পাবনা প্রতিনিধি : পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষ পরীক্ষার ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। উন্নয়ন ফি, নির্বাচনী পরীক্ষার ফি, মৌখিক পরীক্ষার ফিসহ বিভিন্ন খাত দেখিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষ এ অতিরিক্ত ফি আদায় করেছে। ফি কমানো না হলে আন্দোলনে নামবে বলে হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের অন্য কলেজে অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ফরম পুরণে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের ১৭টি বিভাগের প্রত্যেকটিতে নেয়া হচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফির বাইরে কলেজের বেতন ও সেশন ফি হিসাবে নেয়া হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকা, কেন্দ্র ফি ৩৫০ টাকা, ব্যবস্থাপনা ফি ১০০ টাকা, সেমিনার ফি ১০০ টাকা, নির্বাচনী পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা, ইনকোর্স পরীক্ষার ফি ৪০০ টাকা, মৌখিক পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা, টার্ম পেপার ফি ২০০ টাকা, অনলাইন ও ব্যবস্থাপনা ফি ১০০ টাকা এবং নবীন বরণ ফি ৫০ টাকা। এছাড়া মার্কেটিং ও ফিন্যান্স বিভাগে উন্নয়ন ফি নামে আরো ১ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা আরো অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে অধ্যক্ষের মদদে শিক্ষকদের একটি সিন্ডিকেট কলেজটিতে নিজের ইচ্ছে মতো কাজ করে যাচ্ছে। নানা অজুহাত দেখিয়ে তারা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। উন্নয়নের নাম করে প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়া হলেও কোনো ধরনের উন্নয়ন কাজ হয় না। উন্নয়নের নামে টাকা নিয়ে শিক্ষকদের সিন্ডিকেট তা ভাগ বাটোয়ারা করছে। এতে শিক্ষার্থীরা অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়েছে।
এ বিষয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. নাইদ মো. শামসুল হুদা বলেন, অন্য কলেজে দুইবারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ভর্তি ফি সহ অন্য ফি নিয়ে থাকে, আমরা সেটা একবারে নিচ্ছি। এ কারণে মনে হচ্ছে আমরা বেশি নিচ্ছি। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত ফি ও কলেজের নির্ধারিত ফিসহ নিচ্ছি। অতিরিক্ত ফি আদায় অভিযোগ ঠিক নয়।
ড. নাইদ আরো বলেন, শুধুমাত্র ফাইন্যান্স ও মার্কেটিং বিভাগে শিক্ষক না থাকায় অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস নেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত এক হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের কয়েকজন শিক্ষক জানান, স্থানীয় কিছু শিক্ষকের সহযোগিতায় অধ্যক্ষ কলেজটিতে অনিয়ম-দুর্নীতি চালিয়ে যাচ্ছেন। উন্নয়ন, সেমিনার বা অন্য খাতে যে ফি নেয়া হচ্ছে তার কাজের কাজ কিছুই হয় না। অতিথি শিক্ষক দিয়ে ক্লাস করানোর কথা বলা হলেও কোনো অতিথি শিক্ষক আনা হয় না।

