স্পোর্টস ডেস্ক : বোলাররা তাদের দায়িত্ব পালন করেছেন ঠিক মতো। প্রথম দিনেই অলআউট করে দিয়েছেন টেস্ট র্যাংকিংয়ের শীর্ষে থাকা দক্ষিণ আফ্রিকাকে। দায়িত্ব দেখানোর পালা ব্যাটসম্যানদের। দুটি হাফ সেঞ্চুরিতে আপাতত দ্বিতীয়দিনের দায়িত্বটা ভালোই দেখিয়েছে তামিম-মাহমুদুল্লাহরা।
বৃষ্টির কারণে দিনের বাকি ২৫ ওভার খেলা হলে হয়তো সফরকারীদের টপকে গিয়ে লিডও নেয়া হযে যেতো বাংলাদেশের। কিন্তু; প্রকৃতির ওপর তো আর কারও হাত নেই! সুতরাং, মেনেই নিতে হবে এ পরিস্থিতি। ফলে দ্বিতীয় দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৭৯ রান। সফরকারীদের চেয়ে এখনও ৬৯ রান পিছিয়ে স্বাগতিকরা।
চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনই চারজন ক্রীড়াবীদের ছবি একসাথে করে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন ডেল স্টেইন। চারজনের ভেতর দু’জন টেনিসের ফেদেরার এবং নাদাল, দু’জন ক্রিকেটার। এই দু’জনের একজন আবার স্টেইন নিজে। অন্যজন অসি কিংবদন্তী পেসার ডেনিস লিলি। চারজনের একটাই বৈশিষ্ট্য, হেয়ার ব্যান্ডের মত মাথার চুলে একধরনের কাপড় বেধে খেলতে নামা। নাদাল-ফেদেরার নিয়মিতই বেধে থাকেন। ডেনিস লিলিও বাধতেন। এদের সঙ্গে এবার নিজেকে যুক্ত করলেন স্টেইনও। মাথায় সাদা পট্টি বেধে আজ বোলিং করেন তিনি। টুইটারেই জানিয়েছিলেন, টেস্টের দ্বিতীয়দিন মাথায় কাপড় বেধেই বোলিং করতে নামবেন তিনি। লিখেছিলেন, ‘এ পদ্ধতি যদি তাদের ক্ষেত্রে কাজ করে, তাহলে আমার ক্ষেত্রে করবে।’
৪০০ উইকেটের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বর্তমান সময়ের সেরা এই পেসার। আর মাত্র ৪টি উইকেট পেলেই নতুন এই মাইলফলক স্পর্শ করবেন তিনি। স্টেইন ভেবেছিলেন, আজই হয়তো রেকর্ডবুকে উঠে যাবে তার নাম। কিন্তু, বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা শুধু হতাশই করলেন তাকে। একে তো উইকেটই শিকার করতে পারলেন না, তারওপর স্টেইনের কাছে থেকেই নিয়েছেন সবচেয়ে বেশি রান। উইকেট না পাওয়ার হতাশায় গতির পর গতিময় বোলিং করে গেছেন। বাউন্সারের পর দিয়েছেন বাউন্সার। তাতে তামিম, রিয়াদদের মোটেও বিপদে ফেলতে পারেননি তিনি।
ইমরুল কায়েস আর তামিম ইকবালের ৪৬ রানের জুটি স্টেইন-ফিলান্ডারদের দিয়ে ভাঙতে না পেরে অকেশনাল বোলার স্টিয়ান ফন জিলকে আক্রমণে আনেন আমলা। তাতেই প্রথম সাফল্য ধরা দেয়। ২৬ রান করে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফিরে যান ইমরুল। এরপর সাইমন হারমারের বল সঠিকভাবে বুঝতে না পেরে উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসেন টেস্টে বাংলাদেশের সেরা ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক।
প্রোটিয়াদের উৎসব ওই পর্যন্তই। এরপর তামিম আর মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ মিলে গড়েন ৮৯ রানের জুটি। ডিন এলগারের বলে বোল্ড হওয়ার আগে ক্যারিয়ারে ১৮তম হাফ সেঞ্চুরিটা করে ফেলেন তামিম। ১৪৪ রানে ৩য় উইকেট। এরপর হাফ সেঞ্চুরি পূরণ করে ফেলেন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদও। ৬৭ রানে থাকা অবস্থায় ভারনন ফিল্যান্ডারের বলে এলবিডব্লিউ হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ১৭৮ রানের চতুর্থ উইকে পড়ার পর জুটি বাধেন সাকিব এবং মুশফিক। তবে বেশিক্ষণের জন্য নয়। এরপরই বৃষ্টির বাধায় পণ্ড হয়ে যায় তৃতীয় সেশনের খেলা।
টেস্টের তৃতীয় দিনের চিত্র কী দাঁড়ায় সেটা এখনও বলা মুস্কিল। তবে, টেস্ট র্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা দলটির সঙ্গে যেভাবে সমান তালে লড়াই করে যাচ্ছে মুশফিকুর রহিমের দল, সেটাই তো বদলে যাওয়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

