অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : নৌ-পথের নাব্যতা উন্নয়নে ‘২০টি ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ’ নামে ২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্পসহ মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
মঙ্গলবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেকের নিয়মিত বৈঠকে প্রকল্পগুলোর অনুমোদন দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘একনেক বৈঠকে ২ হাজার ৩৮৪ কোটি ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে মোট ৭টি প্রকল্পের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়ন করা হবে।’
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘২ হাজার ৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০টি ড্রেজারসহ সহায়ক যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জামাদি সংগ্রহ নামে একনেক সভায় একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে।’
প্রকল্পটি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নদীগুলো পানি প্রবাহ হ্রাস, ক্রস-বাউন্ডারি প্রবাহ হ্রাস, পলি প্রবাহ বৃদ্ধি এবং জোয়ারের প্রবাহ কমে যাওয়ায় ধীরে ধীরে নাব্যতা হারাচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন, সেচ কার্যক্রম ক্রমশ হ্রাস ও বন্যায় পানি প্রবাহে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে দেশে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নও ব্যাহত হচ্ছে।’
মুস্তফা কামাল বলেন, ‘নৌ- পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছে বর্তমানে ১৮টি ড্রেজার আছে। বছরে এ ড্রেজারগুলোর ড্রেজিং ক্ষমতা ১১০ লক্ষ ঘনমিটার। ২০টি ড্রেজার আনা হলে প্রতিবছর ২৩২ দশমিক ৫০ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং সক্ষমতা অর্জন করবে বিআইডব্লিউটিএ।’
তিনি বলেন, ‘এ প্রকল্পের আওতায় আমরা দুই ধাপে ২০টি ড্রেজার আনবো। প্রথম দুই বছরে ১০টি ড্রেজার এবং পরবর্তী ২ বছরে ১০টি ড্রেজার আনা হবে। মাঝারি ও বড় দুই সাইজের ড্রেজারই আনা হবে।’
অনুমোদিত অন্য প্রকল্পগুলো
৬২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয়ে গোদাগাড়ি-আমনুরা-নাচোল-পার্বতীপুর-আড্ডা সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
রংপুর সিটি কর্পোরেশন রাস্তা উন্নয়ন এবং ড্রেন কাম-ফুটপাত নির্মাণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৬০ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আমদানি–রপ্তানিকৃত দ্রব্য সামগ্রীর গুদামজাতকরণ ও আনা-নেয়ার সুবিধাদি বৃদ্ধির লক্ষ্যে সোনাহাট স্থল বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
বিজিবির জুনিয়র কমিশন্ড অফিসার (জেসিও) এবং অন্যান্য পদধারীদের জন্য সুন্দর ও স্বাস্থ্যসম্মত পারিবারিক বাসস্থান নির্মাণে ৫৮ কোটি টাকা ব্যয়ে বিজিবির সদর দপ্তরে জেসিও ও অন্যান্য পদধারীদের জন্য ২টি ১৫তলা বিশিষ্ট আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প।
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় শেখ রাসেল এভিয়ারি ও ইকোপার্ক স্থাপন প্রকল্প (সংশোধিত)। প্রকল্পটির ব্যয় বৃদ্ধি করে ৪০ কোটি টাকা ধরা হয়েছে।
নওগাঁর ছয় উপজেলায় সেচ সুবিধা বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা দূর করতে নওগাঁ জেলায় ভূ-উপরিস্থ পানির প্রাপ্যতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ প্রকল্প। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৮০ কোটি টাকা।

