স্পোর্টস ডেস্ক : টেস্ট ক্রিকেটে এক নম্বর দল। তাদের বিপক্ষে লড়াই করতে নামবে ৯ নম্বরে থাকা বাংলাদেশ। র্যাংকিংই বলে দিতে কতটা অসম লড়াই। কিন্তু বাস্তবে এবার অত অসম নয়। বরং, টেস্টের সেরা দলকেই এখন জয়ের জন্য নানা কৌশল, ফন্দি-ফিকির করে মাঠে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশের বিপক্ষে। সে কারণেই প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা জোর দিয়ে বলেছেন, ‘জয়ের জন্য মুখিয়ে আছে পুরো প্রোটিয়া শিবির।’
বাংলাদেশে আসার আগেই টাইগারদের পরিবর্তণ দেখতে পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। এ দেশের আসার পর অবশ্য টি২০ হেসে খেলে জয়ের পর নিজেদের মধ্যে একটা আত্মম্ভরিতার ভাবও চলে এসেছিল। আর প্রথম ওয়ানডেতে জয়ের পর তো আগের সেই শক্তির ব্যবধানই দক্ষিণ আফ্রিকা আর বাংলাদেশের মাঝে দেখতে পেয়েছিল প্রোটিয়ারা। কিন্তু তাদের সেই ভাবনা পরিবর্তণ করে মাশরাফিরা সফরকারীদের বাস্তবে ফিরিয়ে আনেন দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। এরপর তৃতীয় ওয়ানডেতে তো প্রোটিয়াদের দুঃস্বপ্নই উপহার দিলো টিম বাংলাদেশ।
এরপর এলো টেস্ট সিরিজ। তার আগে প্রোটিয়া অধিনায়ক হাশিম আমলা বলেছিলেন, ‘ওয়ানডে আর টেস্ট এক নয়। দুই ভিন্ন ভিন্ন ফরম্যাট।’ অথ্যাৎ তার কথায়, বাংলাদেশ ওয়ানডেতে পারলেও, টেস্টে যেহেতু দক্ষিণ আফ্রিকা এক নম্বর দল, সেহেতু সেখানে বাংলাদেশের দাঁড়াতেই পারার কথা নয়। কিন্তু মাঠে নেমে তো পরিবর্তিত বাংলাদেশকে দেখে হতবাক বিশ্বের সেরা দলটি। বৃষ্টির কারণে মাত্র তিনদিন খেলা হয়েছে। তাতেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল বাংলাদেশ। প্রোটিয়াদের ভাবনায়ও বিশাল পরিবর্তন এনে দিলেন মুশফিকুর রহিমের দল।
এ কারণেই ঢাকা টেস্টের আগে হাশিম আমলা বলতে বাধ্য হলেন, ‘এই টেস্টটা দু’দলের জন্যই বেশ গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ সম্প্রতি খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে। তারাও মুখিয়ে থাকতে এই টেস্টে জয় পাওয়ার জন্য। তবে আমরা যেহেতু বিশ্বের এক নম্বর দল। এ কারণে দলের সবাই মুখিয়ে আছে, চট্টগ্রামে যা অর্জণ করা যায়নি, সেটা যেন ঢাকায় পাওয়া যায়। অথ্যাৎ, জয়ের জন্য মুখিয়ে সবাই।’
চট্টগ্রাম টেস্টে ডেল স্টেইন, ডিন এলগাররা খুব ভালো খেলেছিলেন দাবি করে হাশিম আমলা বলেন, ‘ঢাকা টেস্টেও তারা আরও ভালো খেলবেন আশা করি। এছাড়া দলের সবাই সবার কাজটি ভালোভাবে করতে পারলে আশানুরূপ ফল অবশ্যই আসবে।’
ঢাকা টেস্টে জয় পাওয়া সম্ভব কি না। কিংবা প্রোটিয়ারা যেহেতু এক নম্বর দল, সেহেতু এখানে তাদের কী পরিকল্পনা? জানতে চাইলে আমলা বলেন, ‘এটা তো আর নক আউট কোন ম্যাচ নয় যে, একেবারে ডু-অর ডাই। এটা তো টেস্ট। এখানে ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে পঞ্চম দিনের শেষ পর্যন্ত। সেশন বাই সেশন ভালো খেলতে না পারলে তো ভালো ফল আসবে না। আমরা সেশন বাই সেশন ভালো খেলতে চাই।’

