অর্থনৈতিক প্রতিবেদক : চট্টগ্রামের হোটেল রেডিসনে অনুষ্ঠিত তিনদিনের বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড সেফটি এক্সপো-তে প্রায় ৭ কোটি মার্কিন ডলারের স্পট অর্ডার মিলেছে বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। রেডিমেড গার্মেন্টস (আরএমজি) মেশিনারি, স্যোয়েটার মেশিন, ফায়ার অ্যান্ড সেফটি ইক্যুপমেন্ট এবং এক্সেসরিজ থেকে এ অর্ডার এসেছে। এ ছাড়া ২০ লাখ পিস জ্যাকেট ও শার্টের অর্ডার ও পাওয়া গেছে।
রেডিসন ব্লু হোটেলের মেজবান হলে অনুষ্ঠিত পোষাকখাতের সবচেয়ে বড় এই মেলা গত ৬ আগস্ট উদ্বোধন হয় এবং গতকাল ৮ আগস্ট সফলভাবে শেষ হয়। আন্তর্জাতিক মানের এই প্রদর্শনীতে এ ধরনের সাড়া পাওয়ার ঘটনাকে অভূতপূর্ব বলেছেন বিজিএমইএর নেতৃবৃন্দ। তাদের ভাষায়, এই আয়োজনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রাম তথা সারাদেশের গার্মেন্টস শিল্প তার সক্ষমতার জানান দিয়েছে বিশ্বের কাছে। এ শিল্পের এগিয়ে যাওয়ার প্রতিচ্ছবি হচ্ছে এ প্রদর্শনী।
বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রথমবারের মত আয়োজিত বাংলাদেশ অ্যাপারেল অ্যান্ড সেফটি এক্সপো প্রদর্শনীতে মোট ৭৩টি স্টল ছিল। এর মধ্যে তৈরি পোশাক ১৭টি, ফেব্রিক্স একটি, গার্মেন্টস এক্সেসরিজ দুটি, গার্মেন্টস ফেব্রিক্স (লোকাল) একটি, মেশিনারি ১৮টি, ফায়ার ইকুইপমেন্ট ২৫টি, সার্ভিস প্রোভাইডার সাতটি এবং বিজিএমইএর নিজস্ব দুইটি স্টল।
প্রদর্শনীতে বিভিন্ন বিষয়ে চারটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। গুরুত্বপূর্ণ এসব সেমিনারে ২০২১ সালের মধ্যে গার্মেন্টস রপ্তানি খাতে ৫০ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ওপর বিশেষভাবে আলোকপাত করা হয়। এসব সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতগণ অংশ নেন।
বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, প্রদর্শনীতে আরএমজি মেশিনারির স্পট অর্ডার এসেছে ২০ মিলিয়ন ইউএস ডলার, সোয়েটার মেশিনের ১২ মিলিয়ন ইউএস ডলার, ফায়ার অ্যান্ড সেফটি ইক্যুপমেন্ট এর ২২ মিলিয়ন ইউএস ডলার ও এক্সেসরিজ এর ১৫ মিলিয়ন ডলারের। এ ছাড়া ২০ লাখ পিস জ্যাকেট ও শার্টের স্পট অর্ডার এসেছে এ প্রদর্শনীতে।
নাসির উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী বলেন, “এই প্রদর্শনীতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। আন্তর্জাতিক মানের চারটি সেমিনারে আন্তর্জাতিক নীতিনির্ধারক ব্যক্তিত্বরা অংশগ্রহণ করেছেন। তাদের সামনে আমরা এদেশের গার্মেন্টস শিল্পের বাস্তব অবস্থা তুলে ধরেছি।
‘চট্টগ্রামের অ্যাপারেল এক্সপো গার্মেন্টস শিল্পকে পৃথিবীর সামনে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই আয়োজনের ফলে হিসেবে চট্টগ্রামের গার্মেন্টস শিল্প আরো এগিয়ে যেতে উদ্দীপনা পাবে।”

