বিনোদন ডেস্ক : সম্প্রতি মডেল ও অভিনেত্রী স্পর্শিয়াকে নিয়ে অন্তর্জালে হয়ে গেল ব্যাপক তুলকালাম কাণ্ড। স্পর্শিয়া নামের একটি ‘ফেক’ ফেসবুক পেইজ থেকে তার একটি খোলা পিঠের ছবি প্রকাশ করা হয়। আর তাতেই বাংলাদেশের বেশীর ভাগ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী স্পর্শিয়ার প্রতি অন্তর্জালে চড়াও হন। যদিও স্পর্শিয়া অস্বীকার করেননি যে, ফেক পেইজ থেকে আপ দেয়া ছবিটি তার নয়। বরং তিনি বলেছেন খোলা পিঠের ছবিটি তারই, কিন্তু ছবিটিকে ন্যুড নয়।
জানা গেছে, মডেল ও অভিনেত্রী স্পর্শিয়ার খোলা পিঠের ছবিটি প্রথমে ‘টি জেড’ স্টোর তাদের পেইজে আপ করেন, কিন্তু ভাল না আসায় স্পর্শিয়ার অনুরোধেই সেখান থেকে সরিয়ে ফেলা হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অন্তত মাস খানেক পর সম্প্রতি সেই খোলা পিঠের ছবিটিই তার নমে চালানো একটি ‘ফেইক’ একাউন্ট থেকে আপ দেয়া হয়, আর তাতেই ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েন স্পর্শিয়া। এমনকি বিষয়টি সংবাদ মাধ্যমে সমানভাবে আলোচিত হয়।
ক’দিন ধরে সংবাদ মাধ্যমে স্পর্শিয়ার বিষয়টি আলোচিত হয়ে আসলেও নীরব ছিলেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী ও মডেল তারকা। তবে অবস্থা বেগতিক দেখে অবশেষে এই বিষয়ে মুখ খুললেন তিনি। নিজের ফেসবুক একাউন্ট থেকে ‘খোলা পিঠের ছবি’ বিষয়ে স্পর্শিয়া লিখেন,
‘‘আমি চাইলেই বলতে পারি, এটা আমি না। আমার চেহারা কি বুঝা যাচ্ছে? না, কিন্তু এটা আমি। কিন্তু ‘নুড’(নগ্ন) না। আমি নুড না, সেটা আমি জানি, কিন্তু আপনাদের দেখে মনে হতে পারে যে আমি নুড। পিঠে কাপড় নাই। ছবিটা দৃষ্টিকটু আসার কারণে আপ দেওয়ার পরের দিন টিজেড’স স্টোরকে অনুরোধ করেছিলাম নামাতে। তারা প্রোফাইল পিক থেকে নামালেও, কোন এক অ্যালবামে থেকে যায়। এটা আরো এক মাস আগে, এরপর আজকে কেন এত কথা? আমার নামের পেইজ ওটা, আমার না। আমি কোন পেইজই চালাই না। আমার অন্য কোন অ্যাকাউন্টও নেই। একটা পেইজ আমার এক ফ্যান বানিয়ে আমাকে অ্যাডমিন বানাইছিলো, যেটা হচ্ছে এটা…. https://www.facebook.com/Orchita.Sporshia?ref=ts&fref=ts । আমি কখনও ঢুকি না পেইজে। আর এটা যেটা https://www.facebook.com/Sporshia.BD?ref=ts&fref=ts ।
এটার অ্যাডমিনকে কন্টাক্ট করার চেষ্টায় আমি। আপনাদের বলতে চাই, আমি এবং অনেকেই ব্লাউজ পড়ে পিঠ খোলা না রাখলেও, ব্লাউজ এমন থাকে যে পুরো পিঠটাই দেখা যায়। কিন্তু ওটা ঠিক আছে। আরো অনেক রকম পোশাক পড়ে অনেকেই পিঠ খোলা রাখলেও ঠিক আছে। কিন্তু এটাতে শুধু চেইন ছাড়া, পোশাক দেখা যাচ্ছে না দেখে এটা নিয়ে এত বাজে কথা? আমি একমত যে এটা কোন ভাল ছবি না। দৃষ্টিকটু, কিন্তু এটা কেন নামানো হচ্ছে না? অ্যাডমিনকে বলছি এই পেইজের। এক মাস পর কেন এটা আপ করা হলো, যদি করারই থাকতো? আর জনপ্রিয়তার জন্য বা স্টার হওয়ার জন্য আমার এটা পাবলিসিটি স্ট্যান্ট? আপনারা অনেক আগেই আমাকে জনপ্রিয়তা দিয়েছেন, স্টার বানিয়েছেন, এখন কি এইসব আমার আসলেই দরকার? না তো, তাহলে কেন এমন মন্তব্য? হ্যাঁ, আমি খুব ঢাকা কাপড় এমনেও পরি না। কিন্তু এমন কাপড়ও পরি না যেটা আমি ক্যারি করতে পারি না, যেটা দেখতে বাজে লাগে। অ্যান্ড দেয়ার ইজ অ্যা ফাইন ডিফারেন্স বিটুইন বিং সেক্সি অ্যান্ড বিং ভালগার। ফুল স্লিভ কাপড় পড়েও ভালগার লাগা সম্ভব। হ্যাঁ, এই ছবিটা ভালগার এসেছে। যার কারণেই ছবিটা নামিয়ে ফেলা হয়েছিল। আজকে এটা আমার নামের পেজ থেকে আপলোড করা কেন জনাব/জনাবা অ্যাডমিন?
অ্যান্ড ডিয়ার জার্নালিস্ট ভাইয়ারা, খ্যাংকস অ্যা লট ফর কলিং মি অ্যান্ড লেটিং মি নো অ্যাবাউট দিস। অ্যান্ড অলসো থ্যাংকস ফর সাপোর্টিং মি বাই নোয়িং দ্য হোল ফ্যাক্ট। অ্যান্ড ডিয়ার ফ্যানস অ্যান্ড ফলোয়ারস, অ্যান্ড ইভেন হেইর্টাস, নায়লা নাঈম যখন বিকিনি পড়ে, আমি হিজাব পড়ে ছবি দেই না; যে এখন উনি হিজাব পড়লে, আমাকে বিকিনি পরতে হবে! এটা রমজান হোক আর না হোক, এই ছবিটা আমি স্পর্শিয়া কখনই আপ দেইনি। তোলাটা হয়তো উচিত হয়নি সেটা বলবো না। কজ আই নো, হোয়াট আই ওয়াজ ডোয়িং অ্যান্ড ওয়ারিং। আই হোপ ইউ পিপল উইল আন্ডারস্ট্যান্ড মি। থ্যাংকস।

