স্পোর্টস ডেস্ক : একি বললেন জেরার্ডো মার্টিনো? রীতিমত স্ববিরোধী কথা-বার্তা। একদিন আগেই তিনি মেক্সিকান একটি স্পোর্টস ডেইলি স্পোর্টস রেকর্ডকে বলেছিলেন, সমালোচনার কারণে মেসি যদি আর্জেন্টিনা ছেড়ে দেয় তাহলে সেটা হবে আমার জন্য সবচেয়ে হতাশার বিষয়।’ সেই মার্টিনোই একদিন পর বলছেন, যেভাবে সমালোচনার মুখোমুখি হচ্ছে মেসি, আমি তার জায়গায় হলে অনেক আগেই আর্জেন্টিনার হয়ে খেলা ছেড়ে দিতাম।
অথচ প্রবল সমালোচনা আর ধিক্কার সত্ত্বেও ২৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার এখনও নিজের ক্লাব বার্সেলোনার চেয়ে বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকেন দেশকে। তবুও, অনেক বিশেষজ্ঞ কিংবা অনেক ভক্তও আর্জেন্টিনার সাফল্য না পাওয়ার পেছনে একমাত্র মেসিকেই দায়ী করে থাকে বেশি।
সমালোচকদের একটাই বক্তব্য, নিজের ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে মেসি যতটা নিবেদিতপ্রাণ ততটা দেশের জন্য নন। এ কারণেই দেশের জার্সি শরীরে চাপলেই বদলে যান তিনি। সেরাটা আর বের করে আনতে পারেন না। বিশেষ করে কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর মেসির সমালোচনা তুঙ্গে উঠে যায়। চারদিক থেকে সমালোচনার তীর এমনভাবে বিদ্ধ করে যে, তিনি একবার বলেই দিয়েছিলেন, আপাতত কিছুদিন দলের বাইরে থাকতে চান।
২০১৪ বিশ্বকাপের পর থেকে আর্জেন্টিনার কোচের দায়িত্ব পালন করা জেরার্ডো মার্টিনো মনে করেন, এত সমালোচনা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের প্রতি মেসি যেভাবে শান্ত মনোভাব দেখিয়েছে, সেটা প্রশংসারেই যোগ্য। ফক্স স্পোর্টসকে তিনি বলেন, ‘আমাকে তো কেউই বলেনি যে, প্রীতি ম্যাচে মেসি খেলবে না! এমনকি এ ব্যাপারে তার মুখ থেকে কিংবা আমার মুখ থেকেও তো কিছু বের হয়নি। এমনকি আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্টও এ ব্যাপারে কিছু বলেননি। তাহলে এত কথা কেন?’
মার্টিনো বিষয়টা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, ‘এমন একটা বিষয় নিয়ে আলোচনা করা ঠিক নয়, যেটার একেবারেই মূল্য নেই। এ ব্যাপারে কথা বলাটাও সময় নষ্টের সামিল। যারা মেসির সমালোচনা করে, তারা ফুটবলই বোঝে না। তাদের মুখে তো আর ফুটবল নিয়ে বিশ্লেষণ মানায় না।’
মেসির ক্রমাগত সমালোচনার বিষয়ে মার্টিনো বলেন, ‘কথা হচ্ছে মেসি জাতীয় দল থেকেই অবসর নিয়ে ফেলতে পারেন, এমন সম্ভাবনা নিয়ে। আমি মনে করি এটার অনেক সম্ভাবনা আছে। এত সমালোচনার মুখে মেসি যদি অবসর নিয়ে নেয়, তাহলে সেটা তো স্বাভাবিকই। আমি নিজে যদি মেসি হতাম, তাহলে অনেক আগেই জাতীয় দলকে গুডবাই জানিয়ে দিতাম।’

