স্পোর্টস ডেস্ক : টি২০’র ভয়ঙ্কর সব ব্যাটসম্যানে ঠাসা দক্ষিণ আফ্রিকা দল। এই দলটির বিপক্ষে বাংলাদেশ কেমন করে এটাই ছিল সবচেয়ে বেশি শঙ্কার। কিন্তু সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিলেন বাংলাদেশের বোলাররা। বিশেষ করে স্পিনাররা। চার স্পিনার নিয়ে খেলতে নেমে বাজিমাত করলেন মাশরাফি। প্রোটিয়াদের সেই ভয়ঙ্কর ব্যাটিংলাইনআপই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জ দিয়েছে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৪৮ রানের। জয়ের জন্য ১৪৯ রান করতে হবে মাশরাফিদের।
আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকা টি২০ অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিস অনেকটা জোর দিয়েই বলেছিলেন, ‘উপমহাদেশের স্পিন নিয়ে আমরা এখন আর চিন্তিত নই।’ অপরদিকে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ব্যাটসম্যান এবি ডি ভিলিয়ার্স নিয়ে গবেষণার শেষ ছিল না বাংলাদেশ শিবিরে। কোচ হাথুরুসিংহে বলেছিলেণ, তার আউটের জন্য প্রার্থনা করতে পারি শুধু। অপরদিকে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এক বুক সাহস নিয়ে বলেছিলেন, ‘সেও তো মানুষ। তাকে আউট করার জন্য একটি ভালো বলই যথেষ্ট।’
সেই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টি২০ ম্যাচে স্পিন দিয়েই আক্রমণ শুরু করলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা এবং প্রথম ওভারেই একটি ভালো বলের ডেলিভারি দিয়ে দিলেন আরাফাত সানি। প্রথম ওভারের শেষ বলেই আরাফাত সানির অফস্ট্যাম্পের ওপর থাকা লেন্থ বল খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ক্যাচ তুলে দেন ডি ভিলিয়ার্স। ক্যাচটি তালুবন্দী করতে মোটেও কষ্ট করতে হলো না মাশরাফির।
দলীয় মাত্র ২রানেই গেল দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম উইকেট। দ্বিতীয় ওভারেও স্পিনার রাখলেন মাশরাফি। বল করালেন নাসির হোসেনকে দিয়ে। তবে ২টি ওভার চিরাচরিত চরিত্র নিয়েই খেলার চেষ্টা করেছিলেন কুইন্টন ডি কক আর ফ্যাফ ডু প্লেসিস। কিন্তু চতুর্থ ওভারের শেষ বলে এসে আবারও স্পিনে কুপোকাত প্রোটিয়ারা। এবার একেবারে ছকবাধা বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে উইকেট বিসর্জন দিলেন ওপেনার কুইন্টন ডি কক। ৩১ রানে পড়ল দ্বিতীয় উইকেট। ডি কক আউট হন ৮ বলে ১২ রান করে।
সৌভাগ্য ভালোই বলতে হবে প্রোটিয়াদের। মুস্তাফিজকে বোলিংয়ে আনার পর তার বল খেলতে হিমসিম খেতে হচ্ছিল প্রোটিয়াদের। তার বলে ওঠা উইকেটের পেছনে একটি ক্যাচ নিতে পারলেন না মুশফিক। আরেকটি বল জেপি ডুমিনির ব্যাটের কানায় লেগে স্ট্যাম্প ঘেঁষে বাইরে চলে যায়।
মুস্তাফিজকে দিয়ে এক ওভার করানোর পর আবারও নাসিরকে আক্রমণে নিয়ে আসেন মাশরাফি। এরপর তিনি নিজে আসেন বোলিং করতে। তবে ১২তম ওভারে এসে সাফল্যটা দেখিয়ে দিলেন আবারও আরাফাত সানি। ওভারের দ্বিতীয় বলেই সানির ফাঁদে পা দেন ডুমিনি। বলটি খেলতে প্রলুব্ধ করেন তিনি। ফলে একেবারে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দেন তিনি। অনেক দুর দৌড়ে এসে অসাধারণ ক্যাচ নেন নাসির হোসেন।
১৪তম ওভারের দ্বিতীয় বলে এলবিডব্লিউ ফাঁদে ফেলে ডেভিড মিলারকে আইট করেন সাকিব আল হাসান। তবে এই উইকেটের পর প্রোটিয়াদের আর কাউকে আউট করতে পারেনি মাশরাফিরা। অধিনায়ক ফ্যাফ ডু প্লেসিসই যা একটু বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ৬১ বল খেলে ৭৯ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। তার ইনিংসে কোন ছক্কা নেই, বাউন্ডারির মার ছিল ৮টি।
তার সঙ্গে উইকেটে থাকা রিলে রুশো করেন ২১ বলে ৩১ রান। ২টি বাউন্ডারির সঙ্গে ২টি ছক্কার মারও ছিল তার ব্যাটে। শেষ পর্যন্ত ৪ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়াদের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৮ রান। মুস্তাফিজুর রহমান ৪ ওভার বল করে থাকেন উইকেটশূন্য। ২ উইকেট নেন আরাফাত সানি। ১টি করে নেন নাসির এবং সাকিব আল হাসান।

