স্পোর্টস ডেস্ক : এটাকে শুধু নাটক বললেও যে কম বলা হবে! এতটা নাটকীয়তা কি কেউ ভেবেছিল। ম্যাচে মোট গোল হলো ৯টি। খেলা ১২০ মিনিটের। এরপরই কাংখিত জয়টি হাতে এলো বার্সেলোনার। সেভিয়াকে ৫-৪ গোলে হারিয়ে বছরের চতুর্থ শিরোপা উয়েফা সুপার কাপ জিতে নিল লিওনেল মেসিদের বার্সেলোনা।
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি আর ইউরোপা লিগের দুই চ্যাম্পিয়নকে নিয়েই অনুষ্ঠিত হয় উয়েফা সুপার কাপের খেলাটি। একটি মাত্র ম্যাচ। তাতেই শিরোপা নির্ধারণ। এবারের দুই লিগেরই চ্যাম্পিয়ন দুই স্প্যানিশ দল বার্সেলোনা এবং সেভিয়া। যদিও দু’দলকেই খেলতে হয়েছে গিয়ে জর্জিয়ায়।
শুরুতেই কিন্তু এতটা চমক ছিল না। দেখেই মনে হচ্ছিল যেন ম্যাচটা এক তরফাভাবে বার্সেলোনাই জিততে যাচ্ছে। কারণ, ক্লাবের জার্সিতে সেই পুরনো চেহারায় মেসির আবির্ভাব, ভক্তদের মুখে হাসিই ফোটাচিছল।
কিন্তু দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যেভাবে প্রবল প্রতিরোধে ঘুরে দাঁড়ায়, তেমনি ঘুরে দাঁড়িয়েছে সেভিয়াও। যেভাবে ব্যবধান ছিল ৪-১, সেখান থেকে নির্ধারিত ৯০ মিনিটের আগেই ৪-৪ করে ফেলে সেভিয়া। নাটকটা বেশ জমে গেল। এরপর খেলা গড়াল অতিরিক্ত আধ ঘণ্টায়।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ৮টা গোল হয়ে গেলো। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে এসে এবার যেন গোল খরা। কেউই জাল খুঁজে পাচ্ছে না। অবশেষে বার্সার ত্রাতা হলেন পেদ্রো। মাচেরানোর পরিবর্তিত হিসেবে নেমেছিলেন অতিরিক্ত সময়েই। খেলা শেষ হওয়ার ৫ মিনিট আগে, অর্থাৎ ১১৫তম মিনিটে গোল করলেন তিনি। তাতেই বার্সার জয় চলে এলো ৫-৪ ব্যবধানে।
শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল বার্সেলোনাই। খেলার ৩ মিনিটে ফ্রি কিক থেকে গোল করে বার্সাকে কাঁপিয়ে দেন মেসিরই জাতীয় দলের সতীর্থ এভার বানেগা। তবে সমতায় ফিরতে বেশিক্ষণ সময় লাগেনি বার্সার।
খেলর ৭ম মিনিটেই ফ্রি কিক থেকে গোল করেন মেসি। ৮ মিনিট পর আবারও মেসি শো। ১৫ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় এবং দলেরও দ্বিতীয় গোল করেন তিনি। এটাও এলো ফ্রি কিক থেকে। অথ্যাৎ ম্যাচের প্রথম তিন গোলই এলো ফ্রি কিক থেকে।
প্রথমার্ধেই ব্যবধান বাড়িয়ে নেয় বার্সা। ৪৪ মিনিটে রাফিনহা। এরপর ৫২ মিনিটে গোল করে ব্যবধান ৪-১ করে ফেলেন লুইস সুয়ারেজ। এতবড় ব্যবধান তৈরি হওয়ার পর বার্সার নিশ্চিত জয়ই ধরে নিয়েছিল সবাই।
কিন্তু নাটক তো তখনও শুরুই হয়নি। শুরু হয়েছিল ৫৭ মিনিট থেকে। হোসে আন্তোনিও রেয়েসের ডান পায়ের শট কাঁপিয়ে দেয় বার্সার জাল। পরিণত হয় ৪-২ ব্যবধান। এরপর ৭২ মিনিটে কেভিন গ্যামেইরো ব্যবধান আরও কমিয়ে আনেন। পেনাল্টি থেকে গোলটি করেন তিনি।
৮১ মিনিটে নাটকের চূড়ান্ত রূপ দেন ইয়েভেন কনোপ্লিয়াঙ্কা। বাম পায়ের শটে সেভিয়াকে ৪-৪ সমতায় ফিরিয়ে আনেন তিনি। লড়াইটা বেশ ভালো করে জমিয়ে তুলেও শেষ পর্যন্ত যখন টাইব্রেকারে খেলাকে টেনে নেওয়ার অপেক্ষা করছিলো তারা, তখনই সর্বনাশ করে দেন পেদ্রো। বার্সার জয় ছিনিয়ে আনেন তিনি শেষ গোলটি করে।
গত মৌসুমে ট্রেবল জয়ের পর এলো আরেকটি শিরোপা। ফলে এক বছরে ছয়টি শিরোপা জিততে আর মাত্র দুটি (স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ) শিরোপা জিততে হবে মেসিদের।

