স্পোর্টস ডেস্ক : অস্ট্রেলিয়া দলের দুই সিনিয়র খেলোয়াড় শেন ওয়ানটস ও ব্রাড হাডিনের ভবিষ্যত শংকার মুখে পড়েছে। অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে ব্যর্থতার কারণে দেশটির গণমাধ্যম এই দুজনকে ধুয়ে দিয়েছে। এখনই এই দুজনকে ছেঁটে ফেলার জোর দাবি উঠেছে দেশটিতে।
অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টের দুই ইনিংসে মাত্র ৪৯ (৩০ ও ১৯) রান করেন শেন ওয়ানটসন। হাডিনের অবস্থা আরো নাজুক। দুই ইনিংসে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান করেন ২৯ (২২ ও ৭) রান।
তাছাড়া সর্বশেষ ১৬ ইনিংসে মাত্র দুটি ফিফটি করেছেন অলরাউন্ডার ওয়াটসন। টেস্টে সর্বশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছেন ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে। অন্যদিকে ব্রাড হাডিনের অবস্থা আরো করুণ। টেস্টের সর্বশেষ ২৩ ইনিংসে মাত্র একটি ফিফটি করেছেন তিনি। ওয়ানটসের মতো তিনিও ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে সর্বশেষ সেঞ্চুরির দেখা পান। এই বাজে পারফরম্যান্সের জন্যই তাদের ছেঁটে ফেলার দাবি উঠেছে দেশটিতে।
অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্টে হারের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ ১৯৯৭ সালে সিরিজ জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ফলে ইংল্যান্ড সফরের প্রথম টেস্টে হেরে যাওয়ার পর কঠিন সময়ের মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন ক্লার্করা। দ্বিতীয় টেস্টের দলে পরিবর্তনেরও জোর দাবি উঠেছে।
অস্ট্রেলিয়ার টেলিগ্রাফের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ব্যাটিংয়ের দুর্দশা এবং দলের কিছু সিনিয়র খেলোয়াড়ের ধারাবাহিক ব্যর্থতা দলকে খাদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় মিচেল স্টার্কের ইনজুরি ক্লার্কদের আরো বিপদে ফেলে দিতে পারে।’
অন্য এক প্রতিবেদনে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের বয়সকে প্রথম টেস্টের পরাজয়ের জন্য দায়ী করা হয়। বলা হয়, ‘বুড়ো খেলোয়াড় এবং তাদের ভুল ও দুর্বলতাগুলো অস্ট্রেলিয়াকে হারায়নি। তবে তরুণ, প্রাণচঞ্চল ও একনিষ্ট ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে তাদেরকে বড্ড বেমামান দেখিয়েছে।’
প্রতিবেদনের আরেক জায়গায় বলা হয়, ‘ক্রিকেট হলো বিশেষজ্ঞদের খেলা। তাই বলে দলে পাইকারি হারে পরিবর্তনের দরকার নেই। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া দলের যেই অবস্থা তাতে করে দলে কিছু পরিবর্তন না আনলে এর জন্য চড়া মূল্য দিতে হতে পারে।’
এরপর প্রথম টেস্টে হারের জন্য ওয়াটসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়। বলা হয়, ‘এই পরাজয়ের জন্য ওয়াটসন দায়ী নয়। সে যখন (দ্বিতীয় ইনিংসে) ব্যাটিংয়ে এসেছে তখনই অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় লেখা হয়ে গেছে। কিন্তু সে ছিল (পরাজয়ের) উপসর্গ বা লক্ষণ। খেলায় (ব্যর্থতা সত্ত্বেও) একই কাজ বারবার করা এবং ভালো ফলাফল আশা করা বাতুলতা ছাড়া আর কিছুই নয়।’
জিওফ লেমন নামক এক ক্রীড়া সাংবাদিক ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইটে লিখেন, ‘দেখে মনে হচ্ছে ওয়াটসনের সময় শেষ হয়ে গেছে। এটা এজন্য নয় যে তার সমালোচনা হচ্ছে। তবে এর জন্য সে-ই দায়ী। তার আত্মবিশ্বাসে ঘাটতি রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে না যে সে খেলাটা উপভোগ করছে।’
এরপর উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান ব্রাড হাডিনের সমালোচনা করে বলা হয়, ‘ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিক ব্যর্থতার পরও বুড়ো কিপারকে নিয়ে গোঁড়ামির পর দেখা গেল গ্লাভস হাতেও বাজে নৈপূণ্য উপহার দিয়েছে সে। টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম সেশনে জো রুটের ক্যাচ ফেলে দেয়ার পরই মনে হয় ম্যাচের ভাগ্য লেখা হয়ে গেছে।’

