স্পোর্টস ডেস্ক : সামনে ঈদ। প্রিয়জনদের জন্য শেষ মুহুর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত সবাই। অনেকেই আবার নাড়ীর টানে ছুটছে গ্রামের বাড়ী। যাত্রা পথে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হলেও সবার মনে অগ্রীম ঈদের আনন্দ, উপলক্ষ্য প্রিয়মানুষদের সঙ্গে ঈদ উদযাপন। ঈদের এই আনন্দের সঙ্গে এবার যোগ হয়েছে বাড়তি আনন্দ, রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার বিস্ফোরণ। এমন বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ্য বয়ে এনেছে টিম টাইগার্স। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে অবিস্ময়রণীয় ওয়ানডে সিরিজ জিতেছে মাশরাফি শিবির। ঈদের আগে এটা যেন বাংলাদেশের ১৬ কোটি মানুষের ঈদ উপহার। ঈদের আগে ঈদের আনন্দ। সত্যিই মনমুগ্ধকর, বিস্ময়জাগানিয়া।
ঘরের মাঠে টানা চার সিরিজ জয়। জিম্বাবুয়ে, পাকিস্তান, ভারতের পর দক্ষিণ আফ্রিকা। জিম্বাবুয়ে বাদ দিলে বাকি তিন প্রতিপক্ষ ক্রিকেট বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা এতদিন বাংলাদেশের কাছে ছিল দুর্বোধ্য এক টিমের নাম। প্রথম জয় ২০০৭ সালে গায়ানায়। দীর্ঘ আট বছর পর দ্বিতীয় জয় দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। আর তৃতীয় ম্যাচের জয় দিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজও টাইগার্সদের। ঈদের আগে টাইগার্সদের এমন সাফল্য উল্লাসে মাতোয়ারা গোটা বাংলাদেশ। ব্রাভো মাশরাফি দ্যা ব্রিগেড।
কত অপেক্ষা, কত আফসোস। তবে চলতি বছরটা বাংলাদেশের জন্য সোনায় সোহাগা। বলতে গেলে ক্রিকেটের সোনালী দিন পার করছে এখন ম্যাশ শিবির। যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র জয় ছিল ১৯৯৯ বিশ্বকাপে। সেই পাকিস্তানকে ধবলধোলাই করেছে বাংলাদেশ। যে ভারতের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজ জয় ছিল আরাধ্যের, সেটাও করে দেখিয়েছে তামিম-সাকিবরা। অন্যতম পরাশক্তি হিসাবে দক্ষিণ আফ্রিকা গোটা বিশ্বেই পরিচিত, সেই প্রোটিয়া শিবিরও কুপোকাত বাঘের থাবায়। সত্যিই বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশকেই দেখা যাচ্ছে এখন। ক্রিকেট বিশ্বে এখন আর বাংলাদেশ আন্ডারডগ নয়, প্রবল প্রতাপশালী এক দলই বলা যেতে পারে।
অথচ এই দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে দুই ম্যাচের টি২০ সিরিজে হার দিয়ে শুরু। ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হার। তখনই শংকা জেগেছিল, তাহলে কি কক্ষচ্যুত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? সিরিজে হারবে, নাকি হোয়াইটওয়াশ হবে? না, দ্বিতীয় ম্যাচেই টাইগার্সদের রাজসিক প্রত্যাবর্তন, ৭ উইকেটের দাপুটে জয়ে সিরিজ সমতা। বুধবার তৃতীয় ম্যাচের জয়টা প্রতাপশালী কোন দলের মতোই, ৯ উইকেটে। কি আশ্চর্য!
প্রথম ম্যাচের মতো তৃতীয় ম্যাচেও বৃষ্টি বাগড়া। ৪০ ওভারে ম্যাচ নেমে আসা। দুর্দান্ত বোলিংয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা ১৬৮ রানেই আটকা। ১৭০ রানের টার্গেটে বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে পৌছালো ৮৩ বল হাতে রেখে, উইকেট গেল একটি। কি অসাধারণ পারফরমেন্স। তামিম অপরাজিত ৬১, সৌম্য সরকার ৭৫ বলে করলেন ৯০। হাঁকালেন ১৩ চার আর ১ ছক্কা। ম্যাচ সেরা ও সিরিজ সেরা সৌম্যই, তবে আফসোস থাকল সেঞ্চুরি না করতে পারায়।
এই জয়টা গোটা টিম পারফরমেন্সের প্রতিচ্ছবি। বোলিং, ফিল্ডিং, ব্যাটিং- তিন ভার্সনেই দুর্দান্ত। কাটার বিস্ময় ম্স্তুাফিজও এদিন আলোচনায়। সাকিব তিন উ্ইকেট নিয়ে ছুলেন ২০০ উইকেটের মাইলফলক। একই কীর্তি গড়লেন মাশরাফি এক উইকেট নিয়ে। রুবেলের আগুণঝড়ানো বোলিংয়ের সঙ্গে রিয়াদের স্পিনও বেশ খেল এদিন। শেষটা করলেন তামিম ও সৌম্য ব্যাট হাতে প্রোটিয়া বোলারদের কচু কাটা করে।
বাংলাদেশ প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ জয়ের স্বাদ পায় ২০০৫ সালে, জিম্বাবুয়েকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল। এরপর লাল-সবুজের দল জিতেছে মোট ১৮টি ওয়ানডে সিরিজ। এর মধ্যে আটটি এসেছে জিম্বাবুয়ে, দুটি করে নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও কেনিয়ার বিপক্ষে। একটি করে ভারত, পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। আর সর্বশেষ এ তালিকায় যুক্ত হলো দক্ষিণ আফ্রিকার নাম।
সব মিলিয়ে রইল বাকি তিন। অর্থাৎ, বড় তিনটি দল রয়েছে, যাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ এখনও সিরিজ জিততে পারেনি। দলগুলো হলো, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলংকা ও ইংল্যান্ড।
এরাও বাঘের ডেরায় এলে ছিন্নভিন্ন হবে, সেদিন আর বেশী বাকি নেই।
জয়তু, বাংলাদেশ।

