স্পোর্টস ডেস্ক : শ্রীলংকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ শুরুর আগেই কথার খই ফুটিয়েছিল ভারত। কী মিডিয়া আর কী ক্রিকেট বোর্ড- কেউ বাদ ছিল না। মনে হচ্ছিল যেন, শ্রীলংকা গেছে তো জয় লেখা হয়ে গেছে। খেলাটা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা। শুধু তাই নয়, গল টেস্টের প্রথম তিনদিন যখন ভারতীয়দের আধিপত্য, তখন সরব ভারতীয় মিডিয়া আর ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের কথা শুনে খেলা তো মাঠে হচ্ছে না যেন মুখে হচ্ছে। সেই ভারতই যখন চতুর্থ দিনে এসে লংকানদের এক ধাক্কায় আধাদিনও টিকতে পারলো না, টেস্ট হেরে বসলো- তখন সরব হলেন সুনিল গাভাস্কার। বললেন, ‘এবার দয়া করে সবাই কথা বলা বন্ধ করবে। ভালো ক্রিকেট খেলায় মন দেবে।’
বাংলাদেশ সফরেই টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছিল বিরাট কোহলির। ওই সফরে একমাত্র টেস্ট ম্যাচটি ভেসে গেছে বৃষ্টিতে। যে কারণে ভারতীয়রা শ্রীলংকা সফরকেই কোহলির জন্য আসল পরীক্ষারূপে চিহ্নিত করে। একই সাথে চলতে থাকে ভারতকে উপদেশ দেওয়ার কাজ। ‘আগ্রাসী হও’, ‘ঘুঁড়িয়ে দাও’ ‘প্রতিপক্ষকে সুযোগ দেবে না’- এমন কথাবার্তা বলে যখন কোহলিকে তাতানোর চেষ্টা চলেছে তখন চুপই ছিলেন গাভাস্কার। নীরবে বসে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলেন আর মনে মনে যেন ফুঁসছিলেন। কিন্তু গল টেস্টে এসে চতুর্থ দিনে এসে মাত্র ১৭৬ রানও যখন তাড়া করে জিততে পারলো না, তখনই তিনি ক্ষেপে উঠলেন। বললেন, ‘এমন পরিস্থিতি থেকে হেরে যাওয়াটা দুঃখজনক।’
রঙ্গনা হেরাথের অসাধারণ বোলিং তোপের মুখে পড়ে যখন মাত্র ১১২ রানেই গুঁড়িয়ে গেলো ভারত, তখন এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাভাস্কার বলেন, ‘আমি মনে করি এবার আক্রমণাত্মক আর পরীক্ষামূলক সব কথা-বার্তা বলা বন্ধ করা উচিৎ। ক্রিকেট ছেড়ে আমরা কথা বলার দিকেই সবচেয়ে বেশি মনযোগি হয়ে পড়েছি। এবার আমার মনে হয়, কথা ছেড়ে ভালো খেলার দিকে মনযোগি হওয়া উচিৎ। মাঠে খেলতে গিয়ে শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোন কিছু আগে থেকে যাচাই করতে পারি না আমরা। আমাদের উচিৎ শুধুই খেলায় মনযোগ দেওয়া। যেটা হবে দলের জন্য খুবই ভালো। তাহলেই আমাদের দলের অবস্থান অনুযায়ী আমরা ভালো খেলতে পারবো। উইকেটে গিয়ে তার চরিত্র বুঝতে পারবো। এমনকি প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও ভালো ধারনা নিয়ে খেলতে নামতে পারবে তারা।’
গাভাস্কার আরও বলেন, ‘এটাই হলো ক্রিকেট খেলার আসল রীতি। তাতেই একটি দল আক্রমনাত্মক। এই ক্রিকেটাই এখন বন্ধ হয়ে গেছে। সুতরাং, এখন আমাদের সবচেয়ে বেশি মনযোগ দিতে হবে ভালো ক্রিকেট খেলার দিকে। ভালো ক্রিকেট খেলার জন্য এসবই খুব গুরুত্বপূর্ণ। যদি তা হয় রক্ষনাত্মক কিংবা আক্রমনাত্মক ক্রিকেট, তাতে কোন সমস্যা দেখি না আমি। কারণ, দিন শেষে সবাই চান নিজের দলটাকে জয়ী হিসেবে দেখতে। এটাই খুব সাধারণ কথা।’
শ্রীলংকাকে প্রথম ইনিংসে ১৮৩ রানে অলআউট করে দেওয়ার পর ৩৭৫ রান করেছিল ভারত। তাতে ১৯২ রানের লিড পেয়েছিল তারা। কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসে দিনেশ চান্ডিমালের ১৬২ রানের অসাধারণ ইনিংসই শ্রীলংকাকে লড়াইয়ে ফিরিয়ে আনে। যেখান থেকে আর ফিরতে পারেনি ভারত। গাভাস্কার এই অবস্থা থেকে হারকে বললেন খুবই দুঃখজনক। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি এবং আশা করি ভারত ঘুরে দাঁড়াবে। কারণ, এটা এমন এক হার যা কোন একটি দলকে নৈতিকভাবে দুর্বল করে দেয়। যে কারণে, আমি ক্রিকেটারদের বলবো, তোমরা হেরে গেছ, তাতে কোন সমস্যা নেই। সামনের টেস্ট নিয়ে ভাবো এবং ভালো করার চেষ্টা করবো। বিরাট কোহলি এবং রবি শাস্ত্রির জন্য এটাই সেরা সময়, দলটাকে নৈতিকভাবে সামনে তুলে আনা এবং সাফল্য ছিনিয়ে আনা।’

