স্পোর্টস ডেস্ক : চট্টগ্রাম বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য লাকি ভেন্যু। এখান থেকে অনেক সাফল্যই ধরা দিয়েছে বাংলাদেশের ক্রিকেটে। চট্টগ্রাম অনেক কিছুই উপহার দিয়েছে বাংলাদেশকে। এবার কি তবে বিরল এক ইতিহাস সৃষ্টির ধারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বন্দর নগরীর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়াম! এখানেই কি তবে ক্রিকেটের পরাশক্তি দক্ষিণ আফ্রিকাকে সিরিজ হারানোর স্বপ্ন পূরণ করতে পারবে মাশরাফি বাহিনী?
টানা তিনটি সিরিজ জয়ও কবে বাংলাদেশ পেয়েছিল? পরিসংখ্যান ঘেঁটে উত্তর বের করার প্রয়োজন নেই। কারণ, সবারই জানা, এখনও পর্যন্ত টানা তিনটি সিরিজ জয়ও পায়নি বাংলাদেশ। তাহলে, সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার ধারপ্রান্তেও তো দাঁড়িয়ে টিম বাংলাদেশ। আরেকটি প্রোটিয়া বধ কি তবে উপহার দেবে চট্টগ্রামের লাকি ভেন্যু?
কারও সামনে সম্মান বাঁচানোর লড়াই, আবার কারও সামনে ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ। একদলের হারানোর কিছু নেই তো অন্য দলের সামনে জাত-কুল সব হারানোর শঙ্কা। কে জিতবে! ইতিহাস সৃষ্টির সুযোগ না কি সম্মান বাঁচানোর লড়াই!
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়াম এমনই এক সমীকরণের মুখে দাঁড়িয়ে। জীবন-মরণের সীমানায় দাঁড়িয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা এবং হাশিম আমলা। তাদের কাছে এখন জয় মানে জীবন। আর ইতিহাসের স্বপ্ন উঁকি মারছে পুরো বাংলাদেশের চোখে-মুখে। আগের ম্যাচের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে, ইতিহাসের স্বপ্নই বাস্তবতার মোড়কে বন্দী করে বাংলাদেশের মানুষের সামনে উপস্থাপন করতে পারবেন মাশরাফিরা।
এবি ডি ভিলিয়ার্সের পরিবর্তে প্রোটিয়া ওয়ানডে দলের ভারপ্রাপ্ত নেতৃত্ব এখন হাশিম আমলার কাঁধে। টেস্টে তিনি নিয়মিত অধিনায়ক। এমনকি আমলার নেতৃত্বে নিয়মিত সাফল্যও ধরা দিচ্ছে দক্ষিণ আফ্রিকার হাতে। কিন্তু সুনারির তোড়ে যেভাবে বিশাল বিশাল দালান-কোঠাও পানিতে তলিয়ে গিয়ে ভুপাতিত হয়, তেমনি মাশরাফিরা যে সুনামি তৈরী করেছেন সেটা রোখা কি সাধ্য হাশিম আমলার!
এখানে তো আর নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে না। প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে, প্রোটিয়াদের সম্মান রক্ষার। ক্রমবর্ধমান ক্রিকেট (ওয়ানডে) পরাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে থাকা বাংলাদেশের সামনে যে সয়লাব হতে হয়েছে পাকিস্তান, ভারতের মত পরাশক্তিকে। তেমনি একই পথ ধরে দক্ষিণ আফ্রিকাও।
বৃষ্টি বিঘ্নিত না হলে, প্রথম ম্যাচেও হয়তো ফলটা ভিন্ন হতে পারতো। ওই ম্যাচে বাংলাদেশ হেরে গেলেও আত্মবিশ্বাস যে মোটেও হারায়নি সেটা দেখা গেলো দ্বিতীয় ম্যাচে এসে। বল হাতে রুবেল-মুস্তাফিজরা যে দুর্ধর্ষ বোলিং করলেন, তা রীতিমত বিস্ময়কর। প্রোটিয়া ব্যাটিং লাইনআপ দাঁড়াতেই পারেনি তাদের সামনে।
১৬২ রানে অলআউট হয়ে যাওয়া পর রীতিমত প্রোটিয়া বোলারদের নিয়ে ছেলেখেলা করেছে সৌম্য-মাহমুদুল্লাহরা। ….. ওভারে… মাত্র ৩ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে নোঙ্গর ফেলার পর বাংলাদেশকে নিয়ে তাই নতুন হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। একে তো পাকিস্তান-ওয়েস্ট ইন্ডিজকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি নিশ্চিত করে ফেলেছে মাশরাফিরা, তারওপর দক্ষিণ আফ্রিকার মত দলের বিপক্ষে দাপটের সঙ্গে জিততে জানে তারা।
এ কারণেই, প্রোটিয়া স্পিনার ইমরান তাহির সংবাদ সম্মেলনে এসে বললেন, এ বাংলাদেশ বিশ্বের যে কোন প্রতিষ্ঠিত শক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে জানে। যে কোন শক্তিকে তারা হারানোর ক্ষমতা রাখে।’
চট্টগ্রামে তাই নতুন সূর্য্যের উঁকি-ঝুঁকি। প্রোটিয়াদের হারাতে পারলেই সৃষ্টি হবে নতুন ইতিহাস। আর মাত্র তো একটা ম্যাচ। এই ম্যাচে বাজিমাত করতে পারলেই আরও একটা নতুন রেকর্ডের হাতছানি! প্রথম ওয়ানডের পর যে ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে বাংলাদেশ তাতে আশার মাত্রা আরও বহুগুণ বেড়েছে বুধবারের সিরিজের শেষ ম্যাচকে ঘিরে। টগবগ করে ফুটছে মাশরাফির অ্যান্ড কোং।
দেশের মাটিতে বাংলাদেশ শুধু জিম্বাবুয়েকে হারায় না। এর আগে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বিশ্বকাপের পর টানা জয়ের মধ্যে থেকে পাকিস্তান, ভারতকে হারিয়েছে। প্রোটিয়াদের সেই পথই দেখানোর জন্য মুখিয়ে রয়েছে গোটা বাংলাদেশ।
তবে, সম্মান বাঁচানোর জন্য প্রোটিয়ারাও যে শেষ ম্যাচে লড়াইয়ে নামবে সেটা বলাইবাহুল্য। ইমরান তাহিরই জানিয়ে দিয়েছেন, ‘আমরা জযের জন্যই নামবো।’ তবে তাহিরদের হুঙ্কারে দমতে নারাজ টাইগাররা। দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে যে ভাবে চোখে চোখ রেখে প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল, একইভাবে চট্টগ্রামেও সাফল্যের ফল্গুধারা বইয়ে দিতে প্রস্তুত তারা।
নতুন ইতহাস তৈরীর লড়াইয়ে প্রস্তুত মাশরাফি-সৌম্যরা। অপরদিকে মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে বদ্ধপরিকর প্রোটিয়ারাও। বুধবার এই ম্যাচকে ঘিরে বাংলাদেশে যেন মহোৎসবের চেহারা নিয়েছে। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে একটাই মন্ত্র… প্রোটিয়া হারাও, সিরিজ জেতো… ইতিহাস তৈরী করো…।

