স্পোর্টস ডেস্ক : দারুন এক প্রতিশোধ নিল যুক্তরাষ্ট্র। জাপানকে রীতিমত গোলবন্যায় ভাসিয়ে মহিলা বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা। কার্লি লয়েডের অসাধারণ হ্যাটট্রিকে জয়ের ব্যবধান ৫-২। চার বছর আগে জার্মানিতে এই যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়েই প্রথমবারেরমত মহিলা বিশ্বকাপের শিরোপা জিতেছিল ব্লু সামুরাইরা।
সম্ভবত জীবনের সেরা রাতটিই উপভোগ করলেন কার্লি লয়েড। মহিলা ফুটবলে অন্যতম পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র। অথচ, ১৯৯৯ সালের পর গত ১৬ বছরে কোন শিরোপা নেই। আক্ষেপটা আরও বেড়েছিল গত বিশ্বকাপে। পুঁচকে জাপানকে কেউ যখন গোনায় ধরে না, সেই জাপানই যুক্তরাষ্ট্রকে হারিয়ে দিয়েছিল ২০১১ বিশ্বকাপের ফাইনালে।
চার বছর পর এসে মধুর প্রতিশোধ নিলো কার্লি লয়েডের অসাধারণ হ্যাটট্রিকে ভর করে সেই জাপানকেই হারিয়ে। ভ্যানকুভারের বিসি প্লেস স্টেডিয়ামে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস-প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। সঙ্গে প্রায় ৫৪ হাজার দর্শকের গগনবিদারি চিৎকারের মধ্যে শিরোপা উদযাপন করলো মার্কিনি মেয়েরা। বিশেষ করে, মহিলা বিশ্বকাপের ফাইনালে এই প্রথমবারেরমত হ্যাটট্রিক করা কার্লি লয়েডই ছিলেন সেই উদ্যাপনের কেন্দ্রবিন্দু।
ম্যাচের প্রথম ১৬ মিনিটেই মূলত জাপানকে ম্যাচ থেকে বের করে দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মেয়েরা। এর মধ্যেই হ্যাটট্রিক পূরণ করে ফেলেন কার্লি লয়েড। তার হ্যাটট্রিকে ১৬ মিনিটেই ৪-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ১৪ মিনিটে একটি গোল করেন, লরেন হলিডে। এছাড়া ৫৪ মিনিটে জাপানের পরাজয়ের কফিনে শেষ পেরেন ঠুকে দেন টোবিন হিথ। জাপানের পক্ষে একটি গোল করেন ইউকি ওজিমি। বাকি গোলটি আত্মঘাতি। জুলি জনস্টন নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন।
জয়ের পর মার্কিন ফুটবল দলের ৩৩ বছর বয়সী মিডফিল্ডার কার্লি লয়েড বলেন, ‘ক্যারিয়ারে নিশ্চিত এটা একটা দীর্ঘ ভ্রমণ। আমার বিশ্বাস, অনেক মানুষেরই আস্থা ছিল আমার ওপর। প্রথম দিন থেকেই আমি ছিলাম খুব আত্মবিশ্বাসী। আমার পুরো জীবনটাই উৎসর্গ করে দিয়েছি এর পেছনে। অন্য কোন কিছুই এই স্থান দখল করতে পারে না।’
শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই অসাধারণ খেলেছেন লয়েড। এ কারণে তার হাতেই উঠেছে টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার, গোল্ডেন বল। ফাইনালে তো খেলার শুরুর পর ১৩৫ সেকেন্ডের ব্যবধানে দুটি গোল করলেন তিনি।
এর আগে কোনও ফাইনালেই সাতটি গোল হয়নি। এ নিয়ে তৃতীয়বার মহিলা বিশ্বকাপে জয় এল আমেরিকার। ১৯৯৯-এর পরে আবার জয়ী হল আমেরিকা। তবে এ দিনের ম্যাচে প্রথম থেকেই আমেরিকার মেয়েরা মাঠের দখল নিয়ে নেন। লয়েড এবং জার্মানি-র সেলিয়া সাসিস যৌথ ভাবে এ বারের বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা।

