ময়মনসিংহ প্রতিনিধি : ঈদে নতুন পোশাক পরতে পারবো। আর ছেঁড়া কাপড় পরে নামাজ পড়তে যেতে হবে না। আজ আমাদের খুব খুশির দিন। আপনাদের সকলের ভালো হোক।- কথাগুলো স্থানীয় ভাষায় বলছিল পথশিশু রফিক, কালামসহ অনেকেই।
সামনেই ঈদ। সবাই নতুন জামাকাপড় পড়ে নামাজ পড়তে যাবে। অথচ অসহায়, গরীব পথশিশুদের পুরাতন ছেঁড়া জাপা পরেই যেতে হয় নামাজ পড়তে। নতুন পোশাকে শিশুরা যাতে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে এজন্য বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থীরা উদ্যোগ নিয়েছে। এ উদ্যোগের নাম দেয়া হয়েছে বন্ধন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায় দরিদ্র পথশিশুদের মাঝে এ পোশাক বিতরণ করে তারা। শনিবার বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে পোশাক বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কৃষিতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থীরাসহ অন্যরা।
কৃষি অনুষদের গ্রুপ ৮ এর শিক্ষার্থী শফিক, নাহিদ, মাসুম প্রথম উদ্যোগ নেয় সমাজের জন্য কিছু করার। ক্ষুদ্র পরিসর থেকে শুরু করে তারা। তিন মাস আগে করা পরিকল্পনা থেকেই কাজ শুরু। প্রতি মাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে তাদের ফান্ড গড়তে থাকে শিক্ষার্থীরা। তবুও এ উদ্যোগের সঙ্গে একত্রিত হয়েছে কৃষি অনুষদের বিভিন্ন শিক্ষকরা। ফান্ড খুব বেশি বড় নয়, তবুও অর্থ জমা রাখার জন্য খুবই উৎসাহিত হয় হাসনাহেনা ও সাথী। তাদের অনুভূতি এরকম যেন বাংলাদেশ ব্যাংকের চাবি এখন তাদের কাছে।
এরই মধ্যে ১০ রোজা পার হয়ে ঈদের আমেজ শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দেয়া টাকা দিয়ে কিছু ভালো কাজ করার পরিকল্পনা করতে থাকলো। একটি পরিকল্পনা এলো পথশিশুদের মুখে সামান্য হাসি ফুটানোর জন্য তাদের মাঝ বস্ত্র বিতরণ করার। কথা মতোই কাজ শুরু হয়ে গেল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের গ্রাম, পার্শ্ববর্তী শেষমোড় থেকে নাম সংগ্রহ করতে গেল মেহেদী, আকাশ, সাহেদ, শিমুল, খাদেমুল ও জনি। নাম সংগ্রহ করার সময় দেখতে পেলো পথ শিশুদের সংখ্যা অনেক। এতো শিশুর দুঃখ লাঘব করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। নীরবে নিভৃতে শিক্ষার্থীদের মনেও কষ্টের সঞ্চার হয়।
পরবর্তীতে অনেক শিশুর মধ্যে থেকে কিছু শিশুকে বাছাই করে তারা। তারপর একটি দিন ঠিক করে শিশুদের মাঝে পোশাক বিতরণের। তাদের দুঃখের অংশীদারি হওয়ার। নিশা, সাদিয়া, ইসরাফিল, নিশি, সুবর্ণা, ঋতু, আফসানা, আঁখি, রেজোয়ানা যেন বেশি উৎসাহিত এ অনুষ্ঠানকে ঘিরে। এ উদ্যোগকে আরো সফল করতে শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. রমিজ উদ্দিন। তিনি এ উদ্যোগের সঙ্গে সামিল থেকে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নতুন পোশাক বিতরণ করে।
এ ধরণের অনুষ্ঠান করতে পেরে শফিক ও মাসুম খুব খুশি। এমন প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, অসহায় পথশিশুদের মুখে সামান্য হাসি ফোটানোই আমাদের লক্ষ্য। আমাদের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই এগিয়ে এলে পথশিশুদের মুখে হাসি ফোটানো সম্ভব। ভবিষ্যতে আমাদের এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা আমাদের সবার প্রাক্তন স্কুলগুলোতে ছড়িয়ে দিবে।

