ঢাকাWednesday , 8 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মিসবাহদের প্রশংসায় ইনজামাম-মিয়াঁদাদ

Link Copied!

pakistanস্পোর্টস ডেস্ক : স্বাগতিক শ্রীলংকার বিপক্ষে ঐতিহাসিক টেস্ট সিরিজ জয় করায় পাকিস্তানের সাবেক দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার ইনজাজাম উল হক ও জাভেদ মিয়াঁদাদ মিসবাহ-উল-হকের দলের প্রশংসা করেছেন। গত ৯ বছরে এই প্রথম শ্রীলংকাকে তাদের মাটিতে টেস্ট সিরিজে পরাজিত করে পাকিস্তান।
তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজের তৃতীয় টেস্টে জয়ের জন্য ৩৭৭ রানের বিশাল লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে ১৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে পাকিস্তান। তবে এরপর ইউনিস খান ও শান মাসুদের মহাকাব্যিক জুটির ওপর ভর করেন ৭ উইকেট হাতে রেখেই ম্যাচ জিতে যায় মিসবাহ-বাহিনী।
ইউনিস খান ১৭১ রানের হার না মানা নান্দনিক ইনিংস খেলেন এবং শান মাসুদ আউট হওয়ার আগে ১২৫ রানের দর্শনীয় ইনিংস উপহার দেন।
তৃতীয় টেস্ট জয়ের ফলে তিন ম্যাচ টেস্ট সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নেয় সফরকারী পাকিস্তান। ২০০৬ সালের পর এই প্রথম শ্রীলংকাকে তাদের মাটিতে টেস্ট সিরিজে পরাজিত করার স্বাদ পায় পাকিস্তান।
এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের ফলে মিসবাহদের প্রশংসা করে ইনজামাম উল হক বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক জয়। এই জয়টি (তৃতীয় টেস্ট জয়) আরো বেশি প্রশংসার দাবি রাখে, কেননা, রান তাড়ায় আমাদের সবচেয়ে বেশি দুর্বল মনে করা হয়। কিন্তু ইউনিস ও (শান) মাসুদের নেতৃত্বে ছেলেরা পাকিস্তানকে অসাধারণ জয় এনে দিলো। অনেকেই হয়তো এই ম্যাচে আমরা জয় পাবো সেটি চিন্তাও করেননি।’
শ্রীলংকার বিপক্ষে মিসবাহ-উল হকের দল যেই দৃঢ় প্রত্যয় দেখিয়েছে সেটি আগামীতে দলকে আরো ভালো খেলতে আত্মবিশ্বাস জোগাবে বলে মনে করেন পাকিস্তানের সাবেক অধিনায়ক ইনজামাম-উল-হক।
ইনজামাম বলেন, ‘লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর যেই প্রত্যয় মিসবাহর দল দেখিয়েছে সেটিতে আমি অনেক আনন্দিত। কেননা, প্রথম ইনিংসে মাত্র ২১৫ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচে ফিরে আসাটা সত্যিই অনেক কঠিন। তাছাড়া শ্রীলংকা ম্যাচে বেশ প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে। কিন্তু পাকিস্তান অসাধারণ লড়াই করে কাম-ব্যাক করেছে এবং ৩৭৭ রান তাড়া করে যে এভাবে দুর্দান্ত প্রতাপের সঙ্গে জিতেছে সেটি আগামীতে দলকে আরো আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। আগামীতে টেস্টে তারা ৩৫০ থেকে ৪০০ রান তাড়া করে জিততে পারবে এমন আত্মবিশ্বাস এখন তাদের মধ্যে কাজ করবে।’
এসময় ১৭১ রানের মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে দলকে অসাধারণ জয় এনে দেয়া অভিজ্ঞ তারকা ইউনিস খানের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন পাকিস্তানের সাবেক এই অধিনায়ক। পাকিস্তানের ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী তারকা বলেন, ‘ইউনিস যে এখনো দলের সেরা খেলোয়াড় সে সেটি আবার প্রমাণ করেছে। দলে সিনিয়র খেলোয়াড়দের উপস্থিতি তরুণদের যে অনুপ্রাণিত করতে পারে সেটিও সে দেখিয়েছে।’
ইনজামাম উল হকের কথারও ‘প্রতিধ্বনি’ শোনা যায় পাকিস্তানের কিংবদন্তি ক্রিকেটার জাভেজ মিয়াঁদাদের কণ্ঠে। পাকিস্তানের ৯২ বিশ্বকাপজয়ী দলের এই অপরিহার্য সদস্য বলেন, ‘এটি ঐতিহাসিক জয়। (৩৭৭) রান তাড়া করে জেতাটা প্রমাণ করে আমাদের খেলোয়াড়রা আগের চেয়েও শক্তিশালী এবং তাদের বিশ্বসেরা হওয়ার মতো সম্ভাবনা ও যোগ্যতা রয়েছে।’
ইউনিসকে নিয়ে মিয়াঁদাদ বলেন, ‘তাকে নিয়ে আমি বেশি কিছু বলতে পারি না, তবে তার পারফরম্যান্সই তার হয়ে কথা বলছে। সাম্প্রতিক সময়ে (টেস্টে) ইউনিস সবচেয়ে আলোচিত খেলোয়াড়দের একজন। তার চেয়ে সবচেয়ে বড় কথা হলো, সে যদি আজ কোনো ভুল করে বসে তবে পরের দিন সেই ভুল কাটিয়ে দারূণ কিছু করে দেখাবে। দলের সবার মধ্যে তার ফিটনেসই সবচেয়ে ভালো।’
প্রসঙ্গত, শ্রীলংকার বিপক্ষে ১৭১ রানের ইনিংস খেলা ইউনিস খান একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে ৫টি সেঞ্চুরি করার বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। চতুর্থ ইনিংসে চারটি সেঞ্চুরি করা সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার জিওফ বয়কট ও সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটের সুনিল গাভাস্কারের মতো কিংবদন্তিদের পেছনে ফেলে অনন্য উচ্চতায় উঠেন পাকিস্তানের এই বর্ষীয়ান ক্রিকেটার।