ঢাকাWednesday , 8 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রুয়েফ-পুসকাস-জিকোর পথে মেসি?

Link Copied!

Messiস্পোর্টস ডেস্ক : কোপা আমেরিকার ফাইনালে সান্তিয়াগোর মাঠে স্বাগতিক চিলির বিপক্ষে হেরে যাওয়ার পর যখন একজন তরুণ সমর্থক মেসির সঙ্গে সেলফি তোলার আবদার করে বসলেন তখন এই আর্জেন্টাইন অধিনায়কের কাছে পৃথিবীটা কতো কষ্টকর মনে হয়েছে তা তিনিই কেবল বলতে পারবেন। আর্জেন্টিনার দীর্ঘ প্রায় দুই যুগের শিরোপার খরা ঘুচানোর সুযোগ দুই বছরের ব্যবধানে দুবার পেয়েও কাছে লাগাতে পারেননি এই ক্ষুদে জাদুকর। তাই তো খেলা শেষে বিষণ্ন, বিধ্বস্ত, নিংস্ব মেসিকে হতাশায় মুখ ঢাকতে দেখা যায়।
পরপর দুবার ব্যর্থতার পরও (বিশ্বকাপ ও কোপার ফাইনালে হার) আর্জেন্টিনা ও মেসিভক্তরা বারবার তার কাছে অটোগ্রাফ চাইতে আসেন, সই শিকারের জন্য পেছনে লেগে থাকেন সমর্থকরা। সমর্থকদের যে অধরা ট্রফি এনে দিতে পারছেন না লিওনেল মেসি সেই কষ্ট ভুলবেন কী করে? বিশ্বকাপের পর কোপা আমেরিকার শিরোপাটা কতো কাছাকাছি ছিল, তবে তা সুদূর অতীতই রয়ে গেল।
তবে টানা চারবার ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার ব্যালন ডি’অর জয়ী লিওনেল মেসিই একমাত্র কিংবদন্তী ফুটবলার নন যারা দেশের হয়ে কোনো মেজর শিরোপা জয় করতে পারেননি। এলএম টেন ছাড়াও আরো ৮ জন কিংবদন্তী খেলোয়াড় রয়েছেন যারা দুর্দান্ত প্রতাপে মাঠ দাপিয়ে বেড়ালেও জাতীয় দলের জার্সি গায়ে বড় কোনো শিরোপার দেখা যাননি। আসুন দেখে নেয়া যাক এমন কিংবদন্তী ফুটবলারদের।
১. ইয়োহান ক্রুয়েফ (নেদারল্যান্ড):
(১৯৬৬-৭৭), ৪৮ ম্যাচে ৩৩ গোল
সর্বকালের সেরা ফুটবলারদের একজন বিবেচনা করা হয় নেদারল্যান্ডের সাবেক তারকা ইয়োহান ক্রয়েফকে। দুই ডাচ ক্লাব আয়াক্স ও ফেনুর্ড এবং স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার হয়ে একের পর এক ট্রফি জিতলেও দেশের জার্সিতে কোনো মেজর শিরোপা দেখান পাননি এই কিংবদন্তী তারকা। ডাচ ও স্প্যানিশ লিগের ১০টি শিরোপা এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের তিনটি শিরোপা জয় করেছেন ক্রুয়েফ, হয়েছেন সর্বকালের সেরা কিংবদন্তীদের একজন।
তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসেই যেন সাফল্য আর ধরা দিচ্ছিল না তাকে। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত খেলেও ফাইনালেও স্বাগতিক জার্মানির কাছে হেরে রানার্স-আপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইয়োহান ক্রুয়েফকে। এর দুই বছর পর ইউরো কাপের সেমিতে হেরে শিরোপার স্বপ্ন জলাঞ্জলি দেয় ক্রুয়েফের দল।
২. ফেরেঞ্চ পুসকাস (হাঙ্গেরি):
হাঙ্গেরির হয়ে ১৯৪৫-৫৫ সালে ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল। স্পেনের হয়ে ১৯৬১-৬২ সালে ৪ ম্যাচে গোল নেই
জাতীয় দলের পারফরম্যান্স বিবেচনায় আনলে ফেরেঞ্চ পুসকাস নিশ্চিতভাবে সর্বকালের সেরাদের কাতারে সবার ওপরে থাকবেন। হাঙ্গেরির হয়ে ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল করেছেন যা এক কথায় অবিশ্বাস্য। লিওনেল মেসির মতো ফেরেঞ্চ পুসকাসও দেশের হয়ে অলিম্পিক স্বর্ণ (১৯৫২) জিতেছেন।
১৯৫৪ বিশ্বকাপে শুরু থেকে যেভাবে খেলে হাঙ্গেরি তাতে করে অনেকেই তো পুসকাসদের হাতেই শিরোপা দেখতে শুরু করেন। সেবার গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচে ১৭ গোল করে কোয়ার্টার ফাইনালে উন্নীত হয় হাঙ্গেরি। কোয়ার্টার ও সেমিফাইনালেও গোলবন্যা অব্যাহত থাকে ফেরেঞ্চ পুসকাসদের। কোয়ার্টার ও সেমিতে ৮ গোল করে হাঙ্গেরি। চার ম্যাচে ২৫ গোল করে ফাইনালে পা রাখেন পুসকাসরা।
ফাইনালে হাঙ্গেরি মুখোমুখি হয় জার্মানির, যেই জার্মানিকে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে ৮-৩ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে পুসকাসরা। তবে ভাগ্য সহায় হয়নি এই হাঙ্গেরিয়ান তারকার। ফাইনালে দু’দুবার এগিয়ে গিয়েও ৩-২ গোলের হতাশাজনক পরাজয় নিয়ে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয় পুসকাসদের। সেই সময়কার পারফরম্যান্স বিবেচনায় জার্মানির কাছে হাঙ্গেরির হারকে ‘অঘটন’ বলা যায় নির্দ্বিধায়।
৩. ইউসেবিও, পর্তুগাল
(১৯৬১-৭৩), ৬৪ ম্যাচে ৪১ গোল
শুধু পর্তুগাল নয়, বিশ্বফুটবলের অন্যতম সেরা তারকা মনে করা হয় ইউসেবিওকে। পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকার হয়ে একের পর এক ট্রফি জিতেছেন তিনি। ১১টি লিগ শিরোপার পাশাপাশি ইউরোপিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের মুকুটও জয় করেন এই কিংবদন্তী তারকা। ১৯৬৫ সালে ফিফা বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারজয়ী ইউসেবিও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও শিরোপা জয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গিয়েছেন।
তবে ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হেরে যাওয়ার পর তৃতীয় স্থান নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ইউসেবিওদের। সেই সময় দুর্দান্ত খেললেও জাতীয় দলে তেমন কোনো বড় মাপের তারকা ছিলো না পর্তুগালের। ফলে দেশের হয়ে কিছুই জেতা হয়নি ইউসেবিওর।
১৯৬৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে অনবদ্য এক কৃতিত্ব গড়েন ইউসেবিও। কোয়ার্টারে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে পিছিয়ে পড়েও প্রত্যাবর্তনের মহাকাব্য লিখে ৫-৩ ব্যবধানে ম্যাচটি জিতে সেমিতে যায় পর্তুগিজরা। সেই ম্যাচে ৪ গোল করে ‘বিরল’ রেকর্ড গড়েন ইউসেবিও। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচে আর কোনো খেলোয়াড় চার গোল করতে পারেননি।
সেমিফাইনালেও এক গোল করলেও ববি চার্লটনের জোড়া গোলে ইউসেবির দল ২-১ গোলে হেরে যায়। পরে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইউসেবিওর গোলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে ২-১ গোলে হারায় পর্তুগিজরা। সেবার ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতার (৯টি) পুরস্কার জিতেন বেনফিকার এই কিংবদন্তী তারকা।
৪. জিকো, ব্রাজিল
(১৯৭৬-৮৬), ৭১ ম্যাচে ৪৮ গোল
বিশ্বফুটবলের সেরা তারকাদের একজন ব্রাজিলিয়ান তারকা জিকো। ব্যক্তিগত এমন কোনো সম্মান বাদ নেই যেটা তিনি অর্জন করেননি। ৭০ দশকের শেষ এবং আশির দশকের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বিশ্বের সেরা ফুটবলার হিসেবে নিজেকে চিনিয়েছেন এই কিংবদন্তী তারকা। তবে দলীয় সাফল্যের ঘর একেবারের শূন্য। ১৯৭৮ সালের নিজের প্রথম বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জন করে জিকোর ব্রাজিল। এরপর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে এসেই যাত্রা থেমে যায় জিকোর ব্রাজিলের।
৫. পাওলো মালদিনি, ইতালি
(১৯৮৮-২০০২), ১২৬ ম্যাচে ৭ গোল
পাওলো মালদিনি এসি মিলানের হয়ে ইতালিয়ান ঘরোয়া লিগের শিরোপা সিরি আ শিরোপা সাতবার এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা পাঁচবার জয় করেন। ক্লাবের হয়ে এই দুর্দান্ত সাফল্য দিয়ে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন এই ইতালিয়ান তারকা। তবে জাতীয় দলের হয়ে সাফল্যের মালা একেবারেই শূন্য তার। দেশের জার্সিতে কোনো মেজর শিরোপা জয় করতে পারেননি তিনি।
ইতালির জার্সিতে পাওলো মালদিনির সাফল্য বলতে ১৯৯৪ বিশ্বকাপে রানার্স-আপ হওয়া এবং ছয় বছর পর ইউরো কাপে রানার্স-আপ হওয়া। এছাড়া ১৯৯০ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান এবং ১৯৮৮ ইউরো কাপে সেমিফাইনাল খেলাটাই দেশের জার্সিতে মালদিনির পাওয়া। মজার ব্যাপার হলো- ২০০২ সালে জাতীয় দলের জার্সি তুলে রাখার চার বছর পর ইতালি বিশ্বকাপের শিরোপা জয় করে।
৬. রবার্তো ব্যাগিও, ইতালি (১৯৮৮-২০০৪)
৫৬ ম্যাচে ২৭ গোল
ইতালিয়ান ফুটবলের আরেক কিংবদন্তী তারকা রবার্তো ব্যাগিও। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে ইতালিকে ফাইনালে তুলেন রবার্তো ব্যাগিও। গ্রুপ পর্বে সর্বোচ্চ গোল করা রবার্তো ব্যাগিও ফাইনালে এসে হিরো থেকে ভিলেনে পরিণত হন। ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য ড্রয়ে শেষ হওয়ার পর টাইব্রেকারে গড়ায় খেলা। ইতালির হয়ে সর্বশেষ স্পট-কিকটি নিতে এসে ব্যাগিও মিস করে বসেন। ফলে ব্রাজিলিয়ানরা এক দিকে বিশ্বজয়ের আনন্দে মেতে উঠে, অন্যদিকে রাজ্যের হতাশা ঘিরে ধরে ইতালিয়ানদের।
ইতালির জার্সিতে কখনো ইউরো কাপে খেলা হয়নি রবার্তো ব্যাগিওর। ২০০৪ সালে দেশের জার্সিতে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেন তিনি। দুই বছর পর ফ্রান্সকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে ইতালি।
৭. মাইকেল বালাক, জার্মানি
(১৯৯৯-২০১০), ৯৮ ম্যাচে ৪২ গোল
২০০২ সালে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দিয়ে জার্মানিকে ফাইনালে তোলেন মাইকেল বালাক। তবে সেমিফাইনালে বালাকের গোলে জয় পেয়ে জার্মানরা ফাইনালে উঠলেও ম্যাচটিতে লাল কার্ড দেখে ফাইনালে ‘নির্বাসিত’ হন তিনি। বেঞ্চে বসেই তিনি ব্রাজিলের বিপক্ষে ফাইনালে অলিভার কানদের ২-০ গোলের পরাজয় দেখেন।
ছয় বছর পর অবশ্য ফের জাতীয় দলের হয়ে কিছু জেতার সুযোগ পেয়েছিলেন মাইকেল। ২০০৮ ইউরো কাপের তার নেতৃত্বেই জার্মানি ফাইনালে উঠে। তবে সেবার ফাইনালে স্পেনের সঙ্গে আর পেরে উঠেনি কাইজাররা।
বায়ার্ন মিউনিখ, বায়ার লেভারকুসেন ও চেলসির হয়ে অসংখ্য ট্রফি জিতলেও জাতীয় দলের হয়ে কোনো মেজর ট্রফি না জেতার আক্ষেপ নিয়ে মাইকেল বালাককে ফুটবল থেকে বিদায় নিতে হয়।
৮. ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, পর্তুগাল
(২০০৩-বর্তমান), ১২০ ম্যাচে ৫৫ গোল
আন্তর্জাতিক ফুটবলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো পথচলার দিন ধীরে ধীরে শেষ হয়ে আসছে। আসন্ন ২০১৬ ইউরো কাপ এবং ২০১৮ বিশ্বকাপের পর আর জাতীয় দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে খেলার সুযোগ হয়তো পাবেন না ৩০ বছর বয়সী রিয়াল মাদ্রিদের পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ফলে দেশের জার্সিতে প্রাপ্তির খাতায় কিছু যোগ করতে হলে রোনালদোকে এই দুটি সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।
২০০৪ ইউরো কাপে দেশের হয়ে ইউরো কাপ জয়ের দারূণ সুযোগ পেয়েছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে সেবার ফাইনালে পর্তুগালকে ‘স্তব্ধ’ করে শিরোপা জিতে নেয় গ্রিস। ১১ বছর আগে ১৯ বছর বয়সী তরুণ রোনালদোর শিশুসূলভ কান্না ফুটবলভক্তরা এখনো ভুলেননি। এছাড়া ২০০৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে চতুর্থ স্থান অর্জন করে সিআর সেভেনের পর্তুগাল।
লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো সময়ের অন্যতম দুই সেরা তারকা সেই ব্যাপারে কোনো সন্দেহ নেই। বিশ্বের সর্বকালের সেরা খেলোয়াড়দের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হলে সেখানেও অনুমিতভাবে ঢুকে যাবেন এই দুজন। তবে সর্বকালের সেরা হতে হলে যে দেশের হয়েও কিছু জিততে হয় সেটা অজানা নয় আর্জেন্টাইন ও পর্তুগিজ ‍সুপারস্টারের। রোনালদোর বয়স ৩০ চলছে, মেসিও ২৮ এ পা দিলেন। সময় থেমে নেয়। তারা পারবেন কী বিদায়ের আগে দেশের হয়ে কিছু জিততে?