স্পোর্টস ডেস্ক : কুমার সাঙ্গাকারার বিদায়ী সিরিজের প্রথম টেস্টে সফরকারী ভারতের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে অশ্বিন ও অমিত মিশ্রর বোলিং তোপে পড়ে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলংকা। নিজের শেষের শুরুটা ভালো করতে পারেননি কুমার সাঙ্গাকারা। মাত্র ৫ রান করে ফিরে গেছেন তিনি। টপ-অর্ডার ব্যাটসম্যানতের ব্যর্থতায় ২০০ রানের আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
শ্রীলংকার হয়ে অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ৬৪ ও দিনেশ চান্দিমাল ৫৯ রান করে দলকে বড় সংগ্রহ পাইয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে অন্যান্যদের ব্যর্থতায় সেটা আর সম্ভব হয়নি।
ভারতের হয়ে দুর্তান্ত বোলিং করেন স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৪৬ রানের বিনিময়ে ৬ উইকেট লাভ করেন এই অফ-স্পিনার। অশ্বিনকে যোগ্য সঙ্গ দেন চার বছর পর ভারতীয় টেস্ট দলে ফেরা অমিত মিশ্র। অমিত মিশ্র ২০ রানে নেন দুই উইকেট। একটি করে উইকেট নেন বরুণ অ্যারন ও ইশান্ত শর্মা।
তবে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর ভারতীয় বোলারদের তোপের মুখে পড়ে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিক শ্রীলংকা। অশ্বিনের স্পিনে নাকাল হয়ে মাত্র ৬০ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারিয়ে রীতিমতো ধুঁকছে স্বাগতিকরা।
দলীয় সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে করুনারত্নকে সাজঘরে ফিরিয়ে লংকানদের বিপর্যয়ের শুরু করেন ইশান্ত শর্মা। ইশান্তর বলে আজিঙ্কা রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরের পথ ধরেন করুনারত্নে। দুই বলের ব্যবধানে বরুণ অ্যারনের করা অষ্টম ওভারের পঞ্চম বলে শিখর ধাওয়ানকে ক্যাচ দিয়ে করুনারত্নকে অনুসরণ করেন কুশল সিলভা। বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে পারেননি গলে শেষ টেস্ট খেলতে নামা সাঙ্গাকারা। অশ্বিনের বলে লোকেশ রাহুলকে ক্যাচ দিয়ে ফিরেন তিনি।
এরপর চতুর্থ উইকেটে অধিনায়ক ম্যাথিউজ জেহান মোবারককে নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করেন। তবে পরপর দুই ওভারে অশ্বিনের জোড়া আঘাতে ব্যাকফুটে চলে যায় লংকানরা। অশ্বিনের করা ২০তম ওভারের চতুর্থ বলে রাহানেকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন থিরিমান্নে। নিজের পরের ওভারে ফের লংকান শিবিরে আঘাত হানেন অশ্বিন। ২১তম ওভারের তৃতীয় বলে জেহান মোবারক লোকেশ রাহুলের হাতে ধরা পড়েন।
এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মধ্যাহ্ন বিরতির আগ পর্যন্ত স্বাগতিক শ্রীলংকার সংগ্রহ ৫ উইকেটে ৬৫ রান। অধিনায়ক ম্যাথিউজ ২৬ ও চান্দিমাল ৫ রান নিয়ে ক্রিজে রয়েছেন।
নিজের বিদায়ী সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি কুমার সাঙ্গাকারার। মাত্র ৫ রান করেই অশ্বিনের বলে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। সাঙ্গাকারার মতো ব্যর্থ হয়েছেন করুনারত্নে (৯), থিরিমান্নে (১৩), কুশল সিলভা (৫) ও জেহান মুবারকও (০)।
অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপ শেষেই ওয়ানডে ক্রিকেটকে বিদায় জানিয়েছেন কুমার সাঙ্গাকারা। ২০১৪ সালে বাংলাদেশের মাটিতে টি-২০ বিশ্বকাপ জিতে ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত সংস্করণকেও বিদায় জানিয়েছেন তিনি। আর আগামী ২০ আগস্ট থেকে শুরু হতে যাওয়া কলম্বো টেস্ট খেলেই টেস্টকে বিদায় জানানোর মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ইতি ঘটাবেন সাঙ্গা।
স্পিন পিচের কথা মাথায় রেখে তিন স্পিনার নিয়ে মাঠে নেমেছে ভারতীয় শিবির। স্পিন অ্যাটাকে হরভজন সিং ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনের পাশাপাশি অমিত মিশ্রও রয়েছেন। তিন স্পিনারের পাশে মাত্র দুই পেসার বরুণ অ্যারন ও ইশান্ত শর্মা সেরা একাদশে জায়গা পেয়েছেন।
অন্যদিকে সমান দুইজন করে স্পিন ও পেস বিশেষজ্ঞ বোলার লংকান একাদশে জায়গা পেয়েছেন। স্পিনে রঙ্গনা হেরাথ ও থারিন্দু কুশল রয়েছে। পেস আক্রমণে ধামিকা প্রাসাদ ও নুয়ান প্রদীপের পাশাপাশি অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ ও জেহান মুবারক তো রয়েছেনই।
১৯৯৩ সালে মোহাম্মদ আজহার উদ্দিনের নেতৃত্বে শ্রীলংকার মাটিতে ভারত সর্বশেষ টেস্ট সিরিজ জিতেছিল ১-০ ব্যবধানে। এরপর ২২ বছর কেটেছে, ভারতীয়রা কোনও টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি লংকানদের ঘর থেকে। এবার কোহলির দলের সামনে দারুণ সুযোগ। কারণ লংকার দলটি যে অনেকটা ভাঙা-গড়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে! এও ঠিক, তারা কিংবদন্তী সাঙ্গাকারার সম্মানজনক বিদায় দিতে চান এবং সেটা সিরিজ জিতেই।
অন্যদিকে ঘরের মাঠে দুই মাস আগে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে টেস্ট সিরিজ হারা শ্রীলংকা কুমার সাঙ্গাকারার বিদায়কে রাঙানোর জন্য জয়ের বিকল্প ভাবছে না।
সাঙ্গাকারাকে সম্মানজনক বিদায় জানানোর কথা জানিয়ে মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে ম্যাথিউজ বলেন, ‘আমরা সাঙ্গাকারাকে সম্মানজনক বিদায় জানাতে চাই। আর টেস্ট সিরিজ জিতেই তাকে স্মরণীয় বিদায় দিতে চাই আমরা।’
টেস্ট ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা তারকাদের একজন হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন কুমার সাঙ্গাকারা। ১৩২ টেস্টে ৫৮.০৪ গড়ে ১২ হাজার ৩০৫ রান করেন তিনি। টেস্টে ৩৮টি সেঞ্চুরি ও ৫২টি হাফ সেঞ্চুরি রয়েছে তার। টেস্টে পঞ্চম সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী এবং চতুর্থ সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিক সাঙ্গা। উইকেটের পেছনে ১৫১টি ডিসমিসাল করেন তিনি। এছাড়া খেলোয়াড় হিসেবে ৫১টি ক্যাচ লুফে নেন এই লংকান গ্রেট।
শ্রীলংকা: কুশল সিলভা, দিমুথ করুনারত্নে, কুমার সাঙ্গাকারা, লাহিরু থিরিমান্নে, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউজ (অধিনায়ক), দিনেশ চন্ডিমাল, জেহান মুবারক, ধামিকা প্রসাদ, থারিন্দু কুশল, রঙ্গনা হেরাথ, নুয়ান প্রদীপ।
ভারত: বিরাট কোহলি (অধিনায়ক), আজিঙ্কা রাহানে, রোহিত শর্মা, হরভজন সিং, রবিচন্দ্র অশ্বিন, শিখর ধাওয়ান, অমিত মিশ্র, বরুণ অ্যারন, ইশান্ত শর্মা, লোকেশ রাহুল, ঋদ্ধিমান সাহা।

