ঢাকাWednesday , 12 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুষ্টিয়ায় সোয়া ৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

Link Copied!

takaকুষ্টিয়া প্রতিনিধি : কুষ্টিয়ায় রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযানে ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
পুলিশ এই অভিযান সফল করতে প্রতিনিয়ত মোটরসাইকেল ধরার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
গত তিন মাসে জেলায় সহস্রাধিক মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করায় সরকারের রাজস্ব আদায় হয়েছে প্রায় সোয়া ছয় কোটি টাকা। যা অন্য সময়ের চেয়ে অনেক গুণ বেশি।
এদিকে সরকারের নির্দেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে এখনো অনেকে মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন না করে গোপনে মোটরসাইকেল চালিয়ে যাচ্ছেন। আবার অনেকে মোটরসাইকেল ঘরে তুলে রেখেছেন।
স্থানীয় মোটরসাইকেলের শো-রুম থেকেও রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল বিক্রি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। পুলিশ বলছে, প্রয়োজনে শো-রুমগুলোতে অভিযান চালানো হবে।
জানা যায়, কুষ্টিয়ায় মোটরসাইকেলের শো রুমগুলো থেকে মোটরসাইকেল ক্রয় করেও দীর্ঘদিন যাবৎ রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স না করে সড়কে দাপটের সঙ্গে অন টেস্ট, সাংবাদিক, পুলিশ, আর্মি, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ, আনসার, বিডিআর, ডাক্তার, আবেদনকৃত ইত্যাদি নামে নেমপ্লেট করে চলাচল করে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবণতির অন্যতম বাহক হিসেবে এসব লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হচ্ছে। লাইসেন্স বিহীন এবং রেজিস্ট্রি ছাড়া মোটরসাইকেল দিয়ে খুব সহজেই ক্রাইম করে চলে যাওয়াতে পুলিশের পক্ষে সন্ত্রাসীদের ধরতে বেগ পেতে হয়।
কুষ্টিয়া ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর ইমরান আলী জানান, মহাসড়ক ও সড়কে চলাচলকারী লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলে চলাচল করে অনেক সময় অপরাধীরা অপরাধ সংঘটিতের পর ধরা ছোঁয়ার বাইরে চলে যায়। এসব কিছু নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সরকার গত ১৫ জুলাই থেকে সারাদেশে বিশেষ অভিযান শুরুর নির্দেশ প্রদান করে।
অভিযানের শুরু থেকে কুষ্টিয়া পুলিশের উদ্যোগে জেলার সকল থানা, ফাঁড়ি এবং মহাসড়ক ও সড়কের বিভিন্ন স্থানে রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল আটক করা হয়। এতে আটককৃত মোটরসাইকেলের মালিকেরা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার রশিদ প্রদর্শনের পর সরকারি জরিমানার টাকা পরিশোধ করে মোটরসাইকেল ফেরত নিতে পারছেন।
তিনি আরো জানান, আটক মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে মামলা হওয়াতে সেখান থেকেও বিপুল পরিমান রাজস্ব আদায় হচ্ছে। এতে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। সড়কে লাইসেন্সবিহীন ও রেজিস্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেল খুবই কম চোখে পড়ছে।
কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তা মোড়ে অবস্থিত ভেনাস অটোজ শো-রুমের ম্যানেজার শহিদুল ইসলাম মঞ্জু জানান, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন করাতে ক্রেতারা প্রতিনিয়ত তাদের কাছে যাচ্ছেন। তারাও তাদের সাধ্য মতো সহযোগিতা করছেন। তবে ব্র্যাক ব্যাংকে টাকা জমা দিতে গিয়ে মোটরসাইকেল ক্রেতাদের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ব্র্যাক ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার ম্যানেজার শরিফুল ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন ফি জমা দেওয়ার জন্য ব্যাংকে স্পেশাল বুথ খোলা হয়েছে। প্রতিদিন লাইন দিয়ে বুথে টাকা জমা দিচ্ছে বিপুল সংখ্যক ক্রেতা। নির্দিষ্ট ফরমেটের মাধ্যমে ফি জমা নেওয়ার কারনে সময় বেশি লাগছে।
বিআরটিএ কুষ্টিয়া অফিসের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান, রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স বিহীন মোটরসাইকেলের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু হওয়াতে গত তিন মাসে এখাতে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬ কোটি ২১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭১ টাকা। যা অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
তিনি জানান, মে মাসে ২০৯টি মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন করে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ২৫ লাখ ৫৬ হাজার ৬৯৬ টাকা। এর মধ্যে ভ্যাট আদায় হয়েছে ১২ লাখ ৬০ হাজার ৫৮২ টাকা, জুন মাসে সর্বোচ্চ ৩৬১টি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন হয়েছে যা থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৭২ হাজার ১৮ টাকা। এর মধ্য ভ্যাট আদায় হয়েছে ২৮ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯২ টাকা। জুলাই মাসে ২৫০টি গাড়ি রেজিস্ট্রেশন করে রাজস্ব আদায় হয়েছে ২ কোটি ৪৬ লাখ ৭ হাজার ৯১৮ টাকা। এর মধ্য ভ্যাট আদায় হয়েছে ২৪ লাখ ৬৭ হাজার ৯১৮ টাকা। এখন বিপুল সংখ্যক গাড়ির কাগজ রেজিস্ট্রেশন হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
সরকারি বিধি মোতাবেক শো-রুম থেকেই মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন হয়ে রাস্তায় গাড়ি নামার কথা, কিন্তু শো-রুম মালিকেরা সরকারের এই বিধান মানছেন না বলে জানান তিনি।