অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রপ্তানি নীতি ২০১২-২০১৫-এর মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হলেও এখনো বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১৫-২০১৮ মেয়াদের নতুন রপ্তানি নীতি চূড়ান্ত করতে পারেনি। তবে খুব শিগগির তা করা হবে বলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘রপ্তানির ক্ষেত্রে গতিশীলতা আনা ও প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ববাণিজ্যে বাংলাদেশের অবস্থানের উন্নতিসহ দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো দৃঢ় ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে রপ্তানি নীতির ভূমিকা অনস্বীকার্য। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশে ত্রিবার্ষিক রপ্তানি নীতি প্রণয়ন করা হয়। ২০১২-২০১৫ মেয়াদে ত্রিবার্ষিক রপ্তানি নীতির সময়কাল গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। নতুন রপ্তানি নীতি প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত আগেরটি কার্যকর থাকবে।’
তিনি জানান, নানা জটিলতার কারণে সময়মতো ২০১৫-২০১৮ মেয়াদের রপ্তানি নীতি চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে রপ্তানি নীতির খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে। কমিটির অনুমোদন পেলেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রপ্তানিমুখী শিল্পে উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো, রপ্তানিপণ্যের গুণগত মান ও প্রতিযোগী দাম নিশ্চিত করা, পণ্য বহুমুখীকরণ ও বাজার সম্প্রসারণ, সম্ভাবনাময় তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক পণ্য ও সেবা রপ্তানিকে অগ্রাধিকার দিয়ে ২০১৫-২০১৮ সময় পর্যন্ত তিন বছরের জন্য রপ্তানি নীতির খসড়া চূড়ান্ত করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
এ ছাড়াও প্রস্তাবিত রপ্তানি নীতিতে দেশের রপ্তানি সম্প্রসারণে বিদেশে বাংলাদেশি দূতাবাস ও বাণিজ্যিক উইংগুলোর কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করা, সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
প্রস্তাবিত রপ্তানি নীতিতে সাতটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রপ্তানি নীতি ২০১৫-২০১৮-তে রপ্তানি পণ্যভিত্তিক সুবিধাদি অংশে তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য, কৃষিজাত পণ্য, ভেষজ সামগ্রী, জাহাজনির্মাণ-শিল্পকে উদীয়মান সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে গণ্য করে এসব পণ্যের রপ্তানি উন্নয়নের বিষয় নীতিমালার পৃথক পৃথক উপ-অধ্যায়ে সন্নিবেশিত করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত রপ্তানি নীতিতে সেবা খাতকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে, উন্নয়নমূলক সেবা খাত প্রথমবারের মতো সংযোজন করা হয়েছে। পর্যটনশিল্প, আর্কিটেকচার, ইঞ্জিনিয়ারিং ও কনসালটেন্সি সার্ভিসকে বিশেষভাবে সহায়তার জন্য বিশেষ উন্নয়নমূলক সেবা খাতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানি ও ই-কমার্স ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়ছে।
সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত রপ্তানি নীতিমালায় উদ্ভিদ ও উদ্ভিদজাত পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে মান নিশ্চিতকরণের জন্য পথ-নকশা তৈরির অঙ্গীকার করা হয়েছে। সরকারি-বেসরকারি বা যৌথ উদ্যোগে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন অ্যাক্রিডিটেড টেস্টিং ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা ও সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।
এতে রপ্তানিমুখী শিল্পের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ ইউটিলিটি সার্ভিস বা সেবাসমূহ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। উৎপাদনশীলতা বাড়ানো, পণ্যের গুণগত মানোন্নয়ন ও কমপ্লায়েন্সের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ নীতিতে কমপ্লায়েন্স-সহায়ক যন্ত্রপাতি, ফায়ার ইকুইপমেন্ট শুল্কমুক্ত আমদানির প্রস্তাব করা হয়েছে। বন্দরমুখী যোগাযোগ ব্যবস্থায় উন্নয়নসহ সামগ্রিকভাবে রপ্তানি অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য খালাস পদ্ধতি সহজীকরণ এবং ওয়ানস্টপ সার্ভিস প্রবর্তন করে ব্যবসার ব্যয় কমিয়ে আনার মাধ্যমে রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ানোর সহায়ক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, রুলস অব বিজনেস অনুযায়ী, গত ৭ জুন অর্থবিভাগের মতামতের জন্য রপ্তানি নীতিমালা ২০১৫-২০১৮ খসড়া পাঠানো হয়। অর্থ বিভাগ থেকে ৫ জুলাই মতামত পাওয়ার পর তা অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।

