অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিদ্যমান নাজুক অবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে না পারলে পরিচালনা পর্ষদে প্রয়োজনে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়ার হুঁশিয়ারি দিলেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর ড. আতিউর রহমান।
রোববার রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠকে গভর্নর এ সতর্কতা জানান। একইসাথে মূলধন ঘাটতি পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে আরে মূলধন দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এমওইউ’র অগ্রগতি বিষয়ক এ সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা রাজী হাসান, এস কে সুর চৌধুরী এবং রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী, জনতা, রূপালী ও অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে এস কে সুর চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বৈঠকে মূলত চারটি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এগুলো হল- ক্যাশ রিকভারি, ইন্টারনাল কন্ট্রোল অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স, অটোমেশন এবং গুড গভর্ন্যান্স। এগুলোর অভাব হলে প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেয়া হবে বলে তাদের সতর্ক করছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এমনকি ব্যাংক কোম্পানি আইনের ৪৬ ধারা অনুযায়ী দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
সভা সূত্রে জানা গেছে, কোর ব্যাংকিং সলিউশনে কোনো অবস্থায় সন্তোষজনক নয়। এজন্যই পর্যবেক্ষক নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ সতর্কতা জানানো হয়েছে।
ডেপুটি গভর্নর জানান, সভায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে অলাভজন শাখার সংখ্যা কমিয়ে না আনলে নতুন শাখার অনুমতি দেয়া হবে না, প্রভিশন ঘাটতি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফর বিয়ারেন্স সুবিধা দেয়া হবে না বলে সতর্ক করা হয়েছে। এজন্য অডিট বিভাগকে শক্তিশালী করে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ বিষয়ে সভায় গভর্নর অগ্রনী ব্যাংকের একটি অডিট রিপোর্টের প্রশংসা করে অন্যান্য ব্যাংকগুলোকে তা অনুসরণের নির্দেশ দেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া সভায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াল করপোরেশনের (বিপিসি) কাছ থেকে বকেয়া আদায় করতে বলা হয়েছে।
সভায় ব্যাংকিং রিক্রুটিমেন্ট কমিটির (বিআরসি) মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে সরকারের করার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী সরকারের পক্ষ থেকে যাচাই-বাছাইয়ের সময় এর গুরুত্ব তুলে ধরতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে অনুরোধ করা হয়েছে।

