স্পোর্টস ডেস্ক : উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে আগামী মঙ্গলবার ২০১৪-১৫ সালের চ্যাম্পিয়্ন লিগ বিজয়ী বার্সেলোনা এবং একই মৌসুমের ইউরোপা লিগ বিজয়ী সেভিয়া মুখোমুখি হবে। নিশ্চিতভাবে বার্সেলোনা আগামীকালের ফাইনালে ফেবারিট হিসেবে মাঠে নামবে। তবে প্রাক মৌসুমে প্রস্তুতিতে কাতালানদের বাজে পারফরম্যান্স দেখে মনে হচ্ছে ৯০ মিনিটের লড়াইয়ে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে।
ইউরোপা লিগের ফাইনালে নিপ্রোকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জয় করে উয়েফা বা ইউরোপিয়ান সুপার কাপের টিকেট পায় সেভিয়া। অন্যদিকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালে জুভেন্টাসকে ৩-১ গোলে হারিয়ে চলতি বছরে আরেকটি শিরোপা জয় থেকে মাত্র এক কদম দূরে রয়েছে গত মৌসুমে ট্রেবল জেতা লুইস এনরিকের বার্সেলোনা।
এছাড়া ২০০৯ সালের পর ফের এক বছরে ছয়টি শিরোপা জেতার পথে কাতালানরা। চলতি বছর ট্রেবল জেতান লুইস এনরিকের দল ইউরোপিয়ান সুপার কাপের ফাইনালের পর আগামী সপ্তাহে স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের মুখোমুখি হবে। এছাড় বছরের শেষদিকে ক্লাব বিশ্বকাপের লড়াইয়ে মাঠে নামবেন মেসি-নেইমাররা। এই তিনটি (ইউরোপিয়ান সুপার কাপ, স্প্যানিশ সুপার কাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপ) শিরোপা জিততে পারলেই ২০০৯ সালের পর ফের এক মৌসুমে ছয় শিরোপার বিরল কীর্তি গড়বে কাতালানরা।
মেসি ও সুয়ারেজদের নিয়ে গড়া বার্সেলোনা দল মঙ্গলবারের ফাইনালে সেভিয়ার চেয়ে অনেক এগিয়ে থেকে মাঠে নামবে। ২০০৯ ও ২০১১ সালে ইউরোপা কাপের শিরোপা জেতাটাও কাতালানদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে। তবে ২০০৬ সালের ফাইনালে এই সেভিয়ার কাছেই ৩-০ গোলে হেরেছে স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোন। তাই এটিকেও প্রেরণা হিসেবে নিতে পারে সেভিয়া।
প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিতে টানা তিন ম্যাচ হেরে বসে বার্সেলোনা। তবে তখন দলে ছিলেন না মেসি ও নেইমার। ছুটি কাটিয়ে এই দুজন দলে ফিরতেই দুর্দান্ত ছন্দে ফেরে কাতালানরা। মেসি-নেইমারদের প্রত্যাবর্তন ম্যাচ গাম্পার ট্রফির ফাইনালে রোমাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে লুইস এনরিকের দল। তবে এনরিকের জন্য দুঃসংবাদ, উয়েফা সুপার কাপের ফাইনালে নেইমারকে ইনজুরির কারণে পাচ্ছেন না তিনি। এমনকি, স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালের দুই লেগেও ইনজুরির কারণে খেলতে পারবেন না ব্রাজিল অধিনায়ক।
বার্সেলোনা এর আগে চারবার ইউরোপিয়ান সুপার কাপের শিরোপা জিতেছে। সমান সংখ্যক বার রানার্স-আপ হয়েছে ন্যু-ক্যাম্পের দলটি। শুধু এসি মিলান (৫) বার্সেলোনার চেয়ে এই শিরোপাটি বেশিবার জিতেছে। এবার মিলানকে স্পর্শ করার সুযোগ পাচ্ছে কাতালানরা।
অন্যদিকে ২০০৬ সালে ইউরোপিয়ান সুপার কাপের একমাত্র শিরোপাটি জয় করে সেভিয়া, তাও এই বার্সেলোনাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে। পাশাপাশি ২০০৭ ও ২০১৪ সালে রানার্স-আপ হয় তারা।
১৯৯৮ সালের পর বার্সেলোনা প্রথম ও একমাত্র দল হিসেবে তিনটি ইউরোপিয়ান সুপার কাপের শিরোপা জয়ের রেকর্ড থেকে মাত্র এক কদম দূরে। ১৯৯৮ সালে ফাইনালটি এক ম্যাচে রূপ নেয়ার পর আর কোনো দল দুটির বেশি শিরোপা জিততে পারেনি।
নতুন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে বার্সেলোনা পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে হেরেছে। তা-ও তিনটি পরাজয় টানা ম্যাচে। প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিমূলক প্রথম ম্যাচে লস অ্যাঞ্জেলস গ্যালাক্সিকে ২-১ গোলে হারিয়ে শুভ সূচনা করে বার্সেলোনা। তবে এরপর মেসি-নেইমারহীন কাতালানরা ছন্দ হারিয়ে ফেলে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে ৩-১, চেলসির সঙ্গে টাইব্রেকারে ৪-৩ এবং ফিওরেন্টিনার কাছে ২-১ গোলে হেরেছে লুইস এনরিকের দল। তবে মেসি ও নেইমার ফিরতেই ছন্দে ফেরে কাতালানরা, রোমাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গাম্পার ট্রফি ঘরে তোলে স্প্যানিশ জায়ান্টরা।
অন্যদিকে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতিটা ভালো সারতে পারেনি সেভিয়াও। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ দল ব্রাইটন এন্ড হোভ এবং উয়েরডেন ব্রেমেনের কাছে হেরেছে ইউরোপা লিগ জয়ীরা। অপর তিন ম্যাচের দুটিতে জয় ও একটি ড্র করেছে তারা।
দুই দলের মুখোমুখি সর্বশেষ পাঁচ সাক্ষাতে যোজন-যোজন এগিয়ে বার্সেলোনা। ২০১০-১১ মৌসুমের পর বার্সেলোনাকে আর হারাতে পারেনি সেভিয়া। ২০১১ সালে স্প্যানিশ সুপার কাপে বার্সেলোনাকে ৩-১ গোলে হারায় অ্যান্দালুসিয়ার ক্লাবটি। তবে গত দুই বছরে সর্বশেষ পাঁচ সাক্ষাতে কাতালানদের একবারও হারাতে পারেনি সেভিয়া। এই পাঁচ ম্যাচের চারটিতে জয় পেয়েছে বার্সা। চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুই দলের সর্বশেষ লড়াইটি ২-২ গোলে ড্র হয়। এছাড়া অন্য চার ম্যাচে যথাক্রমে ২-১, ৩-২, ৪-১ ও ৫-১ গোলের ব্যবধানে জয় পেয়েছে কাতালানরা।
টিম নিউজ:
বার্সেলোনা: ইনজুরির কারণে নেইমার ও জর্ডি আলবার মতো দলের গুরুত্বপূর্ণ দুই খেলোয়াড়কে পাচ্ছেন না কোচ লুইস এনরিক। পাশাপাশি আদ্রিয়ানো ও ডগলাসও ইনজুরির জন্য দলে নেই। গলায় ভাইরাসজনিত ব্যথার কারণে নেইমার দুই সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে চলে গেছেন। এছাড়া ইনজুরির কারণে জর্ডি আলবাকেও মাঠের বাইরে থাকতে হবে প্রায় ১৫ দিন। এছাড়া দলে আর কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই।
সেভিয়া: অন্যদিকে ইনজুরির কারণে সেভিয়ার কিরো ইমোবিল ও ড্যানিয়েল ক্যারিকো মঙ্গলবারের ফাইনালে খেলতে পারবেন না। প্রস্তুতি ম্যাচে নাকে ব্যথা পেয়েছেন ইমোবিল। রোববার দলের সঙ্গে অনুশীলনে তিনি যোগ দিলেও বার্সার বিপক্ষে খেলার জন্য ফিট নন। অন্যদিকে ডান পায়ের পেশিতে চোট লাগায় মাঠের বাইরে রয়েছেন ড্যানিয়েল ক্যারিলো।
সম্ভাব্য দল:
বার্সেলোনা: আন্দ্রে মার্ক টার স্টেগান, দানি আলভেজ, থমাস ভারমালেন, জেরেমি ম্যাথিউ, হাভিয়ের মাসচেরানো, আন্দ্রে ইনিয়েস্তা, ইভান র্যাকিটিক, রাফিনহা, পেদ্রো রদ্রিগেজ, সুয়ারেজ ও মেসি।
সেভিয়া: আলবার্তো বেতো, কোকে, কোলো, লুইস মিগুয়েল, ক্রন-দেলি, বেনো ত্রিমনিলাস, স্টিভেন জনজি, আদিল রেমি, ডেনিস সুয়ারেজ, ইয়েহেন কনোপ্লায়াঙ্কা ও ইমোবিল।

