ঢাকাMonday , 10 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চট্টগ্রাম কলেজ ‘সেরা’, প্রাইভেট পরীক্ষার্থী বিষফোঁড়া!

Link Copied!

SSCচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে সবচেয়ে ভালো ফলাফল করেছে চট্টগ্রাম কলেজ। সর্বোচ্চ ৪৯৮টি জিপিএ-৫সহ মোট পাসের হার ৮৭ শতাংশ। যদিও এবার সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
ঈর্ষণীয় ফলাফল করেছে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। ৫০৪ পরীক্ষার্থীর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৫৮ শিক্ষার্থী, পাসের হার ৯৮ দশমিক ৪১ শতাংশ। যার মাঝে দুই জন অসুস্থতার কারণে পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেনি। গত বছরের তুলনায় জিপিএ-৫ এর সংখ্যাও বেড়েছে এই বিভাগে, বিগত বছরে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪০৪ শিক্ষার্থী।
তবে মানবিক বিভাগে কমেছে জিপিএ-৫ ও পাসের হার। এবার মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৪০ জন, গত বছর মানবিক বিভাগে জিপিএ-৫ এর সংখ্যা ছিল ৬২টি। এই বিভাগের পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬৩ শতাংশ।
উল্লেখ্য, মানবিক বিভাগের মোট ৫৫৯ জনের মধ্যে ৩১০ জনই প্রাইভেট পরীক্ষার্থী।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়া রাকিব হায়দার বলেন, ‘চট্টগ্রাম কলেজ মানেই বিশেষ কিছু, আমার আজকের যে সাফল্য তা এই কলেজেরই অবদান। ক্লাসরুম থেকে প্র্যাকটিকেলের ল্যাব, সবখানেই আমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরা তাদের সর্বোচ্চটা দিতে চেষ্টা করেছেন। যার ফল আজ আমরা হাতে হাতে পেয়েছি। সাথে ছিল আমার পরিবারের অসামান্য অবদান।’
মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পাওয়া ফাহিমা হক বলেন, ‘কলেজে প্রথম যখন ভর্তি হই তখন প্রায় শুনতাম এই কলেজে নিয়মিত ক্লাস হয় না। অথচ যখন একাদশ শ্রেণীতে ক্লাস শুরু করলাম তখন থেকে আমার সেই শোনা কথা প্রতিনিয়ত ভুল প্রমাণ করেছে চট্টগ্রাম কলেজ। গত দুই বছরে খুব জরুরি কোনো কারণ ছাড়া স্যারেরা একদিনও আমাদের ক্লাস মিস দেননি। মূলত নিয়মিত ক্লাস করা ও স্যারদের নোট নেয়াই আমাকে আজকের সাফল্য এনে দিয়েছে।’
চট্টগ্রাম কলেজের এই সাফল্যের পেছনের গল্প জানাতে গিয়ে অধ্যক্ষ প্রফেসর জেসমিন আক্তার বলেন, ‘কলেজের আজকের সাফল্যের পেছনে রয়েছে ছাত্র-শিক্ষক সবার অসামান্য চেষ্টা। কলেজে বছরের শুরু থেকেই প্রতি ৫০ শিক্ষার্থীর একজন করে কাউন্সিলর নিয়োগ করা হয়। আবার প্রতি তিনজন কাউন্সিলরকে তত্ত্বাবধায়ন করেন একজন কো-অর্ডিনেটর। এছাড়াও রয়েছে ভিজিল্যান্স টিম।’
তিনি বলেন, ‘কলেজের প্রতিটি পরীক্ষার উত্তরপত্রগুলো ১০০ নম্বরের পরিবর্তে ৮০ নম্বরে মূল্যায়ন করা হয়, যাতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অধিক নম্বর লাভে আরো বেশি অনুশীলন করে। এছাড়াও বাকি ২০ নম্বরের মধ্যে ১৫ নম্বরের টিউটরিয়াল এবং বাকি ৫ নম্বর ক্লাসে উপস্থিতির ভিত্তিতে দেয়া হয়।’
শিক্ষার্থীদের ক্লাসে উপস্থিতি নিশ্চিতের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘অনেকের ধারণা যে, সরকারি কলেজে ক্লাস করতে হয় না। চট্টগ্রাম কলেজ মানুষের সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেই আজকের সফল্য পেয়েছে। এই কলেজের কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতির হার যদি সন্তোষজনক না হয়, তবে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেয়া হয় না।’
কলেজের পাসের হার কমার জন্য প্রাইভেট পরীক্ষার্থীদের দায়ী করে কলেজ অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমাদের কলেজের মানবিক বিভাগ থেকে একটি বড় সংখ্যক পরীক্ষার্থী প্রাইভেটে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। যাদের কেউই নিয়মিত শিক্ষার্থী নয়। তাই মানবিক বিভাগের ফলাফল তেমন ভালো নয়। যার প্রভাব কলেজের মোট পাসের হারেও পড়েছে।’
এসময় তিনি ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম কলেজ আরো ভালো ফলাফল করবে বলে আশা প্রকাশ করেন।