বিনোদন ডেস্ক : অনুদানের ছবি নিয়ে নয় ছয় নতুন কিছু নয়। অনুদান প্রাপ্তি থেকে ছবি মুক্তি দেয়া পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রেই চলছে নিয়ম ভাঙ্গার খেলা। তাই প্রথম চেক প্রাপ্তির নয় মাসের মধ্যে চলচ্চিত্রের নির্মাণ কাজ শেষ করার বাধ্য বাধকতা থাকলেও,অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। অথচ অনুদান প্রদানের সময় প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনেও এ বিষয়ে বিস্তারিত উল্লেখ থাকে ।
২০১৩-২০১৪ অর্থ বছরে দুইটি শাখায় ৭টি চলচ্চিত্রকে সরকারি অনুদান দেয়া হয়। সে হিসেবে প্রায় আড়াই কোটি টাকা চলচ্চিত্র নিমার্ণের জন্য বরাদ্দ করে সরকার। গেল বছর সাধারণ শাখায় সরকারি অনুদান লাভ করে অভিনেতা নাদের চৌধুরীর ‘নদী উপাখ্যান’; অভিনেতা ড্যানি সিডাকের ‘কাসার থালায় রুপালী চাঁদ’; প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’; সাজেদুল আওয়ালের ‘ছিটকিনি’ এবং রওশন আরা নীপার ‘মহুয়া মঙ্গল’। এছাড়া শিশুতোষ শাখায় জাঁ নেসার ওসমানকে ‘পঞ্চসঙ্গী’ ও মুশফিকুর রহমান গুলজারকে ‘লাল সবুজের সুর’ শিরোনামে দুটি ছবির জন্য অনুদান প্রদান করা হয়।
এই সাতটি ছবির মধ্যে কেবলমাত্র প্রসূন রহমানের ‘সুতপার ঠিকানা’ মুক্তি লাভ করেছে। নির্মাণ শেষে সম্প্রতি সেন্সর পেরিয়েছে ‘মহুয়া সুন্দরী’।
অভিনেতা নাদের চৌধুরীর ‘নদী উপাখ্যান’ এর নাম পাল্টে রাখা হয় ‘লালচর’। গেল জুন মাসে ছবিটির চিত্র ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। কথা ছিলো ডাবিং ও অন্যান্য কাজ শেষ করে কোরবানি ঈদে মুক্তি দেয়া হবে চলচ্চিত্রটি। কিন্তু জানা গেল চলচ্চিত্রটির এখনও কিছু অংশের কাজ বাকি। কবে মুক্তি পাবে এ ব্যাপারে নাদের চৌধুরীর মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আরেক অভিনেতা ড্যানি সিডাকের ‘কাসার থালায় রুপালী চাঁদ’ এর শুটিং শুরু হয়েছে গত মে মাসে। প্রথম দফায় এফডিসিতে কয়েকদিন শুটিং করা হয়। ছবিটির বাকি অংশের শুটিং কবে হবে জানতে চাইলে ড্যানি সিডাক বলেন,‘আমার ছবির শুটিং প্রায় শেষ।’ মাত্র কয়েকদিন চিত্রধারণ করেই ছবি নির্মাণ শেষ হলো কিভাবে? প্রশ্নটি এড়িয়ে গিয়ে তিনি এই প্রতিবেদককে চলচ্চিত্র কী? তা বুঝাতে শুরু করেন। এক পর্যায়ে তিনি বলেন, ‘চলচ্চিত্র একটি বিশাল বিষয়। এটাকে আমরা ছোট করে ফেলেছি। যারা প্রকৃত পক্ষে চলচ্চিত্রের লোক তারা কখন চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শেষ হবে তা বলতে পারবে না। কারণ এটা এমন এক বিষয় যেখানে প্রতিমুহুর্তে নতুন কিছু যোগ করতে ইচ্ছা জাগে।’
গেল বছরের আগষ্টে পঞ্চগড়ে শুরু হয় সাজেদুল আওয়ালের পরিচালনায় ‘ছিটকিনি’ ছবির চিত্রধারণের কাজ। কিন্তু এক আগস্ট গিয়ে আরেক আগস্ট আসলেও, ‘ছিটকিনি’র কাজ শেষ হয়নি। অতএব শুটিং, ডাবিং অতপর সেন্সর ছাড়পত্র নিয়ে মুক্তি পেতে চলতি বছর পেরিয়ে যাবে বলে মনে করছেন ছবিটির এক অভিনেত্রী।
এদিকে রওশন আরা নীপার ‘মহুয়া মঙ্গল’ ছবিটির নাম পাল্টে রাখা হয়েছে ‘মহুয়া সুন্দরী’। বেশ কয়েকদিন আগে ছবিটির শুটিং শেষ হলেও, নানা জটিলতা পেরিয়ে গত সম্প্রতি ছবি সেন্সর ছাড়পত্র লাভ করেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে, আগামী ২০ নভেম্বর ছবিটি মুক্তি দিতে চান নির্মাতা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই আমারা ছবির সম্পূর্ণ কাজ শেষ করেছি। নভেম্বরেই ছবিটি দর্শক দেখতে পারবেন।’
অন্যদিকে গেল বছর শিশুতোষ শাখায় ‘পঞ্চসঙ্গী’ ও ‘লাল সবুজের সুর’ শিরোনামে দুটি ছবিকে অনুদান প্রদান করা হয়। এর মধ্যে জাঁ নেসার ওসমানের পরিচালনায় ‘পঞ্চসঙ্গী’ ছবির শুটিং শুরু হয় চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি। এই মুহুর্তে শেষ পর্যায়ে শুটিং চলছে। এ প্রসঙ্গে নির্মাতা বলেন, ‘আর মাত্র চারদিন হলেই চিত্রধারণের কাজ শেষ হবে। তারপর এডিটিং ও ডাবিং এর কাজ শেষ করে সেন্সরে বোর্ডে জমা দেয়া হবে। সব কিছু ঠিক থাকলে. আগামী ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ছবিটি মুক্তি দিতে চাই।’
মুশফিকুর রহমান গুলজারের পরিচালনায় গত জুন মাসে ‘লাল সবুজের সুর’ ছবিটির শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অন্য একটি ছবি নিয়ে ব্যস্ততা আর আবহাওয়ার দোহাই দিয়ে এখনও ছবিটির শুটিং শুরু করেননি এই নির্মাতা। এদিকে গুলজার দেশের বাইরে অবস্থান করায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

