চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : ‘ঈদের দিনগুলোর অন্যতম মজা হচ্ছে ঘুরতে। স্বপরিবারে অথবা বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে কোথাও না কোথাও যেতে। মন চাচ্ছে মা-বাবার সঙ্গে কোথাও না কোথাও ঈদের দিনে ঘুরতে যাই। তবে ঘোরাঘুরি মজাটা যেন আর হবেনা। কারণ ঈদের ক’দিন পরইতো ক্যাম্পাস খুলবে। তার ক’দিন পর তৃতীয় বর্ষের পরীক্ষা। ঈদের পর অল্প যে ক’দিন ছুটি আছে তাতে না হবে পড়াশুনা, না হবে বেড়াতে যাওয়া। তাই ঈদে বন্ধুদের সাথে থেকে যাব হলেই। পরীক্ষা শেষ হলে লম্বা ছুটিতে বাড়ি যাব।’
কথাগুলো চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শিশির সজিব এর। তার বাড়ি কুষ্টিয়াই। থাকেন চবির স্যার এএফ রহমান হলে।
শুধু শিশির সজিব নন, ঈদের পরপরই পরীক্ষা থাকায় এবার বাড়ি যাওয়া হচ্ছেনা চবির বেশ কয়েকটি বিভাগের শিক্ষার্থীদের। শুধু যে পরীক্ষার কারণে বাড়ি যাচ্ছেনা সবাই তা কিন্তু নয়। কারো সামনে পরীক্ষা। কারো বাড়ি অনেক দূরে। কেউ যাবেনা রাজনীতির নেশায়। আবার কারো রয়েছে টিউশনের দায়বদ্ধতা।
গত ১৬ জুন থেকে ক্যাম্পাস ৪৫ দিনের জন্য বন্ধ হওয়ায় বেশ ফাঁকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। নেই শিক্ষার্থীদের ছোটাছুটি। নেই কোনো গল্প, আড্ডা। হলগুলোতেও নেই কোনো হৈ-হুল্লোড়। হলে এসে ক্লাস আছে বলে কেউ ডাকতেও আসেনা। ঝুঁপড়িগুলো পড়ে রয়েছে নিস্তেজ। ফ্যাকাল্টি ভবনের শ্রেণীকক্ষে ঝুলছে তালা। বিশ্ববিদ্যালয় রেলষ্টেশনে জমছে না আড্ডা। লাইব্রেরীতে নেই তেমন শিক্ষার্থীদের আনাগোনা। তবে ব্যতিক্রম আবাসিক হলগুলো। হলের করিডোর ধরে হাঁটলেই কানে বাজবে পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনার গুনগুন শব্দ। আবার ছাত্র রাজনীতির নেশায় পড়ে বাড়ি যাচ্ছেন না প্রায় দু’শতাধিক ছাত্র। ঈদের পরপরই ছাত্র কিংবা ছাত্রীর পরীক্ষা থাকায় টিউশন করানো শিক্ষার্থীরা মা-বাবার সাথে করতে পারছেনা ঈদ।
এ ব্যাপারে ফলিত ও রসায়ন বিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘ঈদের পরপরই পরীক্ষা। ঈদের বাড়ি গেলে পড়াশুনা হবেনা, বেড়ানোও হবেনা। তবে মা-বাবাকে ছাড়া ক্যাম্পাসে ঈদের সময় কাটানো সত্যি কষ্টকর। তারপরও কিছু করার নেই।’
পদার্থ বিদ্যা বিভাগের মাষ্টার্সের শিক্ষার্থী আসিফ বলেন, ‘ঈদেও ক’দিন পরেই আমার ছাত্রের পরীক্ষা। দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এ সময় তার পাশে থাকা জরুরী। ছাত্রের পরীক্ষা শেষ হলে তবেই বাড়ি যাবো। তবে ঈদে বাবা-মাকে ছাড়া থাকতে খারাপতো একটু লাগবেই।’
ঈদের সময় বাড়িতে যাওয়া চরম ভোগান্তির অজুহাতেও বাড়ি যাবেন না কিছু শিক্ষার্থী। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী রাসেল। বাড়ি কুমিল্লা।
তিনি বলেন, ‘খুব বেশিদিন হয়নি বাড়ি থেকে এসেছি। তাই ঈদে আর বাড়ি যাওয়া হবে না। কারণ দ্বিগুণ দাম দিয়ে টিকেট কিনেও শত শত মাইল পথ দাড়িয়ে বাড়িতে পৌছতে হয়। তাই এই ভোগান্তির কারণে ঈদের পর সবকিছু স্বাভাবিক হলেই বাড়ি যাবো।’
ঈদে বাড়ি যাচ্ছেন না বলে কি থেমে থাকবে তাদের ঈদ আনন্দ? তা কিন্তু না। নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছেন তারাও। ঈদের দিন কেউ ছুটবেন শহরের বন্ধুদের বাসায়, কেউ হানা দিবে বিনোদন স্পটগুলোতে। আর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বাড়ি না যাওয়া এই শিক্ষার্থীদের জন্য রাখছে ঈদের দিনে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা। দুপুরের খাবারেও থাকবে পোলাও, মাংস, ডিম আর সবজি। সকালে থাকবে সেমাই।
স্যার এএফ রহমান হলের প্রভোষ্ট এসএম মনিরুল হাসান বলেন, ‘এবার অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা থাকায় ঈদ উদযাপন করবে হলে। পরিবারের সাথে ঈদের সময়টুকু কাটানো সুযোগ হাত ছাড়া করতে চাইছিনা বলেই আমাকে কিছুটা স্বার্থপর হতে হচ্ছে। ঢাকায় পরিবারের সাথে ঈদ করলেও মন পড়ে থাকবে শিক্ষার্থীদের মাঝে। ঈদের দিন তাই হল কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য ব্যবস্থা করছে বিশেষ খাবার।’

