ঢাকাTuesday , 14 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দ. আফ্রিকাকে হারানোর এটাই বড় সুযোগ: সাকিব

Link Copied!

Sakibচট্টগ্রাম প্রতিনিধি : বিশ্বকাপের পর থেকে ঘরের মাঠে অসাধারণ পারফরম্যান্স উপহার দিচ্ছে বাংলাদেশ। শুরুতে পাকিস্তান, এরপর ভারতকে হারিয়েছে মাশরাফি অ্যান্ড কোং। এবার ক্রিকেটের আরেক পরাশক্তি প্রোটিয়া জয়ের মিশন। আর এবারই শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানোর বড় সুযোগ বলে মনে করছেন বাংলাদেশ দলের বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান।
এনপোলি ন্যাশনাল পলিমার বাংলাদেশ-দক্ষিণ আফ্রিকা তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচে বুধবার মুখোমুখি হওয়ার আগে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘সিরিজের এই পর্যায়ে এসে কেউই ফেভারিট নয়। দক্ষিণ আফ্রিকা নিশ্চয় অনেক বড় দল। তবে আমারও তাদের ছাড় দেবো না। কালকে জয়ের জন্যই আমরা মাঠে নামবো। দু’দলের সামনেই ম্যাচ জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা তাদের আগে কোন সিরিজ হারাতে পারিনি। এটাই বড় সুযোগ।’
চট্টগ্রামে সাকিবদের সামনে সিরিজ জয়ের হাতছানি। তাই সিরিজ নির্ধারণী এই ম্যাচ নিয়ে সাকিবের মূল্যায়ণ হচ্ছে- ‘সব ম্যাচেই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সব ম্যাচেই জেতার জন্য মাঠে নামি। হয়তো তা হয়ে উঠেনা। সিরিজের এই পর্যায়ে এসে কালকের ম্যাচটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ, যেহেতু এটি একটি সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পরিণত হয়েছে। কালকে যদি আমরা ভালোভাবে খেলতে পারি তাহলে সেটি হবে আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। গত কয়েক মাস ধরে আমরা ঘরের মাঠে কোন সিরিজই হারিনি। ম্যাচটি এত বড় না হলেও কিন্তু আমাদের সামনে তাদের বিরুদ্ধে জেতার সুযোগটা বড় বলে মনে হচ্ছে।’
‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারানো বড় ব্যাপার। যেহেতু এরআগে তাদের কখনো হারাতে পারিনি। গত ম্যাচে তাদের হারিয়েছি। আশা করছি আগামীকালও তাদের হারানোর সুযোগটি কাজে লাগাবো। এটা হলে তা হবে আমাদের জন্য বড়  অপরচুনিটি।’ -বলেন বিশ্ব সেরা এ অলরাউন্ডার।
ঘরের মাঠে পাকিস্তান ও ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ জেতার পর হঠাৎ দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে হারার পর দ্বিতীয় ম্যাচেই চমৎকারভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। খেলার আগের দিন ড্রেসিং রুমে স্বয়ং বিসিবি সভাপতি গিয়ে খেলোয়াড়দের সর্তকও করেছেন। প্রশ্নটা ছিল দ্বিতীয় ম্যাচে দারুনভাবে ফিরে আসার রহস্যটা কি ছিল?
সকিব বললেন- ‘প্রথম ম্যাচে হারার পর আমাদের মধ্যে তেমন কোন মোটিভেশনাল বা বাড়তি কিছু কাজ করেনি। সিরিজে ঠিকে থাকার জন্য দলের সকলেই চেষ্টা করেছিল। দ্বিতীয় ম্যাচে আমরা সেটি পেরেছি। এখন যেহেতু তৃতীয় ম্যাচটাই ফাইনালে পরিণত হয়েছে। দলের সকলেই চাইবে সেটিতে জয়ী হয়ে সিরিজ নিজেদের করে নিতে। সিরিজ জিততে হলেতো যে কোন এক দলকেই দুই ম্যাচে জিততে হবে। সেটি যে কেউ জিততে পারে।’
দীর্ঘদিন ধরে দলে ভালো বোলিং করে আসলেও গত কয়েক ম্যাচে উইকেট পাচ্ছেন না বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। সেটি নিয়ে তার মধ্যে কোন অনুতাপ বা কষ্ট আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘দলে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাটে বলে কনট্রিভিউট করছি। আমি লাস্ট ম্যাচে আমার মত করে বল করতে পেরেছি। চেষ্টা করছি দলকে বেটার সার্ভিস দিতে। হয়তো বিপক্ষ দলের ব্যাটসম্যানরা আমাকে সাবধানে খেলছে বলে আমি ইউকেট পাচ্ছিনা। ওয়ানডে ম্যাচে উইকেট পাওয়াটা কষ্টকর। সেখানে ভাগ্য একটা সহায়ক ভূমিকা পালন করে। উইকেট পেলে ভালো লাগতো। এরপরও আমি এই পারফরম্যান্সে খুশি।’
চট্টগ্রামে আবহাওয়ায় স্বাগতিক দল কোন বাড়তি সুবিধা পাবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে সাকিব বলেন, ‘চট্টগ্রামে গরমটা তাদের তেমন বেশি ভোগাবে বলে মনে হয়না। তারা এরআগেও অনেক দেশে এই কন্ডিশনে খেলে এসেছে। হয়তো তারা সেটি মানিয়ে নিতে পারবে।’
ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনার ইমরান তাহির বলেছিলেন, চট্টগ্রামের এই উইকেটে ২৫০ রান করতে পারলেই ম্যাচ জেতা সম্ভব। তার এই বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষণ করে সাকিব বলেন, ‘উইকেট না দেখে কতটা স্কোর করলে সেটি কতটা নিরাপদ বলা মুশকিল। তারা যে ২৫০ রানকে নিরাপদ স্কোর বলছে সেটি নির্ভর করবে আসলে বিপক্ষ দলের বোলিং ও ব্যাটিংয়ের ওপর।’
বলা হয়ে থাকে উপমহাদেশীয় দল ছাড়া অন্য দলগুলোর কাছে বাংলাদেশের স্পিনারা খুবই ভয়ংকর হয়ে উঠে। এবারও কি সেই স্পিনাররা সফরকারীদের ভোগাবে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশ দলের লেগ স্পিনার সাকিব বলেন, ‘এখানে ম্যাচ জিততে হলে শুধুমাত্র স্পিন বোলার কিংবা বোলারাই ভূমিকা রাখলে চলবে। আমাদের ব্যাটিং বোলিং ও ফিল্ডিং এই তিন বিভাগেই সমান ভূমিকা রাখতে হবে। সেটি মাঠে এবং মাঠের বাহিরে দুই জায়গাতেই।’
কালকের ম্যাচ জিতলেই শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে সিরিজ জয়। সেটি কি দেশবাসীর জন্য ঈদ উপহার হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছে কিনা? এই প্রশ্নের উত্তরে দলের ভাইস ক্যাপ্টেন সাকিব বলেন, ‘সিরিজ জিতে দেশবাসীকে ঈদের উপহার দেয়া বা এধরণের কিছু আমার মাথায় নেই। অন্যদের আছে কিনা আমি জানিনা। তবে আমরা ম্যাচটি জিততে চাই। এটি হলে তা হবে আমাদের সবার জন্য খুশির খবর। যেহেতু আমরা সাউথ আফ্রিকার সাথে আগে কোন সিরিজ জিততে পারিনি। তাই সকলেই চাই সিরিজটা জিততে।’
বলা হয়ে থাকে খাদের কিনারায় থাকা বাংলাদেশ দলকে সব সময় টেনে তুলেছে টাইগারদের লাকি গ্রাউন্ড হিসেবে খ্যাত চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামকে। এবার বাংলাদেশ দল রয়েছে জয়ের ধারায়। তাহলে কি কালকে আফ্রিকাকে হারিয়ে সেই চট্টগ্রামেই নতুন করে ইতিহাস রচনা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ? তবে সাকিব বললেন, ‘আগের ম্যাচগুলোতে আমরা হারলেও এখন জেতার মধ্যে এসে চট্টগ্রামে খেলতে নামবো। হয়তো এখন চট্টগ্রামই চাপে রয়েছে! আসলে আমরা এভাবে কখনো চিন্তা করিনা। বাংলাদেশের সব মাঠই আমাদের হোম গ্রাউন্ড। আমরা সব মাঠেই জিতেছি। আসলে জিততে হলে মাঠেই ভালো খেলতে হবে।’
তৃতীয় ম্যাচে দলে কোন পরিবর্তন না আসার ইঙ্গিত দিয়ে দলের ভাইস ক্যাপ্টেন বলেন, ‘তৃতীয় ম্যাচে দলে তেমন কোন পরিবর্তন আসার কথা আমি জানিনা। সম্ভবত দলে সেই রকম কোন পরিবর্তন আসবে বলে মনে হয়না।’
ঘরের মাঠে সব দলকেই হারানো সামর্থ রয়েছে জানিয়ে সাকিব বলেন, ‘আসলে এক ম্যাচ হারলে কিংবা জিতলেই যে আত্মবিশ্বাস তলানীতে যাওয়া কিংবা উপরে উঠবে সেটি ঠিকনা। আমাদের যে সামর্থ আছে আমরা চাইলে ঘরের মাঠে যে কোন দলের বিরুদ্ধে আমরা জিততে পারবো। সব কিছু ঠিক মত হলে আমাদের পক্ষে একটি রেজাল্ট আসা সম্ভব।’