ঢাকাFriday , 14 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সাগর-শম্পার কাছে আসার গল্প

Link Copied!

sagor-sompaবিনোদন ডেস্ক : ফাগুন মাস। এফডিসির ক্যান্টিনের সামনের শিমুলগাছে যেন আগুন লেগেছে। শিমুল ফুলের পাপড়ি ছড়ানো আছে গাছতলায়। ফুলের বিছানা মাড়িয়ে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে মেয়েটি। চোখে মুখে উত্তেজনা। বার বার হাত ঘড়িতে চোখ বুলিয়ে নিচ্ছেন। পাতার ফাঁক গলিয়ে সোনালী রোদ্দুর খেলা করছে তার চোখে মুখে গালে। ঢাল হিসেবে হাতটা কপালের উপর রাখলেও মুক্তি মিলছে না।
রোদগুলো ভারি দুষ্ট! সুন্দরী মেয়েদের পিছু নিলে আর ছাড়ে না। মেয়েটির গায়ে কটকটে লাল জামা। কাঠফাটা রোদে জামা থেকে আগুন ঝরছে। ওড়নাটাও লাল। আঙ্গুলের নেইলপলিস লাল, লিপস্টিক লাল। এ যেন লালপরী। লালপরীর নাম শম্পা। ক্যাডেট কলেজে পড়াশোনা করে। স্বপ্ন দেখেন নায়িকা হবার। এসেছেন এনটিভির ‘সুপার হিরো-সুপার হিরোইন প্রতিযোগিতা-২০০৯’-এর অডিশনে।
সেদিন শ’খানেক তরুণ-তরুণী এসেছিল শিমুলতলায়। লাইন ধরে একে একে অডিশন দিয়েছে। সেদিন অনেকের মতো দিনাজপুরের সাগরও এসেছিল। সাগর তখন একেবারে নতুন নয়। তবে নাম-ধাম খুব একটা করতে পারেননি। কয়েকটা মিউজিক ভিডিওতে কাজ করছেন। একটা প্লাটফর্ম খুঁজছেন। ভিড়ের মাঝে কেউ কেউ সাগরকে চেনে ফেলে। ‘আপনাকে ওই ভিডিওতে দেখেছিলাম!’ শম্পার ওইদিকটায় খুব একটা আগ্রহ নেই। কারণ তখন সাগরের কোন কাজই দেখেননি। দুজনের পরিচয়টা ছিল ‘ফরমাল’। হাই, হ্যালোই মিলিয়ে যায়।
তারপর? গল্পটা সিনেমার মতো। নায়ক ও নায়িকা দুজনেই অডিশনে টিকে গেল। রোজ রোজ দুজনের দেখা হয়। কথা হয়। তর্ক-বিতর্ক হয়। আড্ডা গল্পে জমে উঠে বন্ধুত্ব। এরই মধ্যে নির্মাতা মামুন খান জানালেন তাদেরকে নিয়ে একটা সিনেমা বানাবেন। ছবির নাম ‘আই লাভ ইউ প্রিয়া’। চরিত্রের প্রয়োজনে দুজনেই প্রথমবারের মতো প্রেমিক-প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন। নতুন জুটি হলে জড়তা কাজ করে। কিন্তু তাদের মধ্যে কোন জড়তা নেই। কে বলবে ওরা ইন্ডাষ্টিতে নতুন। পরিচালক তো অবাক।
ক্যামেরার সামনে দুজনের কেমিস্ট্রি দেখে শুটিয়ের লোকজন বলাবলি শুরু করল, ‘এদের মধ্যে অ্যাফেয়ার নেই তো!’ ঘটনাক্রমে কথা তাদের কানেও গেল। এর আগে কখনো সেভাবে তারা ভেবে দেখেনি। পর্দায় তাদের কেমিস্ট্রিটা নিয়েও নিজেরা অবাক। দুজনেই ভাবনার সাগরে ডুব দিলেন। মনকে বারবার প্রশ্ন করলেন, ‘প্রেমে পড়ে গেছি? ভাবতে ভাবতে সত্যি সত্যিই আবিস্কার করলেন, ‘একে অপরের উপর দুর্বল!’ এতদিন ব্যাপারটা জানত না কেন? আসলে তাদের মনে প্রেমের ঘন্টাটা অনেক আগেই বেজেছিল কিন্তু শুধু নাড়া দেয়ার অপেক্ষায় ছিল। কিন্তু সেই নাড়াটা আর কেউ দিতে পারছে না।
দুজনেই কথা কম বলেন। লাজুক। ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেনা। শম্পা আকারে ইঙ্গিতে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাগর অপেক্ষা করছিলেন শম্পাই ঘন্টা বাজাবে। অনেক অপেক্ষার পর হুট করেই একদিন শম্পা বলে বসল, ‘আই লাভ ইউ’। লাজুক সাগর বলল কিভাবে? ‘খুব সহজে কি আর বলেছে! ওকে অনেক খোঁচাতে হয়েছে। তারপর মুখ থেকে কথাটা বের করে এনেছিলাম।’-হাসতে হাসতে বললেন শম্পা।
দুজনে মিলে গেল ভালোবাসার বাঁধনে। দুজনেই নাকি কথাবার্তা কম বলেন। প্রেমটা জমল কিভাবে? ‘কথা কম বললেও আমরা একে অপরকে খুব বুঝি।’ জানালেন সাগর। আর শুটিংয়ের ফাঁকে যতটা সময় পান দুজন একসঙ্গে কাটান। বেড়িয়ে পড়েন দুরে কোথাও। নিয়ন বাতির আলোয় রমনায় বসে চুটিয়ে প্রেমালাপ জমান।
ঘুরতে বেরুলে প্রায়ই একটা কান্ড ঘটে। বেরুনার সময় শম্পার সাজুগুজু করতে আধাঘন্টার মতো সময় লাগে। একবার সাগর বেরুবার আগেই শম্পাকে ফোন দিয়ে বললেন, ‘আমি তোমার বাসার নিচে।’ শম্পা তড়িঘড়ি করে বেরিয়ে দেখে নেই! তারপর থেকে সাগর যখনই নিচে নামতে বলুক তার আধাঘন্টা পর নিচে নামে। সাগর রাগে গাল ফুলিয়ে রাখে। তবে মন ভালো হতে সময় লাগে না। মন ভালো করতে শম্পা নানা আয়োজন করেন।
আবার শপিংয়ে বের হন কখনো সখনো। ঘুরে ঘুরে পছন্দের পণ্য কেনেন। আর একজন আরেকজনকে পছন্দসই উপহার দেন। সাগরকে ঘড়ি, বই উপহার দেন। সাগর দেশের বাইরে গেলে শম্পা জন্য শাড়ি আনতে ভোলেন না।
তাদের লাভস্টোরিটাও অনেকটাই সিনেম্যাটিক। দুজনে সিনেমায় ও বাস্তবেই প্রেম করছেন। দুই জগতের পার্থক্য কোথায়? ‘একটাতে ডায়লগ শিখিয়ে দেয়া হয়। আরেকটি নিজে নিজেই ডায়লগ তৈরী করতে হয়। সিনেমার চেয়ে বাস্তবের প্রেম কখনো ভালো অথবা কখনো কখনো মন্দও হতে পারে।’-বললেন শম্পা।
তবে অভিনয়শিল্পীদের বাস্তব জীবনে একটা ঝামেলায় পড়তে হয়। কোন কথাটা সিরিয়াসলি বলছেন আর কোন কথাটি সত্যি সত্যিই বলছেন সেটা বোঝা মুশকিল! যেমনটি জানালেন শম্পা, ‘এ ব্যাপারে ও কিছু বলে না। তবে আমি মাঝে মাঝেই খোঁচা দেই। বাংলা সিনেমার নায়কের সঙ্গে প্রেম করছি। কখন অভিনয় করো আর কখন বাস্তবে ফিরে আসো বুঝি না! স্ক্রিনের সাগরের চেয়ে বাস্তকের সাগরই আমার প্রিয়।’
প্রণয়ের ছয়বছরে এসে পরিণয়ে আবদ্ধ হচ্ছেন দুজন। আজই গাঁছছড়া বাঁধছেন। অর্থাৎ বিয়ে পিঁড়িতে বসছেন। নতুন করে জীবনের পথচলা শুরু করছেন। হাতে হাত রেখে দেবেন জীবনটা। কিন্তু আগুন ঝরা সেই ফাগুনের দিনটাকে ভুলতে পারবেন?