ঢাকাFriday , 3 July 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

একাদশে ভর্তিতে চুয়াডাঙ্গায় নীরববাণিজ্য

Link Copied!

SSCচুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি : চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজসহ জেলার কলেজগুলোতে একাদশ শ্রেণীতে মনগড়া ভর্তি ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ভর্তির জন্য মন্ত্রণালয় নির্ধারিত ফির চেয়ে নামে-বেনামে বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে কলেজগুলোতে। অনুসন্ধানে এমনই তথ্য পাওয়া গেছে।
ভর্তি ফি নির্ধারণ করে নীতিমালা জারি করলেও চুয়াডাঙ্গার কলেজগুলো মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের কোনো তোয়াক্কাই করছে না। এতে সন্তানকে ভর্তি করাতে গিয়ে বেকায়দায় পড়ছেন অভিভাবকরা। এর ফলে মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি নিয়ে বিপাকে পড়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২৮ মে থেকে সারাদেশে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ভর্তি আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়। গত ১২ জুন মোবাইল ফোনের এসএমএসের মাধ্যমে ভর্তির আবেদনপত্র গ্রহণ করে কলেজগুলো। ২৮ জুন ভর্তির জন্য মনোনীত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি ও টাকা জমার সময় চলে গেছে গত ৩০ জুন। পহেলা জুলাই থেকে একাদশ শ্রেণীর ক্লাস শুরু হবার কথা। আর ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভর্তির শেষ দিন ২ জুলাই।
অভিযোগ পাওয়া গেছে, যেসব শিক্ষার্থী ফরম তুলছে তাদের কলেজভেদে দুশ থেকে ৫শ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি দিতে হচ্ছে। তাও আবার রসিদ ছাড়া। গলাকাটা ফি আর নীরব চাঁদাবাজির কবলে পড়ে নাভিশ্বাস উঠেছে অভিভাবক-শিক্ষার্থীদের। আর এ কাজে জড়িত রয়েছেন খোদ আদায়কারীরা। বাড়তি টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে ‘বখশিশ দিয়ে যাও’। তবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি টাকা আদায়ের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে দাবি করলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান।
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজে বাড়তি টাকা আদায়ের পাশাপাশি নির্ধারিত পয়েন্টের চেয়ে কম পয়েন্টপ্রাপ্ত ছাত্র-ছাত্রীদেরও ভর্তির সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে বলে জানায় একাধিক সূত্র। কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে আসন রয়েছে ২০০টি, ভর্তি হতে নূন্যতম যোগ্যতা এসএসসিতে ৪ দশমিক ৭২ পয়েন্ট, মানবিক বিভাগে ৩৫০ আসনে ভর্তি হতে গেলে শিক্ষার্থীর যোগ্যতা ধরা হয়েছে ৪ দশমিক ২২ পয়েন্ট এবং বাণিজ্য বিভাগের ৩০০ আসনের জন্য চাওয়া হয়েছে ৩ দশমিক ৬৭ পয়েন্টের যোগ্যতা। অথচ বিভিন্ন ধরণের তদবিরে এসএসসিতে অনেক কম পয়েন্ট পেয়ে ভর্তি হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রী।
অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, কোনো ধরণের তদবির গ্রহণ করা হচ্ছে না। তবে বিভিন্ন কোটায় কয়েকজন ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তির জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে দুহাজার টাকা, মানবিক, বাণিজ্য বিভাগের জন্য এক হাজার ৯শ ৯০ টাকা। নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হলেও আদায় করা হচ্ছে ২৩০০ থেকে ২৫শ টাকা। এমন অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। এ চিত্র শুধু চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের নয়, জেলার প্রায় সব সরকারি ও আংশিক এমপিওভূক্ত কলেজগুলোর।
একাদশ শ্রেণীর ভর্তিতে প্রথমবারের মতো ‘স্মার্ট অ্যাডমিশন সিস্টেম’ নিয়ে দীর্ঘ চারদিনে নজিরবিহীন হয়রানির পর তিনদিন ধরে সারাদেশের কলেজগুলোতে চলছে ভর্তি কার্যক্রম। ভর্তি প্রক্রিয়ার শুরুতেই বেসরকারি কলেজগুলোতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের কবলে পড়েছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার অভিভাবকরা। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থী ভর্তিতে ৯ হাজার টাকার বেশি চার্জ নির্ধারণ করতে পারবে না। আংশিক এমপিওভূক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য বাংলামাধ্যমে ৯ হাজার এবং ইংরেজি মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এ ছাড়া মফস্বল বা পৌর (উপজেলা) এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সেশন চার্জসহ সর্বসাকুল্যে ১ হাজার টাকা, পৌর (জেলা সদর) এলাকায় দুহাজার টাকা এবং ঢাকা ছাড়া অন্য মেট্রোপলিটন এলাকায় তিন হাজার টাকার বেশি ফি নিতে পারবে না। অতিরিক্ত ফি নিলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে নীতিমালায় বলা হয়েছে। অথচ চুয়াডাঙ্গা জেলা জুড়ে চলা ভর্তি নিয়ে অনিয়ম গত দু’দিন ধরে যেন দেখার কেউ নেই। অবিলম্বে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী।