতীয় দলের খেলার আশা ছাড়েননি তিনি।
আগামী মৌসুমের ঘরোয়া ক্রিকেট লিগকেই টার্গেট করছেন আল-আমিন। অক্টোবর থেকে একে একে মাঠে গড়াবে ঘরোয়া ক্রিকেটের আসরগুলো। জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল), বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ (বিসিএল), বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) এবং ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে (ডিপিএল) ভালো করে আবারও জাতীয় দলে ফিরতে চান বলে জানান তিনি।
মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে গিয়ে শনিবার জাতীয় দলে আবারও ফেরা প্রসঙ্গে আল-আমিন বলেন, ‘আপাতত জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা হচ্ছে ম্যাচ খেলা। আসলে সামনে প্রচুর খেলা আছে। বিশেষ করে বিপিএল, বিসিএল, ন্যাশনাল লিগ, ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ আছে। তো আমার মনে হয় এখানে যে চার পাঁচটা ফরম্যাটের খেলা আছে, এগুলোতে যদি ভালো পারফর্ম করতে পারি, তাহলে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সহজ হবে।’
জাতীয় দলের বাইরে থাকা অবস্থায় নিজের সঙ্গেই প্রত্যেক ক্রিকেটারের যুদ্ধ করতে হয়। এই বিষয়ে ডানহাতি এ পেসার বলেন, ‘আসলে সব সময়ই জাতীয় দলে খেলাটা চ্যালেঞ্জ। জাতীয় দল ভালো করুক বা খারাপ করুক, সেটা আসলে বিষয় না। যে খেলছে বা যারা খেলতো তারা ভালো করছে কি না, সেটাই আসল বিষয়। আর যখন জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ে যাই, তখন ফেরাটা আরও বেশি চ্যালেঞ্জ হয়ে যায় বলে আমি মনে করি। তাই দলে ফেরার জন্য যা যা করা দরকার, ব্যাটিং, বোলিং, ফিটনেস সব কাজগুলোই করছি।’
বাংলাদেশ জাতীয় দলে খেলা থাকা অবস্থায় কেউ যদি হঠাৎ করে বাদ পড়ে যায়। তাহালে তাকে আবারও দলে ফিরে আসতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। তখন অনেক সময় ওই সমস্ত ক্রিকেটারদের মানসিক অবস্থা খুব একটা ভালো থাকে না।
তখন মানসিক অবস্থা কেমন থাকে জানতে চাইলে আল-আমিন বলেন, ‘মানসিক অবস্থা স্বাভাবিকের তুলনায় খারাপ থাকাটাই বাস্তবতা। কারণ জাতীয় দলে খেললে এক ধরণের মানসিকতা থাকে এবং না খেললে আরেক ধরণের মানসিকতা থাকে। কারণ জাতীয় দলে খেললে সব সময় খেলার ভেতরেই চিন্তাভাবনা থাকে। আর যদি না খেলি, তখন খেলার জন্য, নিজেকে ফেরানোর জন্য একটা প্রবণতা সব সময়ই কাজ করে, ভাল খেলা বা খারাপ খেলা।’
মাঠে থাকলে মানসিক চাপ কম থাকে বলে মনে করেন আল-আমিন হোসেন। তাই সব সময় মাঠে থাকার ইচ্ছেও আছে তার। এ জন্য সব সময় খেলার মধ্যে থাকার চেষ্টা করেন তিনি। এ বিষয়ে আল-আমিন বলেন, ‘আপনি যখন মাঠে থাকবেন মানসিক চাপ কম থাকে বলে আমি মনে করি। কারণ আপনি যখন নিয়মিত কাজ করবেন বা নিয়মিত খেলার ভেতর থাকবেন তখন ওই চাপগুলো খুব কম থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের যে এইচপির প্রোগ্রাম আছে, পনি নামে একটা প্রোগ্রাম চালু করেছে ক্রিকেট বোর্ড। ওখানে আছি আমরা। যারা জাতীয় দল থেকে সম্প্রতি বাদ পড়েছি। ওখানে খুব ভালো কাজ হচ্ছে। তাই মানসিক ভাবে ওই রকম কিছু মনে হচ্ছে না আমার কাছে।’
তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে তেমন কোনো চিন্তা নেই আল-আমিনের। কারণ বর্তমানে দল অনেক ভালো খেলছে। তাই জাতীয় দলে ঢুকতে হলে খেলা দিয়ে ঢুকতে হবে। যেহেতু সামনে কোনো খেলা নেই, যে ওটাতে ভালো করে আবারও দলে ফিরে আসবেন।
সেপ্টেম্বরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসবে অস্ট্রেলিয়া দল। অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে আল-আমিন বলেন, ‘চিন্তা নাই এটা আসলে ভুল। যদি চিন্তা না থাকতো তাহলে তো অনুশীলন বন্ধ করে দিতাম, তাই না? এটা আসলে নির্বাচক যারা আছে, আমাদের নিয়ে প্ল্যান করে তারা বুঝবে। না হলে তো পনি যে প্রোগ্রাম আছে এই প্রোগ্রামে আমাদের নিয়ে কাজ করত না বলে আমি মনেকরি। এখানে এইচপির সঙ্গে আমাদের অনুশীলন ম্যাচ আছে। সবকিছুই হচ্ছে আরকি। তো কে কখন জাতীয় দলে ঢুকবে না ঢুকবে এটা বলা কঠিন। যখন নির্বাচক, কোচ প্ল্যান করে তখন ঐ প্ল্যানের অংশ হয়ে তাকে জাতীয় দলে ঢুকতে হয়।’
অনেকে হয়তো মনে করছেন নতুন বোলিং অ্যাকশনের কারণে জাতীয় দলে আর ঢুকতে পারছেন না আল-আমিন। কারণ আগের মতো আর রিদম পাচ্ছেন না এ ডানহাতি পেসার। তবে এই খোঁড়া যুক্তি মানতে নারাজ তিনি।
এ বিষয়ে আল-আমিন বলেন, ‘আসলে নতুন অ্যাকশন বলতে আমি তো বুঝতে পারছি না। আমি তো বোলিং অ্যাকশন পরিবর্তন করি নাই। আমার তো সবসময়ই রিদম আছে। কারণ বিসিএল হলো, সেখানে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হলাম। আবার এইচপির সঙ্গে মাচ খেললাম। ওখানেও খুব ভালো বোলিং করেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে সবকিছু ঠিক আছে।’
রিদম এবং বোলিংক অ্যাকশন সবকিছু ঠিক থাকার পরও কেন জাতীয় দলে নেই এটা ঠিক বুঝে উঠতে পারছেন না আল-আমিন। তাই এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টাও করছেন না তিনি। তার কাছে মনে হয়েছে জাতীয় দলের খেলার জন্য নির্বাচকরা তাকে এখনও যোগ্য বলে মনে করছেন না বলে জানান আল-আমিন।
সবকিছু ঠিক থাকার পরও বর্তমানে জাতীয় দলে না থাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এটা তো আসলে আমি কিভাবে বলব যে, আমি কিসের জন্য দলের বাইরে আছি। আমার কাজ হচ্ছে পারফর্ম করা। যখন দলে নেবে তখন পারফর্ম করব। কি জন্যে নিচ্ছে না, এটা তো বলা কঠিন। আপনারাই বলতে পারবেন, আসলে আমি কি কারণে দলে নাই। তবে আমি মোটেও হতাশ নই । কারণ সব সময়ই জাতীয় দলে ঢোকা সম্ভব। বিশেষ কিছু করলে সব সময়ই দলে ঢোকা সম্ভব বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনেকরি।’

