স্পোর্টস ডেস্ক : ভারতীয় সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃক চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পর থেকে আইপিএলে নবম আসর আয়োজন নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই পড়েছে বেশ সমস্যায়। আইপিএল অনুষ্ঠিত হয় মোট ৮ দল নিয়ে। এই দল দুটি না থাকায় কিভাবে পরের আসরের আয়োজন করা হবে, তা নিয়ে চলছে একের পর এক বৈঠক। গঠন করা হয়েছে ওয়ার্কিং কমিটি। এখনও এ ব্যাপারে চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিসিসিআই। এরই মাঝে ভারতীয় কিছু মিডিয়া জানাচ্ছে, সমস্যা এড়াতে আপাতত আইপিএলের আগামী দুই আসরের জন্য ডাকা হতে পারে অস্ট্রেলিয়া এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের দুটি লিগের সেরা দুটি দলকে।
একদিকে যখন আইপিএলের ভবিষ্যৎ নিয়ে বসছে বিসিসিআইর ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক, তখনই ফের আইপিএল কেলেঙ্কারি নিয়ে নতুন করে সরব আদিত্য বার্মা। মুদগল কমিটির রিপোর্টে সিল বন্ধ খামে থাকা ১৩ অভিযুক্তের নাম প্রকাশের জন্য ফের সুপ্রিম কোর্টে পিটিশন জমা দিল ক্রিকেট অ্যাসেসিয়েশন অব বিহার। সচিব আদিত্য বার্মার দাবি, মুদগল কমিটির ফাইনাল রিপোর্ট এবং সিল বন্ধ খাম জমা দেওয়া হোক লোধা কমিশনের কাছে। প্রসঙ্গত, এই খাম গত ২০১৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছিল বিচারপতি মুকুল মুদগল কমিটি। যা দেখার সুযোগ পেয়েছিলেন শুধু বিচারকরা।
এ দিনই আবার নয়াদিল্লিতে বসল ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক। চারদিন ধরে যা চলবে এবং ঠিক হবে, কীভাবে অনুষ্ঠিত হবে আইপিএল নাইন। চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালস আইপিএল থেকে দু’বছর বহিস্কার হওয়ার পরে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আইপিএলের চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা জানিয়েছেন, সব দিক পর্যালোচনা করে ছয় সন্তাহের মধ্যে ওয়ার্কিং গ্রুপ রিপোর্ট দেবে আইপিএলের গভর্নিং কাউন্সিলে। তার পর তা বিসিসিআইর ওয়ার্কিং কমিটিতে যাবে অনুমোদনের জন্য।
কমিটিতে আছেন সৌরভ গাঙ্গুলি, বোর্ড সচিব অনুরাগ ঠাকুর, কোষাধ্যক্ষ অনিরুদ্ধ চৌধুরি ও বোর্ডের আইনজীবী উষানাথ বন্দ্যোপাধ্যায়। কীভাবে হতে পারে পরের আইপিএল? জোর জল্পনা, সব দিক বিচার করে বিতর্ক এড়াতে আগামী দু’বছরের জন্য আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে দুটি বিদেশি দলকে। বিগ ব্যাশ বা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগের দুই সেরা টিমকে ডাকা হতে পারে আইপিএলে।
বোর্ডের অন্দরেই কর্তারা এই নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত। কেউ কেউ বলেছেন, নতুন করে চেন্নাই ও রাজস্থানের দুটো দলকে ডাকা হোক। বোর্ডই এই দুটি দলকে স্পনসর করুক দুই বছরের জন্য। আবার কারও বক্তব্য, অন্য শহরের দুটি দলকে ডাকা হোক। কিন্তু সে ক্ষেত্রে দুই বছর পরে যখন চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালস ফিরে আসবে, তখন আইপিএল হয়ে যাবে ১০ দলের। সে ক্ষেত্রে টুর্নামেন্টে ম্যাচ ও দিন অনেকটাই বেড়ে যাবে। যা নিয়ে তৈরি হতে পারে সমস্যা।
আইপিএল নাইনে দুই বিদেশি দলকে আমন্ত্রণ নিয়ে জল্পনা চলছে। জানা গেছে, ওয়ার্কিং গ্রুপের সভায় ডাকা হবে ছয় ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিনিধিদের। জানতে চাওয়া হবে, তারা কীভাবে পরেরবার লিগ করতে চাইছেন। বেশ কয়েকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি বোর্ডকে চিঠি লিখে জানিয়েছে, আইপিএল নাইনের জন্য রূপরেখা না জানতে পারলে তারা প্রস্তুতির জন্য কোনও পরিকল্পনাই করতে পারছে না।
এই ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ হবে টাইটেল স্পনসর পেপসি এবং টিভি স্বত্ব কেনা সংস্থার মতামতও। পেপসির মুখপাত্র ইতিমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন, তারা খুব তাড়াতাড়ি সমস্যার সমাধান চান। যা নিয়ে আইপিএল চেয়ারম্যান রাজীব শুক্লা বলছেন, ‘এটুকু বলতে পারি, পরের আইপিএল দারুণভাবেই হবে এবং কোনওরকম বিতর্ক ছাড়াই। কীভাবে তা সুষ্ঠুভাবে করা যায়, সে জন্যই এই বৈঠক।’
চেন্নাই সুপার কিংস ও রাজস্থান রয়্যালস লোধা কমিশনের রায়ে দুই বছরের জন্য নির্বাসিত হওয়া অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে জাতীয় দলের বেশ কিছু ক্রিকেটারের আইপিএল ভবিষ্যৎও। এদের মধ্যে আছেন মহেন্দ্র সিং ধোনি, সুরেশ রায়না, রবিচন্দ্রন অশ্বিন, আজিঙ্কা রাহানে, স্টুয়ার্ট বিনি।

