স্পোর্টস ডেস্ক : টানা তৃতীয় দিন বৃষ্টির বাগড়ায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার চট্টগ্রাম টেস্ট নিশ্চিত ড্রয়ের পথে এগুচ্ছে। বুধ ও বৃহস্পতিবার টেস্টের দ্বিতীয় ও তৃতীয় দিনের সেশনে বৃষ্টির বাগড়ায় প্রায় ৫০ ওভার খেলা ভেসে যায়। শুক্রবার টেস্টের চতুর্থ দিন তো বৃষ্টির কারণে কোনো বলই মাঠে গড়াতে পারেনি। এমনকি বাংলাদেশ দলের বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় বেলা ১টার একটু আগে স্টেডিয়ামে আসলেও দক্ষিণ আফ্রিকা দল টিম হোটেলে বসেই সময় কাটায়।
সকাল থেকেই কাঁদছিল চট্টগ্রামের আকাশ। প্রথম সেশন তো বৃষ্টির কারণে পুরোটা ভেসে যায়। দীর্ঘ প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষার পর মাঠ খেলার অনুপযোগী হওয়ায় ম্যাচ রেফারি দিনের খেলা বাতিল ঘোষণা করেন। ফলে নিশ্চিত ড্রয়ের পথে এগুচ্ছে চট্টগ্রাম টেস্ট।
এর আগে ঘরের মাঠ ফতুল্লার খান সাহেব আলী স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টটিও টানা বৃষ্টির কারণে ড্র হয়। বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম টেস্টও একই পরিণতির জন্য অপেক্ষা করছে।
প্রথম ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার করা ২৪৮ রানের জবাবে বাংলাদেশের ৩২৬ রান সংগ্রহ করলে ৭৮ রানের লিড পায় টাইগাররা। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে বিনা উইকেটে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৬১ রান সংগ্রহ করে প্রোটিয়ারা। ফলে বাংলাদেশ এখনো ১৭ রানে এগিয়ে রয়েছে।
বৃষ্টি কিংবা মাঠের পারফরমেন্সেই হোক, নিশ্চিত ড্রয়ের পথে চট্টগ্রাম টেস্ট। সেই সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথমবারের মতো কোন টেস্ট ড্র করার কৃতিত্ব দেখাবে বাংলাদেশ। এর আগে আটবারের মুখোমুখিতে বাংলাদেশ হেরেছিল সবকটিতেই। এর মধ্যে সাতটি ম্যাচে হেরেছিল ইনিংস ব্যবধানে। এবার প্রথমবারের মতো প্রোটিয়াদের সঙ্গে ড্র‘র মহাত্মটাও তাই অনেক।
তবে অনেকের মতে এই টেস্টে বৃষ্টি বাগড়া না দিলেও লড়াকু মেজাজে ছিল বাংলাদেশ দল। কে জানত, ম্যাচটিতে জিততেও পারত টাইগার শিবির, যদি দ্বিতীয় ইনিংসে কম রানের মধ্যে দ. আফ্রিকানদের আটকে ফেলা যেত। কিন্তু প্রকৃতির উপর তো কারো হাত নেই। আর তাই টেস্টের পঞ্চম দিনে কোনো অতি নাটকীয়তা অপেক্ষা করছে কি না, তাই দেখার অপেক্ষায় গোটা ১৬ কোটির বাংলাদেশ।

