আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : শ্রেণিকক্ষে সপ্তাহে একদিন দর্শনের আলোচনা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষার্থীদের গণিত ও অন্যান্য শিক্ষণে দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। ব্রিটেনে দাতব্য সংস্থা এডুকেশন এনডাওমেন্ট ফাউন্ডেশন (ইইএফ) প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ওপর গবেষণা শেষে এ তথ্য জানিয়েছে।
৪৮টি স্কুলের ৯ ও ১০ বছরের তিন হাজার শিক্ষার্থীর ওপর এ গবেষণা পরিচালনা করা হয়। এসব শিশু সবাই চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রশ্ন , যুক্তি ও বিতর্কে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষার্থীদের নিয়ে সপ্তাহে একদিন ঘণ্টাব্যাপী দর্শন আলোচনার আয়োজন করা হয়। এতে দেখা গেছে, বছরে মাত্র দু’মাস এই আলোচনার ফলে শিক্ষার্থীদের পড়া ও গণিতে উন্নতি হয়েছে। এমনকি অনগ্রসর শিশুদেরও লেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা দরিদ্র পরিবার থেকে থেকে আসা শিশুদের সুবিধার জন্য স্কুলগুলো যেভাবে ব্যয় করছে তা মূল্যায়নের চেষ্টার অংশ হিসেবে ইইএফ এ গবেষণা চালিয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব অনগ্রসর শিশু স্কুলে বিনামূল্যে খাবার পেয়ে থাকে তাদের পড়ার দক্ষতা চার মাসে বৃদ্ধি পেয়েছে, তিন মাসে গণিত ও দুই মাসে লেখার দক্ষতা বেড়েছে।
গবেষণা দলের প্রধান ডারহাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা বিভাগের অধ্যাপক স্টিফেন গোরার্ড বলেন, ‘আমাদের ফলাফলে দেখা গেছে, দর্শনের এই আলোচনা শিশুদের গণিত, পড়া এবং তাদের লেখার দক্ষতার ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তবে বিশেষ করে যেসব শিশু সবচেয়ে বেশি অনগ্রসর (সুবিধাবঞ্চিত) তাদের ওপর এটা বেশ ভালো কাজ করেছে। এটা বেশ উৎসাহব্যঞ্জক, যেহেতু আমরা ও ইইএফ শিক্ষাগত অনগ্রসরতা প্রতিরোধে সাহায্য করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
তিনি বলেন, ‘কোনটা কাজ করে আর কোনটা কাজ করে না তা চিহ্নিত করতে এ ধরনের প্রমাণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং শিক্ষার্থীদের বেতনের টাকা তাদের সর্বোচ্চ ভালোর জন্য কীভাবে ব্যয় করা হবে তা নিরূপণে এটি প্রধান শিক্ষককে সাহায্য করবে।’

